You are reading tafsir of 4 ayahs: 71:21 to 71:24.
২১-২৪ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তা'আলা হযরত নূহ (আঃ) সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, তিনি তাঁর অতীতের অভিযোগের সাথে সাথেই আল্লাহ তা'আলার সামনে স্বীয় সম্প্রদায়ের আরেকটি আচরণের কথাও তুলে ধরে বলেছিলেনঃ আমার আহ্বান যেন তাদের কানেও না পৌঁছে এ জন্যে তারা তাদের কানে অঙ্গুলি দিয়েছিল, অথচ এটা ছিল তাদের জন্যে খুবই উপকারী। তারা আমার অনুসরণ না করে অনুসরণ করেছে এমন লোকের যার ধন-সম্পদ ও সন্তান সন্ততি তার ক্ষতি ব্যতীত আর কিছুই বৃদ্ধি করেনি। কেননা, এই ধন-মাল ও সন্তান সন্ততির গর্বে গর্বিত হয়ে তারা আল্লাহকেও ভুলে বসেছিল এবং ধরাকে সরা জ্ঞান করেছিল। (আরবি) এর অন্য পঠন (আরবি) রয়েছে।কাফিরদের মধ্যে যারা নেতৃস্থানীয় ও সম্পদশালী ছিল তারা ভীষণ ষড়যন্ত্র করেছিল। (আরবি) ও (আরবি) দুটোই (আরবি)-এর অর্থে ব্যবহৃত অর্থাৎ খুব বড়। কিয়ামতের দিনও তারা এ কথাই বলবেঃ (আরবি)অর্থাৎ “বরং দিন রাত তোমাদের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রমূলক কাজ ছিল এই যে, তোমরা আমাদেরকে আল্লাহর সাথে কুফরী করার ও তাঁর সাথে শরীক স্থাপন করার নির্দেশ দিতে।” (৩৪:৩৩) তাদের বড়রা ছোটদেরকে বলেঃ তোমরা তোমাদের যে দেব-দেবীগুলোর পূজা করতে রয়েছে ওগুলোকে কখনও পরিত্যাগ করো না।সহীহ বুখারীতে রয়েছে যে, হযরত নূহ (আঃ)-এর যুগের প্রতিমাগুলোকে আরবের কাফিররা গ্রহণ করে। দুমাতুল জানদালে কালব গোত্র ওয়াদ প্রতিমার, পূজা করতো। হুয়েল গোত্র পূজা করতো সূওয়া নামক প্রতিমার। মুরাদ গোত্র এবং সাবা শহরের নিকটবর্তী জারফ নামক স্থানের অধিবাসী বানু গাতীফ গোত্র ইয়াগ্স নামক প্রতিমার উপাসনা করতো। হামাদান গোত্র ইয়াউক নামক প্রতিমার পূজারী ছিল এবং যীকিলার গোত্র হুমায়ের নাসর নামক প্রতিমার পূজা করতো। প্রকৃতপক্ষে এগুলো হযরত নূহ (আঃ)-এর কওমের সৎ লোকদের নাম ছিল। তাদের মৃত্যুর পর শয়তান ঐ যুগের লোকদের মনে এই খেয়াল জাগিয়ে তুললো যে, ঐ সৎ লোকদের উপাসনালয়ে তাদের স্মারক হিসেবে কোন নিদর্শন স্থাপন করা উচিত। তাই তারা তথায় কয়েকটি নিশান স্থাপন করে ও প্রত্যেকের নামে নামে ওগুলোকে প্রসিদ্ধ করে। তারা জীবিত থাকা পর্যন্ত ঐ সৎলোকদের পূজা হয়নি বটে, কিন্তু তাদের মৃত্যুর পর ও ইলম উঠে যাওয়ার পর যে লোকগুলোর আগমন ঘটে তারা অজ্ঞতা বশতঃ ঐ জায়গাগুলোর ও ঐ নামগুলোর নিদর্শন সমূহের পূজা শুরু করে দেয়। হযরত ইকরামা (রঃ), হযরত যহহাক (রঃ), হযরত কাতাদা (রঃ) এবং হযরত ইবনে ইসহাকও (রঃ) একথাই বলেন।হযরত মুহাম্মাদ ইবনে কায়েস (রঃ) বলেন যে, ঐ লোকগুলো ছিলেন আল্লাহর ইবাদতকারী, দ্বীনদার, আল্লাহওয়ালা ও সৎ। তাঁরা হযরত আদম (আঃ) ও হযরত নূহ (আঃ)-এর ছিলেন সত্য অনুসারী, যাদের অনুসরণ অন্য লোকেরাও করতো। যখন তাঁরা মারা গেলেন তখন তাদের অনুসারীরা পরস্পর বলাবলি করলোঃ যদি আমরা এঁদের প্রতিমূর্তি তৈরী করে নিই তবে ইবাদতে আমাদের ভালভাবে মন বসবে এবং এদের প্রতিমূর্তি দেখে আমাদের ইবাদতের আগ্রহ বদ্ধি পাবে। সুতরাং তারা তাই করলো। অতঃপর যখন এ লোকগুলোও মারা গেল এবং তাদের বংশধরদের আগমন ঘটলো তখন শয়তান তাদের কাছে এসে বললোঃ “তোমাদের পূর্বপুরুষরা তো ঐ বুযুর্গ ব্যক্তির পূজা করতো এবং তাদের কাছে বৃষ্টি ইত্যাদির জন্যে প্রার্থনা করতো। সুতরাং তোমরাও তাই করো!' তারা তখন নিয়মিতভাবে ঐ মহান ব্যক্তিদের প্রতিমূর্তিগুলোর পূজা শুরু করে দিলো।হাফিয ইবনে আসাকির (রঃ) হযরত শীষ (আঃ)-এর ঘটনার বর্ণনা করেছেন যে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ হযরত আদম (আঃ)-এর চল্লিশটি সন্তান ছিল। বিশটি ছিল পুত্র এবং বিশটি ছিল কন্যা। তাদের মধ্যে যারা বেশী বয়স পেয়েছিল তারা হলো হাবীল, কাবীল, সালিহ এবং আব্দুর রহমান, যাঁর প্রথম নাম ছিল আবদুর হারিস এবং ওয়াদ। তাঁকে শীষ ও হিব্বাতুল্লাহও বলা হতো। সমস্ত ভাই তাঁকেই নেতৃত্ব দান করেছিল। সুওয়াআ, ইয়াগ্স, ইয়াউক এবং নাসার এই চারজন ছিলেন তাঁরই পুত্র।হযরত উরওয়া ইবনে যুবায়ের (রঃ) বলেন যে, হযরত আদম (আঃ)-এর রোগের সময় তার পাঁচটি ছেলে ছিলেন। তাঁরা হলেন ওয়াদ, ইয়াউক, ইয়াগৃস, সূওয়াআ এবং নাসর। এদের মধ্যে ওয়াদ ছিলেন সর্বাপেক্ষা বড় ও সবচেয়ে সৎ।মসনাদে ইবনে আবী হাতিমে বর্ণিত আছে যে, আবূ জাফর (রঃ) নামায পড়ছিলেন এবং জনগণ ইয়াযীদ ইবনে মুহাল্লিবের সম্পর্কে আলোচনা করে। নামায শেষ করার পর তিনি বলেনঃ তোমরা ইয়াযীদ ইবনে মুহাল্লাব সম্পর্কে আলোচনা করছো? সে এমন এক ব্যক্তি, যাকে এমন জায়গায় হত্যা করা হয় যেখানে সর্বপ্রথম গায়রুল্লাহর ইবাদত করা হয়। অতঃপর একজন মুসলমান সম্পর্কে আলোচনা করা হয় যিনি তাঁর কওমের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। তিনি খুব জ্ঞানী লোক ছিলেন। যখন তিনি মারা গেলেন তখন জনগণ তাঁর কবরের চারদিকে বসে পড়লো এবং তাদের মধ্যে কান্নার রোল উঠলো। তাঁর মৃত্যু তাদের কাছে বড়ই বিপদের কারণ হয়ে গেল। অভিশপ্ত শয়তান তাদের এই অবস্থা দেখে মানুষের রূপ ধরে তাদের নিকট আগমন করে এবং তাদেরকে বলেঃ “এই বুযুর্গ ব্যক্তির কোন স্মারক স্থাপন করছো না কেন? যা সদা-সর্বদা তোমাদের সামনে থাকবে এবং তোমরা তাঁকে ভুলবে না?" সবাই এই প্রস্তাব পছন্দ করলো। অতঃপর শয়তান ঐ বুযুর্গ লোকটির প্রতিমূর্তি তৈরী করে তাদের সামনে দাঁড় করিয়ে দিলো। ঐ প্রতিমূর্তি দেখে দেখে ঐ লোকগুলো তাকে স্মরণ করতে থাকলো। যখন তারা তাতে মগ্ন হয়ে পড়লো তখন শয়তান তাদেরকে বললোঃ “তোমাদের সকলকেই এখানে আসতে হচ্ছে। এটা তোমাদের জন্যে বড়ই অসুবিধাজনক। কাজেই এটা খুব ভাল হবে যে, আমি তোমাদের জন্যে তার অনেকগুলো মূর্তি তৈরী করে দিচ্ছি। তোমরা ওগুলো নিয়ে গিয়ে নিজ নিজ বাড়ীতে রেখে দিবে।” ঐ লোকগুলো এতেও সম্মত হয়ে গেল এবং ওটা কার্যেও পরিণত হলো। এ পর্যন্ত ঐ মূর্তিগুলো শুধু স্মারক হিসেবেই ছিল। কিন্তু ঐ লোকদের উত্তরসূরীরা সরাসরিভাবে ঐ মূর্তিগুলোর পূজা শুরু করে দিলো। প্রকৃত ব্যাপারটি তারা সম্পূর্ণরূপে বিস্মৃত হয়ে গেল এবং নিজেদের পূর্বপুরুষদেরকেও এর পূজারী মনে করে নিজেরাও এর পূজায় লিপ্ত হয়ে পড়লো। ঐ বুযুর্গ ব্যক্তির নাম ছিল ওয়াদ এবং ওটাই ছিল প্রথম প্রতিমূর্তি আল্লাহ ছাড়া যার পূজা করা হয়েছিল।তারা অনেককে বিভ্রান্ত করেছে। ঐ সময় হতে নিয়ে আজ পর্যন্ত আরব ও অনারবে আল্লাহকে ছাড়া অন্যদের পূজা হতে থাকে এবং মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। হযরত (ইবরাহীম) খলীল (আঃ) স্বীয় প্রার্থনায় বলেছিলেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এবং আমার সন্তানদেরকে মূর্তিপূজা হতে রক্ষা করুন! হে আমার প্রতিপালক! তারা অধিকাংশ লোককে পথভ্রষ্ট করেছে।”এরপর হযরত নূহ (আঃ) স্বীয় কওমের উপর বদ দু'আ করেন। কেননা তাদের ঔদ্ধত্য, হঠকারিতা এবং শত্রুতা চরমে পৌঁছেছিল। তিনি বদ দু'আয় বলেনঃ হে আমার প্রতিপালক! আপনি যালিমদের বিভ্রান্তি ব্যতীত আর কিছুই বৃদ্ধি করবেন না। যেমন হযরত মূসা (আঃ) ফিরাউন ও তার লোকদের উপর বদ দু'আ করে বলেছিলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের মাল-ধনকে আপনি ধ্বংস করে দিন ও তাদের অন্তরকে কঠোর করে দিন, সুতরাং তারা যেন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ করা পর্যন্ত ঈমান আনয়ন না করে।”(১০:৮৮)অতঃপর হযরত নূহ (আঃ)-এর প্রার্থনা কবূল হয়ে যায় এবং তাঁর কওমকে পানিতে নিমজ্জিত করা হয় এবং তাদেরকে দাখিল করা হয় অগ্নিতে, অতঃপর তারা কাউকেও আল্লাহর মুকাবিলায় সাহায্যকারী পায়নি। পরবর্তীতে আল্লাহ তা'আলা একথাই বলেনঃ
QUL supports exporting tafsir content in both JSON and SQLite formats.
Tafsir text may include <html> tags for formatting such as <b>,
<i>, etc.
Note:
Tafsir content may span multiple ayahs. QUL exports both the tafsir text and the ayahs it applies to.
Example JSON Format:
{
"2:3": {
"text": "tafisr text.",
"ayah_keys": ["2:3", "2:4"]
},
"2:4": "2:3"
}
"ayah_key" in "surah:ayah", e.g. "2:3" means
3rd ayah of Surah Al-Baqarah.
text: the tafsir content (can include HTML)ayah_keys: an array of ayah keys this tafsir applies toayah_key where the tafsir text can be found.
ayah_key: the ayah for which this record applies.group_ayah_key: the ayah key that contains the main tafsir text (used for shared tafsir).
from_ayah / to_ayah: start and end ayah keys for convenience (optional).ayah_keys: comma-separated list of all ayah keys that this tafsir covers.text: tafsir text. If blank, use the text from the group_ayah_key.