Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Ar-Rahman — Ayah 12

ٱلرَّحۡمَٰنُ ١ عَلَّمَ ٱلۡقُرۡءَانَ ٢ خَلَقَ ٱلۡإِنسَٰنَ ٣ عَلَّمَهُ ٱلۡبَيَانَ ٤ ٱلشَّمۡسُ وَٱلۡقَمَرُ بِحُسۡبَانٖ ٥ وَٱلنَّجۡمُ وَٱلشَّجَرُ يَسۡجُدَانِ ٦ وَٱلسَّمَآءَ رَفَعَهَا وَوَضَعَ ٱلۡمِيزَانَ ٧ أَلَّا تَطۡغَوۡاْ فِي ٱلۡمِيزَانِ ٨ وَأَقِيمُواْ ٱلۡوَزۡنَ بِٱلۡقِسۡطِ وَلَا تُخۡسِرُواْ ٱلۡمِيزَانَ ٩ وَٱلۡأَرۡضَ وَضَعَهَا لِلۡأَنَامِ ١٠ فِيهَا فَٰكِهَةٞ وَٱلنَّخۡلُ ذَاتُ ٱلۡأَكۡمَامِ ١١ وَٱلۡحَبُّ ذُو ٱلۡعَصۡفِ وَٱلرَّيۡحَانُ ١٢ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ١٣

নামকরণ ও ফযীলত :

(الرحمن) “রহমান” আল্লাহ তা‘আলার গুণবাচক নামসমূহের মধ্যে অন্যতম। অর্থ : দয়াময় (আল্লাহ তা‘আলা) যিনি তাঁর রহমত দ্বারা সমস্ত মাখলুককে বেষ্টন করে আছেন।

সূরা আল ফাতিহায় এর তাফসীর করা হয়েছে। প্রথম আয়াতে উল্লিখিত আর-রহমান (الرحمن) শব্দ থেকে সূরাটির নামকরণ করা হয়েছে। সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ সূরাসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত, জনৈক লোক ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-কে বলেন : من ماء غير اسن বাক্যটির اسن শব্দটি কি اسن হবে না ياسن হবে তা কিভাবে চিনবেন? ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) জবাবে বলেন : তুমি কি সম্পূর্ণ কুরআন পড়েছ? সে জবাবে বলল : মুফাস্সালের সমস্ত সূরা এক রাক‘আতে পড়ে থাকি। তিনি বললেন : কবিতা যেমন তাড়াতাড়ি পড়া হয়, তুমিও কি কুরআন সেভাবেই পড়ে থাকো? এটা দুঃখজনক ব্যাপার। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুফাস্সালের প্রাথমিক সূরাগুলোর কোন্ দু’টি সূরা মিলিয়ে পড়তেন তা আমার ভাল স্মরণ আছে। ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) সূরা র্আ রহমানকে মুফাস্সালের প্রথম সূরা হিসেবে গণ্য করতেন। (আহমাদ হা. ৩৯১০, সনদ সহীহ)

জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন : একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীদের কাছে বের হলেন। তিনি তাদের কাছে সূরা র্আ রহমানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ সূরা তিলাওয়াত করে শুনান। সবাই চুপ রয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : কি হলো আমি তোমাদেরকে চুপচাপ দেখছি? জিনের রাতে জিনদের কাছে এ সূরা তিলাওয়াত করেছি তারা তোমাদের চেয়ে উত্তম জবাব দিয়েছে। যখনই আমি

(فَبِأَيِّ اٰلَا۬ءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبٰنِ)

আয়াতটি তিলাওয়াত করেছি তখন তারা বলেছে :

لَا بِشَيْءٍ مِّنْ نِّعْمَةِ رَبِّنَا نُكَذِّبُ فَلَكَ الْحَمْدُ

হে আমাদের রব! আমরা আপনার কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করি না, সকল প্রশংসা একমাত্র আপনার জন্যই। (তিরমিযী হা. ৩২৯১, হাকিম ২/৪৭৩, সহীহ)

সূরাটি মাক্কী না মাদানী এ নিয়ে একাধিক মত রয়েছে, ইমাম কুরতুবী দুটি মত নিয়ে এসে মাক্কী হওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন। কারণ উরওয়া ইবনু যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পর মক্কায় যিনি সর্বপ্রথম উচ্চ আওয়াজে কুরআন তেলাওয়াত করেন তিনি হলেন ইবনু মাসঊদ (রাঃ)। সাহাবীগণ বলেন : আওয়াজের সাথে কুরআন তেলাওয়াত করা কুরাইশরা শোনেনি, কে আছে যে তাদেরকে আওয়াজের সাথে কুরআন তেলাওয়াত শোনাবে? ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বললেন : আমি, তারা বললেন : আমরা তোমার ব্যাপারে আশংকা করছি। আমরা চাচ্ছি এমন একজন ব্যক্তি যার কুরাইশদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে; ফলে তারা তাকে হেফাযত করবে। কিন্তু তিনি তা মানলেন না, সে স্থানে দাঁড়িয়ে অত্র সূরা তেলাওয়াত শুরু করলেন (কুরতুবী)। সুতরাং আয়াতগুলো প্রমাণ করছে সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ।

সূরার যোগসূত্র এবং

(فَبِأَيِّ اٰلَا۬ءِ....)

বাক্যটি বার বার উল্লেখ করার তাৎপর্য : পূর্ববর্তী সূরা কামারের অধিকাংশ বিষয়বস্তু অবাধ্য জাতিসমূহের শাস্তির সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। তাই প্রত্যেক শাস্তির পর মানুষকে হুশিয়ার করার জন্য

(فَكَيْفَ كَانَ عَذَابِيْ وَنُذُرِ)

বাক্যটি ব্যবহার করা হয়েছে। এর সাথে ঈমান ও আনুগত্যে উৎসাহিত করার জন্য দ্বিতীয় বাক্য

(وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْاٰنَ)

কে বার বার উল্লেখ করা হয়েছে। এর বিপরীতে সূরা রহমানের বেশির ভাগ বিষয়বস্তু আল্লাহ তা‘আলার দুনিয়াবী ও আখিরাতের অনুগ্রহসমূহের বর্ণনা সম্পর্কিত। তাই যখন কোন বিশেষ অবদান উল্লেখ করা হয়েছে তখনই মানুষকে সতর্ককরণ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকারে উৎসাহিত করার জন্য

(فَبِأَيِّ اٰلَا۬ءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبٰنِ)

বাক্যটি বার বার উল্লেখ করা হয়েছে। প্রত্যেক বার বাক্যটি নতুন নতুন বিষয়বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে এটা অলংকার শাস্ত্রের পরিপন্থী নয়।

১-১৩ নম্বর আয়াতের তাফসীর :

সূরাটিকে আর রহমান দ্বারা শুরু করার কারণ হল মক্কার মুশরিকরা রহমানকে অস্বীকার করত।

(وَاِذَا قِیْلَ لَھُمُ اسْجُدُوْا لِلرَّحْمٰنِ قَالُوْا وَمَا الرَّحْمٰنُﺠ اَنَسْجُدُ لِمَا تَاْمُرُنَا وَزَادَھُمْ نُفُوْرًا‏)‏

“যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘রহমান’-কে সিজদা কর,’ তখন তারা বলে : ‘রহমান আবার কে? তুমি কাউকে সিজ্দা করতে বললেই কি আমরা তাকে সিজ্দা করব?’ এতে তাদের বিমুখতাই বৃদ্ধি পায়।” (সূরা ফুরকান ২৫ : ৬০) বলা হয়, এ সূরাটি নাযিল হয়েছে মক্কাবাসীর এ কথার জবাবে যে, যখন তারা বলে : এ কুরআন মু‏হাম্মাদকে কোন খারাপ ব্যক্তি শিক্ষা দিয়েছে। সে হল ইয়ামামার রহমান। এর দ্বারা তারা বুঝাতো মুসায়লামাতুল কাযযাবকে। তখন এ আয়াত নাযিল হল (কুরতুবী)।

(عَلَّمَ الْقُرْاٰنَ)

অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন, আর তাঁর থেকে তাঁর উম্মাত গ্রহণ করেছে।

এ আয়াত তাদের কথার প্রতিবাদ করছে যারা বলে : এ কুরআন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কোন ব্যক্তির কাছ থেকে শিখেছে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّهُمْ يَقُوْلُوْنَ إِنَّمَا يُعَلِّمُه۫ بَشَرٌ ط لِسَانُ الَّذِيْ يُلْحِدُوْنَ إِلَيْهِ أَعْجَمِيٌّ وَّهٰذَا لِسَانٌ عَرَبِيٌّ مُّبِيْنٌ)‏

“অবশ্যই আমি জানি, তারা বলে : ‘তাকে শিক্ষা দেয় এক মানুষ। তারা যার প্রতি এটা আরোপ করে তার ভাষা তো আরবী নয়; কিন্তু কুরআনের ভাষা স্পষ্ট আরবী।” (সূরা আন্ নাহ্ল ১৬ : ১০৩)

অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন : ‏

(وَقَالَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا إِنْ هٰذَا إِلَّا إِفْكٌ افْتَرَاهُ وَأَعَانَهُ عَلَيْهِ قَوْمٌ آخَرُوْنَ فَقَدْ جَاءُوْا ظُلْمًا وَزُورًا - وَقَالُوْٓا اَسَاطِیْرُ الْاَوَّلِیْنَ اکْتَتَبَھَا فَھِیَ تُمْلٰی عَلَیْھِ بُکْرَةً وَّاَصِیْلًا‏)‏

“কাফিররা বলে : ‘এটা মিথ্যা ব্যতীত কিছুই নয়, সে এটা উদ্ভাবন করেছে এবং ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে।’ এরূপে তারা অবশ্যই জুলুম ও মিথ্যায় উপনীত হয়েছে। তারা বলে : ‘এগুলো তো সে-কালের উপকথা, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে; এগুলো সকাল-সন্ধ্যা তার নিকট পাঠ করা হয়।” (সূরা আল ফুরক্বা-ন ২৫ : ৪-৫)

মানুষ সৃষ্টি করার পূর্বে কুরআন শিক্ষা দেয়ার কথা উল্লেখের মাঝে এ ইঙ্গিত রয়েছে যে, মানুষ সৃষ্টিই করা হয়েছে কুরআন শিখার জন্য এবং কুরআনের নির্দেশিত পথে চলার জন্য।

(خَلَقَ الْإِنْسَانَ)

অর্থাৎ প্রথমেই আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে ভাব প্রকাশ করার যে ক্ষমতা দিয়েছেন তা একটি বড় নিদর্শন। এদিকে ইশারা করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ نُّطْفَةٍ فَإِذَا هُوَ خَصِيْمٌ مُّبِيْنٌ)

“তিনি শুক্র হতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন; অথচ সে প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী!” (সূরা আন্ নাহ্ল ১৬ : ৪) মানুষ সৃষ্টির পর তাকে অসংখ্য নিয়ামত প্রদান করা হয়েছে। তান্মধ্যে এখানে বিশেষভাবে ভাব বর্ণনা শিক্ষা তথা মনের ভাব প্রকাশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ মানুষের অন্যান্য প্রয়োজনের পূর্বে মনের ভাব প্রকাশের প্রয়োজন। মানুষ সুস্থ থাকুক, অসুস্থ হোক, কোন কিছুর প্রয়োজন হলে প্রথম দরকার তা প্রকাশ করার ক্ষমতা, তাছাড়া কুরআন শিক্ষার জন্যও প্রকাশ ক্ষমতা দরকার। এজন্য মানব সৃষ্টির পরেই মনের ভাব প্রকাশ করার ক্ষমতার নেয়ামতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

(اَلشَّمْسُ وَالْقَمَرُ بِحُسْبَانٍ)

অর্থাৎ সূর্য ও চন্দ্র উভয়টাই একটি অপরটির পর নিজ কক্ষপথে আবর্তন করে। এতদু’ভয়ের আবর্তনের মধ্যে না আছে টক্কর এবং না আছে কোন অস্থিরতা। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(فَالِقُ الْإِصْبَاحِ ج وَجَعَلَ اللَّيْلَ سَكَنًا وَّالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ حُسْبَانًا ط ذٰلِكَ تَقْدِيْرُ الْعَزِيْزِ الْعَلِيْمِ) ‏

“তিনিই সকালকে প্রকাশ করেন, তিনিই বিশ্রামের জন্য রাতকে সৃষ্টি করেছেন এবং গণনার জন্য সূর্য ও চাঁদ সৃষ্টি করেছেন; এসবই পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নিরূপণ।” (সূরা আন‘আম ৬ : ৯৬)

(وَالنَّجْمُ وَالشَّجَرُ يَسْجُدٰنِ)

ইবনু জারীর আত্ তাবারী (রহঃ) বলেন : النَّجْمُ-এর অর্থ নিয়ে মুফাস্সিরগণ একাধিক মত প্রকাশ করেছেন। তবে এ বিষয়ে সকলে একমত যে, الشَّجَرُ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঐ গাছ যা তার দেহের ওপর দণ্ডায়মান।

ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন :

(وَالنَّجْمُ وَالشَّجَرُ يَسْجُدٰنِ)

আয়াতে “নাজম” হলো সেসব উদ্ভিদ যা জমিনের ওপর বিস্তার লাভ করে।

এরূপ কথাই বলেছেন সা‘ঈদ ইবনু যুবাইর সুদ্দী ও সুফিয়ান সাওরী (রহঃ) ইবনু জারীর এ মতকে সমর্থন করেছেন।

মুজাহিদ বলেন : নাজম হল আকাশের তারকা। হাসান বাসরী ও কাতাদাহ্ও এ কথা বলেছেন : ইমাম ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন : এটাই সঠিক। (আল্লাহ তা‘আলাই অধিক জানেন) কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللہَ یَسْجُدُ لَھ۫ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَمَنْ فِی الْاَرْضِ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ وَالنُّجُوْمُ وَالْجِبَالُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَا۬بُّ وَکَثِیْرٌ مِّنَ النَّاسِ)

“তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহকে সিজদা করে যা কিছু আছে আকাশসমূহে ও পৃথিবীতে, সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্ররাজি, পর্বতমালা, বৃক্ষলতা, জীবজন্তু এবং সিজ্দা করে মানুষের মধ্যে অনেকে?” (সূরা আল হাজ্জ ২২ : ১৮)

(وَوَضَعَ الْمِيْزَانَ)

অর্থাৎ পৃথিবীতে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং মানুষকেও তার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنٰتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتٰبَ وَالْمِيْزَانَ لِيَقُوْمَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ)

“নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছি স্পষ্ট প্রমাণসহ এবং তাদের সঙ্গে দিয়েছি কিতাব ও মানদণ্ড যাতে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে।” (সূরা আল হাদীদ ৫৭ : ২৫)

(أَلَّا تَطْغَوْا فِي الْمِيْزَانِ)

অর্থাৎ ওজনে ন্যায়পরায়ণতার গণ্ডি অতিক্রম করো না।

- اكمام শব্দটি كم-এর বহুবচন। অর্থ কচি খেজুরের ওপরের আবরণ।

حب বলতে এমন সব শস্য যা খাদ্যরূপে গণ্য করা হয়। শস্য শুকিয়ে ভূসি হয়ে যায়, যা পশু ভক্ষণ করে।

الرَّيْحَانُ হাসান বাসরী বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : الرَّيْحَانُ অর্থ সবুজ বৃক্ষ। (ইবনু কাসীর) আরবে তুলসী গাছকে “রাইহান” বলা হয়।

(فَبِأَيِّ اٰلَا۬ءِ رَبِّكُمَا)

এ সম্বোধন মানুষ ও জিন উভয়কেই করা হয়েছে। মহান আল্লাহ তাঁর নেয়ামতসমূহ স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করছেন। আর বারবার এর পুনরাবৃত্তির ব্যাপারটা এমন ব্যক্তির মতো যে, কারো প্রতি অব্যাহতভাবে অনুগ্রহ করে, কিন্তু সে তা অস্বীকার করে। যেমন বলে : আমি তোমার অমুক কাজটি করে দিয়েছি, তুমি কি তা অস্বীকার করবে? অমুক জিনিসটা তোমাকে দিয়েছি, তোমার কি স্মরণ নেই? অমুক অনুগ্রহটি তোমার প্রতি আমি করেছি, তোমার কি আমার ব্যাপারে একটুও খেয়াল নেই। (ফাতহুল কাদীর)

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :

১. রহমান আল্লাহর অন্যতম একটি নাম। এ নামে অন্য কাউকে নামকরণ করা বৈধ নয়।

২. সূরা র্আ রহমানের ফযীলত অবগত হলাম।

৩. আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা আবশ্যক।

৪. সর্বত্র ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা অবশ্য কর্তব্য।

৫. ওজনে কম দেয়া হারাম।

Tafsir Resource

QUL supports exporting tafsir content in both JSON and SQLite formats. Tafsir text may include <html> tags for formatting such as <b>, <i>, etc.

Example JSON Format:

{
  "2:3": {
    "text": "tafisr text.",
    "ayah_keys": ["2:3", "2:4"]
  },
  "2:4": "2:3"
}
  • Keys in the JSON are "ayah_key" in "surah:ayah", e.g. "2:3" means 3rd ayah of Surah Al-Baqarah.
  • The value of ayah key can either be:
    • an object — this is the main tafsir group. It includes:
      • text: the tafsir content (can include HTML)
      • ayah_keys: an array of ayah keys this tafsir applies to
    • a string — this indicates the tafsir is part of a group. The string points to the ayah_key where the tafsir text can be found.

SQLite exports includes the following columns

  • ayah_key: the ayah for which this record applies.
  • group_ayah_key: the ayah key that contains the main tafsir text (used for shared tafsir).
  • from_ayah / to_ayah: start and end ayah keys for convenience (optional).
  • ayah_keys: comma-separated list of all ayah keys that this tafsir covers.
  • text: tafsir text. If blank, use the text from the group_ayah_key.