You are reading tafsir of 7 ayahs: 50:16 to 50:22.
১৬-২২ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর জ্ঞান দ্বারা তাদের গতিবেগ, কথা-বার্তা ও কাজ-কর্ম এমনকি অন্তরে কি উদ্রেক হয় তা সবকিছু বেষ্টন করে আছেন।
মহান আল্লাহ তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে মানুষের ঘাড়ে অবস্থিত ধমনী অপেক্ষাও নিকটে। মানুষ মনে মনে কি চিন্তা-ভাবনা করে তাও আল্লাহ তা‘আলা জানেন। যেমন- হাদীসে এসেছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : আমার উম্মাতের মনে যে কুমন্ত্রণা জাগে তা আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করে দিয়েছেন যদি তা না বলে বা আমল করে। (সহীহ বুখারী হা. ৫২৬৯, মুসলিম হা. ১২৭)
وريد (শাহরগ) বলা হয় প্রধান অথবা এমন প্রাণ ধারক ধমনীকে যা কেটে গেলে মৃত্যু হয়ে যায়। এ ধমনী (কণ্ঠনালীর দু’ পাশে দু’টি মোটা আকারের শিরা) মানুষের কাঁধ পর্যন্ত থাকে। ইবনু কাসীর (রহঃ) نحن (আমরা) দ্বারা ফেরেশতাদেরকে বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ আমার ফেরেশতাগণ মানুষের শাহ রগের চেয়েও নিকটে।
(إِذْ يَتَلَقّٰي الْمُتَلَقِّيَانِ عَنِ الْيَمِيْنِ وَعَنِ الشِّمَالِ)
“যখন দুই গ্রহণকারী (ফেরেশতা) তার ডানে ও বামে বসে তার কর্ম লিপিবদ্ধ করে’’ অর্থাৎ দুজন ফেরেশতা মানুষের ডান ও বাম পাশে বসে আমল লিপিবদ্ধ করে। ডান পার্শ্বের ফেরেশতা পুণ্য আর বাম পার্শ্বের ফেরেশতা পাপ কাজ লিপিবদ্ধ করে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : তোমাদের মাঝে রাতের ও দিনের ফেরেশতারা পালাক্রমে যাতায়াত করে। তারা (উভয় দল) ফজর ও ‘আসর সালাতে একত্রিত হয়। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন আমার বান্দাদের কিভাবে রেখে এসেছ অথচ তিনি তাদের সম্পর্কে ভাল জানেন। তারা জবাবে বলেন : আমরা তাদের নিকট পৌঁছার সময় সালাত অবস্থায় পেয়েছিলাম আর রেখে আসার সময় সালাত অবস্থায় রেখে এসেছিলাম। (সহীহ মুসলিম হা. ৬৩২)
رقيب অর্থ : সংরক্ষণকারী, পর্যবেক্ষক, তত্ত্বাবধায়ক আর عتيد অর্থ : হলো তৎপর, সদা-সর্বদা প্রস্তুত। অর্থাৎ মানুষের মুখ দিয়ে যত কথা বের হয় তা উঁচু আওয়াজে হোক আর নিচু আওয়াজে হোক তা পর্যবেক্ষকগণ লিপিবদ্ধ করে নেন। সুতরাং মানুষ তার মুখ দিয়ে কী বলছে তা বলার পূর্বে একটু ভেবে চিন্তা করে বলা উচিত। আমার কথা কি কোন উপকারে আসছে, না অনর্থক কোন কথা বলছি, আমার কথার দ্বারা মানুষের ক্ষতি করছি না কারো দোষত্র“টি বর্ণনা করছি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন :
مَنْ يَضْمَنُ لِيْ مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَضْمَنْ لَهُ الجَنَّةَ
যে ব্যক্তি আমার কাছে দু’চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থান ও দু’রানের মধ্যবর্তী স্থানের জামিন হবে আমি তার জন্য জান্নাতের জামিনদার হব। (সহীহ বুখারী হা. ৬৪৭৪)
এ আয়াত এও প্রমাণ করছে- মুখ দিয়ে প্রকাশ না পেলে সে কথার জন্য পাকড়াও করা হবে না।
(وَجَا۬ءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ)
‘মৃত্যু যন্ত্রণা সত্যই আসবেই’ অর্থাৎ মৃত্যুযন্ত্রণা সত্যিই আসবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মৃত্যুর সময় বলেছিলেন : নিশ্চয়ই মৃত্যু যন্ত্রণা খুব বেদনাদায়ক। (সহীহ বুখারী হা. ৪০৯৪)
এ আয়াতের অন্য একটি অর্থ হলো : মৃত্যু যন্ত্রণা সত্য নিয়ে আসবে। অর্থাৎ মৃত্যুর সময় সত্য স্পষ্ট এবং সে সকল প্রতিশ্রুতির সত্যতা প্রকাশ হয়ে যায়। যা কিয়ামতের ব্যাপারে নাবীগণ বলেছেন।
(وَنُفِخَ فِي الصُّوْرِ)
‘আর শিংগায় ফুঁৎকার দেয়া হবে’ অর্থাৎ ইসরাফিল (রহঃ) মানুষকে কবর থেকে উত্থিত করার জন্য তৃতীয় ফুঁৎকার দেবেন। এ সম্পর্কে সূরা আলি ইমরান ৩ :১৭৩ নং আয়াতে আলোচনা হয়েছে।
(مَعَهَا سَا۬ئِقٌ وَشَهِيْدٌ)
‘তার সাথে থাকবে চালক ও সাক্ষী’ سَائِقٌ অর্থ হলো চালক, شَهِيدٌ অর্থ হলো সাক্ষী। অর্থাৎ প্রত্যেক ব্যক্তির সাথে একজন ফেরেশতা থাকবে যিনি তাকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে হাশরের ময়দানে, আর অন্য আরেকজন ফেরেশতা সাক্ষী দেবে এটাই সঠিক কথা। (ইবনু কাসীর- অত্র আয়াতের তাফসীর)
(لَقَدْ كُنْتَ فِيْ غَفْلَةٍ) –
‘তুমি এ দিবস সম্বন্ধে অজ্ঞ ছিলে’ এ আয়াত দ্বারা কাকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে সে সম্পর্কে ইবনু জারীর তাবারী তিনটি মত উল্লেখ করেছেন :
(১) এখানে সম্বোধন করা হয়েছে কাফিরদেরকে।
(২) এখানে উদ্দেশ্য খারাপ ভাল সকলেই।
(৩) এর দ্বারা উদ্দেশ্য নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। অর্থাৎ ওয়াহী করার পূর্বে তুমি কুরআন সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলে। ওয়াহী করার মাধ্যমে জানিয়ে দিলাম।
ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন : এ তিনটি মতের মাধ্যমে জানা গেল : এখানে সম্বোধন সকলের জন্য প্রযোজ্য। আয়াতের অর্থ হলো : তুমি এ দিন সম্পর্কে গাফেল ছিলে, এখন পর্দা খুলে দিয়েছি ফলে দৃঢ়ভাবে দেখতে পাচ্ছো। অর্থাৎ প্রত্যেকে কিয়ামতের দিন দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন হবে।
এমন কি কাফিরও সেদিন সোজা হয়ে যাবে কিন্তু তা উপকারে আসবে না। মহান আল্লাহ বলেন :
(وَلَوْ تَرٰٓي إِذِ الْمُجْرِمُوْنَ نٰكِسُوْا رُؤُوْسِهِمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ ط رَبَّنَآ أَبْصَرْنَا وَسَمِعْنَا فَارْجِعْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا إِنَّا مُوْقِنُوْنَ)
“আর যদি তুমি দেখতে, যখন পাপীরা তাদের প্রতিপালকের সামনে স্বীয় মাথা নীচু করে বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা দেখলাম ও শ্রবণ করলাম, (এখন) তুমি আমাদেরকে পুনরায় (পৃথিবীতে) প্রেরণ কর; আমরা নেক কাজ করব। আমরা তো দৃঢ় বিশ্বাসী হয়েছি।” (সূরা সাজদাহ্ ৩২ :১২)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. আল্লাহ তা‘আলার কুদরত ও জ্ঞান সম্পর্কে জানলাম যে তিনি তাঁর জ্ঞান দ্বারা সবকিছু বেষ্টন করে আছেন।
২. প্রত্যেকের আমল লিপিবদ্ধকারী দুজন ফেরেশতা সর্বদা নিযুক্ত রয়েছে।
৩. মৃত্যু যন্ত্রণা খুব ভয়াবহ।
৪. প্রত্যেক ব্যক্তির সাথে তার ব্যাপারে একজন সাক্ষী থাকবে।
৫. পুনরুত্থান ও প্রতিদানের প্রতি ঈমান আনা জরুরী।
QUL supports exporting tafsir content in both JSON and SQLite formats.
Tafsir text may include <html> tags for formatting such as <b>,
<i>, etc.
Note:
Tafsir content may span multiple ayahs. QUL exports both the tafsir text and the ayahs it applies to.
Example JSON Format:
{
"2:3": {
"text": "tafisr text.",
"ayah_keys": ["2:3", "2:4"]
},
"2:4": "2:3"
}
"ayah_key" in "surah:ayah", e.g. "2:3" means
3rd ayah of Surah Al-Baqarah.
text: the tafsir content (can include HTML)ayah_keys: an array of ayah keys this tafsir applies toayah_key where the tafsir text can be found.
ayah_key: the ayah for which this record applies.group_ayah_key: the ayah key that contains the main tafsir text (used for shared tafsir).
from_ayah / to_ayah: start and end ayah keys for convenience (optional).ayah_keys: comma-separated list of all ayah keys that this tafsir covers.text: tafsir text. If blank, use the text from the group_ayah_key.