You are reading tafsir of 9 ayahs: 104:1 to 104:9.
নামকরণ:
هُمَزَةٍ বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে যে মানুষের দোষ-ত্রুটি বলে বেড়ায় এবং কাজ ও ইশারায় অন্যের ওপর অপবাদ দেয়। আবার বলা হয় هُمَزَةٍ ঐ ব্যক্তি যে মুখোমুখি মানুষের নিন্দা করে। প্রথম আয়াতে উল্লিখিত هُمَزَةٍ শব্দ থেকেই উক্ত নামে সূরার নামকরণ করা হয়েছ। সূরায় পরনিন্দাকারী ও অর্থলিপ্সুদের দুর্ভোগ ও আখিরাতের শাস্তির বর্ণনা এসেছে।
هُمَزَةٍ এর শাব্দিক আলোচনা ওপরে করা হয়েছে। আর لمزة বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে যে পশ্চাতে পরনিন্দা করে। এ-সব পশ্চাতে ও সম্মুখে নিন্দাকারী ব্যক্তিরাই সম্পদ জমা করে ও গণনা করে। অর্থাৎ সম্পদ থেকে সাধারণ দান সাদকাহ তো দূরের কথা ফরয যাকাতও আদায় করে না। এজন্যই আল্লাহ তা‘আলা তাদের এত বড় দুর্ভোগের কথা বলেছেন। নচেৎ সাধারণভাবে সম্পদ সঞ্চয় করা কোন নিন্দনীয় বিষয় নয়। যেমন আল্লাহ তা‘আলা সম্পদ জমাকারীকে তিরস্কার করে বলেন :
(وَجَمَعَ فَأَوْعٰي)
“সে সম্পদ জমা করেছে এবং সংরক্ষিত করে রেখেছে।” (সূরা মাআরিজ ৭০ : ১৮)
(أَنَّ مَالَه۫ أَخْلَدَه۫)
অর্থাৎ তার বিশ্বাস তার জমাকৃত সম্পদ তাকে মরতে দেবে না, সর্বদা জীবিত রাখবে। সুতরাং অত্র আয়াতে পুঁজিবাদ ও পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে বিশ্বাসীদের তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে। অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ছিনিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার পরিণাম ভাল নয়। তাই যারা দুনিয়াবী স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কেবল সম্পদ জমা করবে কিন্তু তার হক আদায় করবে না তাদের জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَالَّذِيْنَ يَكْنِزُوْنَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُوْنَهَا فِيْ سَبِيْلِ اللّٰهِ لا فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيْمٍ)
“আর যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং সেটা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও।” (সূরা তাওবা ৯: ৩৪)
كَلَّا অর্থাৎ সে যেমন বিশ্বাস করছে মূলত বিষয়টি তেমন নয়। সম্পদ তাকে মৃত্যু থেকে বাঁচাতে পারবে না। বরং যত সম্পদের অধিকারী হোক না কেন অবশ্যই তাকে দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে।
الْـحُطَمَةِ জাহান্নামের অন্যতম একটি নাম। হুতামাহ অর্থ ভেঙ্গে চূরমার করা। হুতামার পরিচয় উল্লেখ করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(نَارُ اللّٰهِ الْمُوْقَدَة)
“এটা আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত অগ্নি”।
(تَطَّلِعُ عَلَي الْأَفْئِدَةِ)
মুহাম্মাদ বিন কাব (রহঃ) বলেন: আগুন সারা শরীর খেয়ে ফেলবে এমনকি যখন তা অন্তরসহ কণ্ঠনালী পর্যন্ত পৌঁছে যাবে তখন পুনরায় আবার শরীরের দিকে ফিরে আসবে। তারা এ আগুনে বন্দি হয়ে থাকবে, সেখান থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে যাবে।
مُوْقَدَةُ অর্থ مغلقة বা বন্ধ, পরিবেষ্টিত। অর্থাৎ জাহান্নামের সকল দরজা ও পথ বন্ধ করে দেয়া হবে এবং তাদেরকে লোহার পেরেকের সাথে বেঁধে দেয়া হবে যা লম্বা লম্বা স্তম্ভের মত। যার ফলে জাহান্নাম থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে যাবে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَأَمَّا الَّذِيْنَ فَسَقُوْا فَمَأْوٰهُمُ النَّارُ ط كُلَّمَآ أَرَادُوْآ أَنْ يَّخْرُجُوْا مِنْهَآ أُعِيْدُوْا فِيْهَا وَقِيْلَ لَهُمْ ذُوْقُوْا عَذَابَ النَّارِ الَّذِيْ كُنْتُمْ بِه۪ تُكَذِّبُوْنَ )
“আর যারা পাপ কাজ করেছে তাদের বাসস্থান হবে জাহান্নাম। যখনই তারা সেখান থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদেরকে সেথায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, আগুনের স্বাদ গ্রহণ (শাস্তি ভোগ) কর যা তোমরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে।” (সূরা সাজদাহ ৩২: ২০)
অর্থাৎ জাহান্নামে লম্বা লম্বা খুঁটি থাকবে যাতে বেধে জাহান্নামীদের শাস্তি দেয়া হবে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে। তারপর খুঁটির সাথে বাঁধা হবে এবং গলায় বেড়ী পরানো হবে। অতঃপর জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। (ইবনু কাসীর) সুতরাং পরনিন্দা ও অর্থলিপ্সু হওয়া থেকে সাবধান।
সূরা হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. যারা পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দা করে তাদের পরিণতি ভয়াবহ।
২. সম্পদের যাকাত আদায় না করে সঞ্চয় করতঃ হিসাব কষা ভয়াবহ অপরাধ।
৩. জাহান্নামের আগুনের প্রখরতা সম্পর্কে জানলাম।