You are reading tafsir of 3 ayahs: 49:6 to 49:8.
৬-৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, অলীদ বিন উকবা (রাঃ) সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল হয়েছে। তাঁকে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বানী মুসতালিক গোত্রের যাকাত আদায় করার জন্য প্রেরণ করেছিলেন। তিনি রাস্তা থেকে ফিরে এসেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলল, তারা যাকাত দিতে অস্বীকার করেছে এবং আমাকে হত্যা করার মনন্থ করেছে (উল্লেখ্য যে, অলীদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে উক্ত গোত্রের পূর্ব শত্র“তা ছিল)। এ সংবাদের ভিত্তিতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খালেদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে তাদের বিরুদ্ধে সৈন্য প্রেরণ করলেন। কিন্ত পরক্ষণে জানতে পারলেন যে, সংবাদটি ভুল ছিল। অলীদ (রাঃ) সেখানে যাননি। ঘটনাটি আরো বিস্তারিত রয়েছে। তবে ঘটনাকে অনেকে সনদ ও বাস্তবতার দিক দিয়ে দুর্বল বলেছেন। আবার অনেকে হাসান বলেছেন। তাই এ ধরণের কথা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের ব্যাপারে বলা ঠিক নয়। তবে আয়াতের শানে নূযুলের প্রতি লক্ষ্য করলে বুঝা যায় যে, এতে অতি গুরুত্বপূর্ণ এমন একটি নীতি বর্ণনা করা হয়েছে যা বৈষয়িক ও সামাজিক জীবনে বড় গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক সাংবাদিক ও শাসকের উচিত যে-কোন সংবাদ গ্রহণের পূর্বে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নেয়া। অন্যথায় পরবর্তীতে কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে হবে। আয়াতটি প্রমাণ করছে পাপিষ্ট ব্যক্তির সংবাদ গ্রহণের পূর্বে যাচাই-বাছাই করতে হবে।
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَّلَا تَقْبَلُوْا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا ج وَأُولٰ۬ئِكَ هُمُ الْفٰسِقُوْنَ)
“এবং কখনও তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না; তারাই তো পাপাচারী।” (সূরা নূর ২৪ : ৪)
দীনের ব্যাপারে ফাসিক তথা পাপিষ্ঠ ব্যক্তির সংবাদ গ্রহণ করা যাবে না এ ব্যাপারে সকল আলেম একমত। আয়াতটি দুটি বিষয় প্রমাণ করছে :
১. ফাসিক ব্যক্তি কোন সংবাদ দিলে তার সত্য-মিথ্যা যাচাই করা ওয়াজিব।
২. ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির সংবাদ গ্রহণ করা আবশ্যক।
উক্ত আয়াতের আলোকে মুহাদ্দিসীনে কেরাম হাদীসে গ্রহণের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই, সংরক্ষণ ও অন্যের কাছে বর্ণনার সময় সতর্কতা অবলম্বন এবং বর্ণনাকারীদের বিশস্ততার প্রতি খেয়াল রেখেছেন।
সুতরাং একজন ব্যক্তির কোন বিষয়ে আমল করার পূর্বে সে সম্পর্কে সঠিক প্রমাণ জেনে নেয়া আবশ্যক। অন্যথায় কখন যে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে নিজেও বুঝতে পারবে না। আর ধর্মসহ যে-কোন বিষয়ে কেউ কোন সংবাদ দিলে তা যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে। বিশেষ করে বর্তমানে মিডিয়াগুলো অমুসলিম ও বামপন্থিদের কর্তৃত্বাধীন, তারা কোনদিন মুসলিমদের কল্যাণ ও উন্নতি চায় না, তাই তারা মুসলিমদের ব্যাপারে সঠিক সংবাদ প্রচার করবে না। তিলকে তাল বানাবে, সত্য গোপন করে মিথ্যাকে সত্য বলে প্রচার করবে। মুসলিম সাংবাদিকদের উচিত সঠিক তথ্য প্রচার করা, সত্য গোপন না করা।
نٰدِمِيْنَ অর্থাৎ সংবাদ যাচাই বাছাই না করত : তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে মিথ্যা সংবাদকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করে সত্য সংবাদকে মিথ্যা বলে, মুসলিমদের ব্যাপারে খারাপ ধারণা পোষণ করে এবং সমাজে ভুল সংবাদ প্রচারের জন্য পরে আফসোস করবে।
সাহাবীদের ন্যায়পরায়ণতা : সাহাবীরা নিষ্পাপ নন, তাদের দ্বারাও কবীরা গুনাহ হতে পারে যা তাৎক্ষণিক ঈমানী দুর্বলতার প্রমাণ বহন করে। তাদের দ্বারাও কবীরা গুনাহ হলে দুনিয়াতে শরীয়ত নির্ধারিত শাস্তি প্রয়োগ করা হত, যেমন স্বয়ং নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবী মায়েযকে ব্যভিচার করার কারণে পাথর মেরে হত্যা করে ছিলেন। কিন্তু কুরআন ও সুন্নাহর বর্ণনানুপাতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকীদাহ হল সাহাবী গুনাহ করতে পারেন, তবে এমন কোন সাহাবী নেই যিনি গুনাহ থেকে তাওবা করেননি। সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা‘আলা তাদের ওপর সন্তুষ্টি ঘোষণা করেছেন-
((رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهُمْ وَرَضُوْا عَنْهُ
“আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট।” (সূরা বাইয়্যিনাহ ৯৮ : ৮) গুনাহ ক্ষমা করা ব্যতীত আল্লাহ তা‘আলা সন্তুষ্ট হন না। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা জানেন যে, তারা সন্তুষ্টির ওপরই মৃত্যুবরণ করবেন।
তাছাড়া সাহাবীদের নেকীর কাজের তুলনায় গুনাহর কাজ খুবই কম ছিল। তারা ইসলামের জন্য নিজেদের জান-মাল উৎসর্গ করেছেন, নিজেদের ঘর-বাড়ি বিসর্জন দিয়েছেন; এরূপ দৃষ্টান্ত প্রচুর। তাদের ভাল কাজের নেকী সাধারণ মুসলিমদের থেকে বহুগুণ বেশি। তারা এমন মুহূর্তে ইসলামকে সহযোগিতা করেছেন যখন ইসলামের নাবীকে হত্যা ও ইসলামকে বিদায় করার জন্য কাফিররা ঐক্যবদ্ধ ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : সে সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ তোমাদের কেউ উহুদ পরিমাণ স্বর্ণ ব্যয় করলেও তাদের এক মুদ অথবা তার অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। (সহীহ বুখারী হা. ৩৬৭৩)
সুতরাং সাহাবীদের ব্যাপারে আমাদের জবান ও অন্তর সম্পূর্ণ স্বচ্ছ থাকবে। আমরা বিশ্বাস করব আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট, তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। তাঁরা উম্মাতের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।
(وَاعْلَمُوا أَنَّ فِيكُمْ رَسُولَ اللّٰهِ)
অর্থাৎ জেনে রেখো যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহ তা‘আলার রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিদ্যমান রয়েছেন। সুতরাং তোমরা তাঁকে সম্মান কর, আদবের সাথে কথা বল। তাঁর দিক নিদের্শনা মেনে চল। কেননা তোমাদের কল্যাণ সম্পর্কে তিনি অধিক জানেন, তিনি তোমাদের প্রতি অধিক দয়ালু।
যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(اَلنَّبِيُّ أَوْلٰي بِالْمُؤْمِنِيْنَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ)
“নাবী মু’মিনদের কাছে তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ।” (সূরা আহযাব ৩৩ : ৬)
(لَوْ يُطِيعُكُمْ فِي كَثِيرٍ مِنَ الْأَمْرِ لَعَنِتُّمْ)
অর্থাৎ যে সকল সংবাদ তোমরা দিয়ে থাক তিনি যদি সে সকল সংবাদের ব্যাপারে তোমাদের অনুসরণ করতেন তাহলে তোমরাই কষ্টে পতিত হতে।
যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَلَوِ اتَّبَعَ الْحَقُّ أَهْوَا۬ءَهُمْ لَفَسَدَتِ السَّمٰوٰتُ وَالْأَرْضُ وَمَنْ فِيْهِنَّ ط بَلْ أَتَيْنٰهُمْ بِذِكْرِهِمْ فَهُمْ عَنْ ذِكْرِهِمْ مُّعْرِضُوْنَ)
“সত্য যদি তাদের কামনা-বাসনার অনুগামী হত তবে বিশৃংখল হয়ে পড়ত আকাশসমূহ, পৃথিবী এবং তাদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুই। বরং আমি তাদেরকে উপদেশ দিয়েছি, কিন্তু তারা উপদেশ হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়।” (সূরা মু’মিনুন ৪০ : ৭১)
(وَلَكِنَّ اللّٰهَ حَبَّبَ إِلَيْكُمُ)
অর্থাৎ তোমাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় করে নিয়েছেন এবং তা তোমাদের জন্য হৃদয়গ্রাহী করেছেন। ফলে তোমাদের ঈমান বিনষ্ট হয় এমন কোন কাজ হবে না।
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা সুস্পষ্ট করে বলেন যে, তিনি যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন আবার যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(مَنْ يَّهْدِ اللّٰهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ ج وَمَنْ يُّضْلِلْ فَلَنْ تَجِدَ لَه۫ وَلِيًّا مُّرْشِدًا )
“আল্লাহ যাকে সৎপথে পরিচালিত করেন, সে সৎপথপ্রাপ্ত এবং তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তুমি কখনও তার কোন পথপ্রদর্শনকারী অভিভাবক পাবে না।” (সূরা কাহফ ১৮ : ১৭)
আর আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কাছে কুফরী ও পাপাচার অপছন্দনীয় করে দিয়েছেন। ফলে তোমরা পাপ কাজে লিপ্ত হবে না, শয়তানের প্রয়োচনায় লিপ্ত হলেও তাওবা করে আল্লাহ তা‘আলার কাছে ক্ষমা চেয়ে পাপের কলুষতা থেকে মুক্ত হয়ে যাবে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু‘আ করে বলতেন :
اَللّٰهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الإِيمَانَ وَزَيِّنْهُ في قُلُوبِنَا وَكَرِّهْ إِلَيْنَا الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ وَاجْعَلْنَا مِنَ الرَّاشِدِينَ
হে আল্লাহ তা‘আলা! তুমি আমাদের কাছে ঈমানকে প্রিয় করে দাও এবং আমাদের অন্তরকে তা দ্বারা সুশোভিত করে দাও। আমাদের নিকট কুফরী, পাপাচার ও অবাধ্যতা অপছন্দনীয় করে দাও। আমাদেরকে সুপথ প্রাপ্তদের মধ্যে শামিল করে নাও। (নাসাঈ হা. ৬০৯, সহীহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ) অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : যে ব্যক্তির ভাল কাজ তাকে আনন্দ দেয় এবং মন্দ কাজ তাকে কষ্ট দেয় সে ব্যক্তি মু’মিন। (তিরমিযী হা. ২১৬৫, সনদ সহীহ)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. যে কোন সংবাদ তড়িঘড়ি করে গ্রহণ না করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গ্রহণ করা উচিত। তবে আল্লাহ তা‘আলা যে সংবাদ দিয়েছেন তা যাচাইয়ের ঊর্ধ্বে।
২. সাহাবীদের ব্যাপারে এমন কথা বলা উচিত নয় যাতে তাদের ন্যায়পরায়ণতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
৩. নাবী-রাসূলদের পরেই সাহাবীদের মর্যাদা।
৪. অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকার উৎসাহ পেলাম।
৫. সাংবাদিকদের করণীয় ও বর্জণীয় সম্পর্কে জানলাম।
QUL supports exporting tafsir content in both JSON and SQLite formats.
Tafsir text may include <html> tags for formatting such as <b>,
<i>, etc.
Note:
Tafsir content may span multiple ayahs. QUL exports both the tafsir text and the ayahs it applies to.
Example JSON Format:
{
"2:3": {
"text": "tafisr text.",
"ayah_keys": ["2:3", "2:4"]
},
"2:4": "2:3"
}
"ayah_key" in "surah:ayah", e.g. "2:3" means
3rd ayah of Surah Al-Baqarah.
text: the tafsir content (can include HTML)ayah_keys: an array of ayah keys this tafsir applies toayah_key where the tafsir text can be found.
ayah_key: the ayah for which this record applies.group_ayah_key: the ayah key that contains the main tafsir text (used for shared tafsir).
from_ayah / to_ayah: start and end ayah keys for convenience (optional).ayah_keys: comma-separated list of all ayah keys that this tafsir covers.text: tafsir text. If blank, use the text from the group_ayah_key.