You are reading tafsir of 11 ayahs: 100:1 to 100:11.
নামকরণ:
الْعٰدِيٰتِ হলো عادية এর বহুবচন। এর মূল ধাতু হলো عدو। যেমন غزو ধাতু হতে غازيات শব্দ থেকে এসেছে। মূল শব্দের و কে ى দ্বারা পরির্বতন করা হয়েছে। এর অর্থ : ঊর্ধ্বশ্বাসে ধাবমান অশ্ব বা ঘোড়া। সূরার প্রথম আয়াতে উল্লিখিত শব্দ থেকেই সূরার নামকরণ করা হয়েছে।
সূরায় মানুষের আল্লাহ তা‘আলার প্রতি অকৃতজ্ঞতা ও সে ধন-সম্পদের মায়ায় অন্ধ এবং আখিরাতে তার জবাবদিহিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সূরার সূচনাতেই আল্লাহ তা‘আলা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, সুদক্ষ ও মালিকের আনুগত্যশীল অশ্বের শপথ করেছেন যেসব অশ্ব দুঃসাহসিকতার সাথে শত্রুপক্ষের ওপর হামলা করে। এর দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা বুঝাতে চাচ্ছেন যে, অবলা চতুষ্পদ জন্তু সর্বদা মালিকের কথা মেনে চলে কিন্তু মানুষ আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশের প্রতি আনুগত্যশীল হয় না।
ضبح শব্দের অর্থ হলো : হাঁপানো, ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন : ঘোড়া যখন দৌড়ায় তখন যে আওয়াজ করে সে আওয়াজকে ضبح বলা হয়। (ইবনু কাসীর)
উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তা‘আলা সেই ঘোড়ার শপথ করেছেন যে ঘোড়া দৌড়ে গিয়ে শত্রুর ওপর আক্রমণ করে।
الْمُوْرِيٰتِ শব্দটির উৎপত্তি ايراء থেকে, অর্থ : অগ্নি প্রজ্জ্বলনকারী। قدح শব্দের অর্থ : চলাচল কালে হাঁটু বা গোড়ালির সংঘর্ষ হওয়া অথবা ক্ষুর দ্বারা আঘাত করা। অর্থ হলো : সে ঘোড়ার শপথ, যার ক্ষুরের ঘর্ষণে পাথর থেকে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বের হয়।
الْمُغِيْرٰتِ শব্দটি يغير-أغار থেকে এসেছে, অর্থ হলো : হামলা করা। صبح অর্থ : সকাল, প্রভাত। অর্থ হলো : সকালে আক্রমণকারী ঘোড়ার শপথ। ইসলামে বিধান হলো কোন বসতি বা দেশের মানুষকে সতর্ক করার পরেও ইসলামের বিরুদ্ধাচরণ করলে বা মুসলিমদের ওপর আক্রমণ করলে তাদের ওপর রাতে আক্রমণ করা যাবে না। বরং দেখতে হবে সেখানে ফজরের আযান হয় কিনা, আযান না হলে বিসমিল্লাহ বলে হামলা করবে। আরবরা সাধারণত সকালেই হামলা করত।
أَثَرْنَ শব্দটির মূল ক্রিয়া হলো : أثار। অর্থ হলো : উৎক্ষিপ্ত করা, অবশিষ্ট অংশ। نفع শব্দের অর্থ : ধূলোবালি। অর্থাৎ যখন দ্রুত গতিতে ঘোড়া ছুটে যায় অথবা হামলা করে তখন সে স্থান ধূলোবালিতে একাকার হয়ে যায়।
وسطن শব্দটি وسط থেকে নেয়া হয়েছে, যার অর্থ : মাঝে, মধ্যে। جَمْعًا একত্র করা এখানে উদ্দেশ্য সেনা দলের সমষ্টি। অর্থাৎ যে ঘোড়াসমূহ সৈন্যদলের মাঝে প্রবেশ করে হামলা করে।
لَكَنُوْدٌ পূর্বের আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা যে শপথ করেছেন এ আয়াত হতে তার জবাব শুরু। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা প্রাগুক্ত বিষয়গুলোর শপথ করে বলছেন : নিশ্চয়ই মানুষ তার প্রতিপালকের প্রতি অকৃতজ্ঞ। ফলে আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশের অবাধ্য হওয়াটাই যেন মানুষের স্বভাবে পরিণত হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন :
(إِنَّ الْإِنْسَانَ خُلِقَ هَلُوْعًا إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوْعًا وَّإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوْعًا)
“নিশ্চয়ই মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে অস্থিরমনারূপে; যখন তাকে বিপদ স্পর্শ করে তখন সে হয় হা-হুতাশকারী। আর যখন কল্যাণ তাকে স্পর্শ করে তখন সে হয় অতি কৃপণ; (সূরা মা‘আরিজ ৭০: ১৯-২১) অতএব আল্লাহ তা‘আলার প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়া এক বড় ধরণের গুনাহ। এ থেকে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।
(وَإِنَّه عَلٰي ذٰلِكَ لَشَهِيْدٌ)
অর্থাৎ মানুষ তার অকৃতজ্ঞতার ব্যাপারে নিজেই সাক্ষ্য দেয়। অনেকে এখানে إِنَّه দ্বারা আল্লাহ তা‘আলাকে বুঝিয়েছেন, কিন্তু প্রথমটাই সঠিক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(يَّوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيْهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ )
“যেদিন তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের চরণ তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে” (সূরা নূর ২৪: ২৪)
خَيْرِ দ্বারা ধন-সম্পদ উদ্দেশ্য। যেমন সূরা বাক্বারাতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(کُتِبَ عَلَیْکُمْ اِذَا حَضَرَ اَحَدَکُمُ الْمَوْتُ اِنْ تَرَکَ خَیْرَاﺊ اۨلْوَصِیَّةُ لِلْوَالِدَیْنِ وَالْاَقْرَبِیْنَ بِالْمَعْرُوْفِﺆ حَقًّا عَلَی الْمُتَّقِیْنَ)
“তোমাদের ওপর এ বিধান দেয়া হল যে, যখন তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হয় সে যদি কোনো ধন-সম্পত্তি রেখে যায় তাহলে সে যেন ইনসাফের ভিত্তিতে মাতা-পিতা ও আত্মীয়দের জন্য অসিয়ত করে যায়। মুত্তাক্বীদের জন্য এটা কর্তব্য।” (সূরা বাক্বারাহ ২: ১৮০)
মূলত এখানে মানুষের সম্পদের প্রতি এ আসক্তিকে নিন্দা জানানো হয়েছে।
(أَفَلَا يَعْلَمُ إِذَا بُعْثِرَ مَا فِي الْقُبُوْرِ)
অর্থাৎ মানুষ কি দৃঢ় বিশ্বাস করে যে, কবরে যা আছে তথা মানুষকে হিসাব-নিকাশের জন্য পুনরুত্থিত হতে হবে? বরং প্রত্যেক আত্মাকে পুনরুত্থিত হতে হবে। এতে কোন সংশয় নেই।
حُصِّلَ অর্থ হলো: অন্তরে যা কিছু গোপন আছে তা প্রকাশ করে দেয়া হবে। এখানে সবাইকে অন্তরের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে বিশেষ করে মুনাফিকদেরকে, কারণ তারা দুনিয়াতে মু’মিনদের মতই আচরণ প্রকাশ করে থাকে। ফলে প্রকৃত সত্য বা অবস্থা জানা যায় না। তাই আল্লাহ তা‘আলা মনের কথা প্রকাশ করে প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরবেন।
(إِنَّ رَبَّهُمْ بِهِمْ)
অর্থাৎ মানুষ প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে যা কিছু করে সব কিছু সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা অবগত। তিনি তাদের ভাল মন্দ কর্মের পুরোপুরি প্রতিদান প্রদান করবেন। সূরায় জিহাদ সম্পর্কে আলোচনা ও জিহাদের সরঞ্জামাদি প্রস্তুত করার প্রতিও উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. জিহাদ ও তার সরঞ্জামাদী তৈরি করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।
২. মানুষের চিরন্তন স্বভাব, তারা আল্লাহ তা‘আলার নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়।
৩. অধিকাংশ মানুষই পার্থিব সম্পদের প্রতি মোহিত।