Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Al-Qari'ah — Ayah 4

ٱلۡقَارِعَةُ ١ مَا ٱلۡقَارِعَةُ ٢ وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا ٱلۡقَارِعَةُ ٣ يَوۡمَ يَكُونُ ٱلنَّاسُ كَٱلۡفَرَاشِ ٱلۡمَبۡثُوثِ ٤ وَتَكُونُ ٱلۡجِبَالُ كَٱلۡعِهۡنِ ٱلۡمَنفُوشِ ٥ فَأَمَّا مَن ثَقُلَتۡ مَوَٰزِينُهُۥ ٦ فَهُوَ فِي عِيشَةٖ رَّاضِيَةٖ ٧ وَأَمَّا مَنۡ خَفَّتۡ مَوَٰزِينُهُۥ ٨ فَأُمُّهُۥ هَاوِيَةٞ ٩ وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا هِيَهۡ ١٠ نَارٌ حَامِيَةُۢ ١١

নামকরণ :

(اَلْقَارِعَةُ) আল কারি‘আহ কিয়ামতের অন্যতম একটি নাম। যেমন এর পূর্বে কিয়ামতের বিভিন্ন নাম উল্লেখ করা হয়েছে

الواقعة ، الساعة ، الطامة ، الحاقة

ইত্যাদি। সূরার প্রথম আয়াতে উল্লিখিত শব্দ থেকেই এ নামে সূরার নামকরণ করা হয়েছে।

اَلْقَارِعَةُ শব্দের অর্থ: করাঘাতকারী, ঠনঠনকারী ও মহাপ্রলয় ইত্যাদি। কিয়ামতকে এ নামে নামকরণ করার কারণ হলো: কিয়ামত মানুষের হৃদয়কে জাগ্রত করে তুলবে এবং আল্লাহ তা‘আলার দুশমনদেরকে আযাব সম্পর্কে অবহিত করবে। যেমন দরজায় করাঘাত করে গৃহবাসীকে সতর্ক করা হয়। সূরায় কিয়ামতের কঠিন অবস্থা বর্ণনার পাশাপাশি ভাল ও মন্দ আমল ওজন করে তদানুযায়ী প্রতিদান প্রদান করা হবে, সে সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে।

শব্দটি একাধিকবার উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো : এ সম্পর্কে গুরুত্ব প্রদান করা। কেননা কিয়ামতের দিন ভয়ংকর কম্পন ও প্রচণ্ড শব্দ প্রাণীজগতের কানে ও হৃদয়ে তীব্র আঘাত করবে ও ভয়ে হৃৎকম্পন শুরু হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

(وَيَوْمَ يُنْفَخُ فِي الصُّوْرِ فَفَزِعَ مَنْ فِي السَّمٰوٰتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ شَا۬ءَ اللّٰهُ ط وَكُلٌّ أَتَوْهُ دٰخِرِيْنَ)

“এবং সেদিন শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেওয়া হবে, সেদিন আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সকলেই ভীত-বিহ্বল হয়ে পড়বে, তবে আল্লাহ যাদেরকে চাইবেন তারা ব্যতীত এবং সকলেই তার নিকট আসবে বিনীত অবস্থায়।” (সূরা নামল ২৭: ৮৭)

الْفَرَاشِ বলতে ঐসব কীট-পতঙ্গকে বুঝানো হয়েছে যা আগুনের চারপাশে ছুটাছুটি করে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

(خُشَّعًا أَبْصَارُهُمْ يَخْرُجُوْنَ مِنَ الْأَجْدَاثِ كَأَنَّهُمْ جَرَادٌ مُّنْتَشِرٌ)

“অপমানে শঙ্কিত নয়নে সেদিন তারা কবরসমূহ হতে বের হবে বিক্ষিপ্ত পঙ্গপালের ন্যায়” (সূরা কামার ৫৪: ৭)

مَبْثُوْثِ অর্থ : বিক্ষিপ্ত, অর্থাৎ কিয়ামতের দিন মানুষ বিক্ষিপ্ত কীটপতঙ্গের ন্যায় ছুটাছুটি করতে থাকবে।

عِهْنِ এ সম্পর্কে সূরা হাক্কাতে আলোচনা করা হয়েছে।

(ثَقُلَتْ مَوَازِيْنُه)

অর্থাৎ যার নেকীর পাল্লা পাপের পাল্লার ওপর ভারী হবে তার জন্য থাকবে আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন। আর যার নেকীর পাল্লা পাপের পাল্লার তুলনায় হালকা হবে তার জন্য উত্তপ্ত আগুন বা জাহান্নাম যা হাবিয়াহ নামে পরিচিত। মানুষের আমল কিয়ামতের দিন ওজন করা হবেÑএটা সত্য। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

(‏وَالْوَزْنُ يَوْمَئِذِنِ الْحَقُّ ج فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِيْنُه۫ فَأُولٰ۬ئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ ‏ وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِيْنُه۫ فَأُولٰ۬ئِكَ الَّذِيْنَ خَسِرُوْآ أَنْفُسَهُمْ بِمَا كَانُوْا بِاٰيٰتِنَا يَظْلِمُوْنَ)

“সেদিন সঠিক ওজন করা হবে। যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই সফলকাম হবে। আর যাদের পাল্লা হালকা হবে তারাই তাদের নিজেদের ক্ষতি করেছে, যেহেতু তারা আমার নিদর্শসনমূহকে প্রত্যাখ্যান করত।” (সূরা আ‘রাফ ৭: ৮-৯) কিন্তু কিভাবে হবে তা আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন। এটা সম্পূর্ণ গায়েবী বিষয়, এর প্রতি আমাদের ঈমান রাখতে হবে।

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

১. পুনরুত্থান ও আমলের প্রতিদানের প্রমাণ পেলাম।

২. কিয়ামতের ভয়াবহতা বর্ণনা করে মানুষকে আমলের ব্যাপারে সতর্ক করা হচ্ছে।

৩. আমল ওজন করা হবে। এমনকি আমলকারীকেও ওজন করা হবে।

৪. কিয়ামতের দিন মানুষ দুটি দলে বিভক্ত হবে। এক দল জান্নাতী আর অন্য দল জাহান্নামী।