Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Ar-Rahman — Ayah 25

خَلَقَ ٱلۡإِنسَٰنَ مِن صَلۡصَٰلٖ كَٱلۡفَخَّارِ ١٤ وَخَلَقَ ٱلۡجَآنَّ مِن مَّارِجٖ مِّن نَّارٖ ١٥ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ١٦ رَبُّ ٱلۡمَشۡرِقَيۡنِ وَرَبُّ ٱلۡمَغۡرِبَيۡنِ ١٧ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ١٨ مَرَجَ ٱلۡبَحۡرَيۡنِ يَلۡتَقِيَانِ ١٩ بَيۡنَهُمَا بَرۡزَخٞ لَّا يَبۡغِيَانِ ٢٠ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٢١ يَخۡرُجُ مِنۡهُمَا ٱللُّؤۡلُؤُ وَٱلۡمَرۡجَانُ ٢٢ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٢٣ وَلَهُ ٱلۡجَوَارِ ٱلۡمُنشَـَٔاتُ فِي ٱلۡبَحۡرِ كَٱلۡأَعۡلَٰمِ ٢٤ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٢٥

১৪-২৫ নম্বর আয়াতের তাফসীর :

আলোচ্য আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা মানুষ ও জিন সৃষ্টির মূল উপাদান ও তাঁর কয়েকটি মহান নিদর্শনের কথা নিয়ে এসেছেন।

মানুষকে সৃষ্টি করেছেন صَلْصَالٍ বা এমন শুকনো মাটি হতে যাতে কোন কিছু দ্বারা আঘাত করলে আওয়াজ হয়। আবার কেউ কেউ বলেছেন- صلصال দুর্ঘন্ধময় পঁচা মাটি। এখানে মানুষ বলতে আদম (আঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। যাঁর প্রথমত মাটি থেকে আকার তৈরি করা হয় অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাতে ‘রূহ্’ ফুঁকে দেন। অতঃপর আদম (আঃ)-এর বাম পাঁজরের হাড় হতে হাওয়া (আঃ)-কে সৃষ্টি করেন এবং তাদের উভয়ের মাধ্যমে মানুষ সৃষ্টির ধারাবাহিকতা চলতে থাকে।

আর জিন জাতিকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন। অন্যত্র আল্লাহ বলেন :

(وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَإٍ مَّسْنُوْنٍ ‏ وَالْجَآنَّ خَلَقْنٰهُ مِنْ قَبْلُ مِنْ نَّارِ السَّمُوْمِ) ‏

“আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি গন্ধযুক্ত কর্দমের শুষ্ক ঠন্ঠনা মৃত্তিকা হতে, এর পূর্বে আমি জীনকে সৃষ্টি করেছি ধোঁয়াহীন আগুন হতে।” (সূরা হিজ্র ১৫ : ২৬-২৭)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : ফেরেশতাদেরকে নূর দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে, জিন জাতিকে আগুন থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে যার বর্ণনা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছে। (সহীহ মুসলিম হা. ২৯৯৬)

(رَبُّ الْمَشْرِقَيْنِ وَرَبُّ الْمَغْرِبَيْنِ)

‘তিনিই দুই উদয়াচল ও দুই অস্তাচলের নিয়ন্ত্রণকারী’ অর্থাৎ গ্রীষ্মকাল ও শীতকালের উদয়স্থলদ্বয় এবং অস্তস্থলদ্বয়ের মালিক। গ্রীষ্মকালে সূর্য সোজা পূর্বদিক বরাবর উদয় হয়, যার ফলে দিন বড় হয় আর রাত হয় ছোট। আর শীতকালে সূর্য পূর্বদিকের দক্ষিণ পার্শ্ব হতে উদয় হয়ে পশ্চিম দিকের দক্ষিণ পার্শ্বে অস্ত যায়, যার ফলে দিন ছোট হয় আর রাত হয় বড়। এ জন্য বলা হয়েছে দু’ উদয়াচল ও দু’ অস্তাচল।

তাছাড়াও সূর্য প্রতিদিনের উদয় ও অস্ত উভয় স্থলের তারতম্য হয়। আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন :

(فَلَآ أُقْسِمُ بِرَبِّ الْمَشٰرِقِ وَالْمَغٰرِبِ)

“আমি শপথ করছি উদয়াচল ও অস্তাচলের প্রতিপালকের।” (সূরা আল মা‘আ-রারিজ ৭০ : ৪০)

(مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ يَلْتَقِيٰنِ)

‘তিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেন যারা পরস্পর মিলিত হয়’ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : مرج-এর অর্থ ارسل বা প্রবাহিত করেন।

الْبَحْرَيْنِ দু সমুদ্র বলতে মিষ্টি পানি ও লোনা পানিবিশিষ্ট।

ইবনু জায়েদ বলেন- يَلْتَقِيٰنِ অর্থাৎ দুটি সমুদ্র পাশাপাশি প্রবাহিত হয় কিন্তু একটি অন্যটির সাথে সংমিশ্রণ হতে বাধা দেয় কারণ উভয়ের মাঝে রয়েছে বিশাল অন্তরায়।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(وَھُوَ الَّذِیْ مَرَجَ الْبَحْرَیْنِ ھٰذَا عَذْبٌ فُرَاتٌ وَّھٰذَا مِلْحٌ اُجَاجٌﺆ وَجَعَلَ بَیْنَھُمَا بَرْزَخًا وَّحِجْرًا مَّحْجُوْرًا) ‏

“তিনিই দু’ দরিয়াকে মিলিতভাবে প্রবাহিত করেছেন, একটি মিষ্ট, সুপেয় এবং অপরটি লোনা, বিস্বাদ; উভয়ের মধ্যে রেখে দিয়েছেন এক অন্ত‎রায়, এক অনতিক্রম্য ব্যবধান।” (সূরা আল ফুরকান ২৫ : ৫৩) এ সম্পর্কে সূরা ফুরকান-এর ৫৩ নম্বর আয়াতে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

(يَخْرُجُ مِنْهُمَا اللُّؤْلُؤُ وَالْمَرْجَانُ)

অর্থাৎ মিষ্টি ও লোনা পানিবিশিষ্ট উভয় সমুদ্র হতে উৎপন্ন হয় মুক্তা ও প্রবাল, অথচ এগুলো পাওয়া যায় একটি সমুদ্র হতে, কিন্তু উভয়টির ওপর এর প্রয়োগ করা হয়েছে এরূপ প্রয়োগ বৈধ ও সঠিক। যেমন আল্লাহ বলেন :

( يٰمَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِّنْكُمْ)

‘হে জিন ও মানব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্য হতে কি রাসূলগণ তোমাদের কাছে আসেনি। (সূরা আন‘আম ৬ : ১৩০) এটা সুস্পষ্ট কথা যে, রাসূল শুধুমাত্র মানুষের মধ্য হতেই এসেছেন, জিনদের মধ্য হতে কোন জিন রাসূল আসেনি। তাহলে এখানে যেমন মানব ও দানবের মধ্য হতে রাসূল আগমনের কথা প্রয়োগ শুদ্ধ হয়েছে, তেমনি এ আয়াতের দুটি সমুদ্রের ওপরই মুক্তা ও প্রবাল উৎপন্ন হওয়ার প্রয়োগ সঠিক হয়েছে।

اللُّؤْلُؤُ মুক্তা যা প্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত জিনিস। الْمَرْجَان- কেউ বলেছেন : ছোট মুক্তাকে বলা হয়, আবার কেউ বলেছেন : বড় মুক্তাকে বলা হয়। ইবনু জারীর কতক সালাফদের থেকে এ বর্ণনা নিয়ে এসেছেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ বলেন : মারজান হলো লাল মোহর। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন : (وَمِنْ كُلٍّ تَأْكُلُوْنَ لَحْمًا طَرِيًّا وَّتَسْتَخْرِجُوْنَ حِلْيَةً تَلْبَسُوْنَهَا) “তোমরা প্রত্যেকটি থেকেই টাটকা গোশত খাও এবং আহরণ কর মণি-মুক্তার অলঙ্কার যা তোমরা পরিধান কর।” (সূরা ফাতির ৩৫ : ১২)

মাছ লোনা ও মিষ্টি উভয় পানিতেই হয়ে থাকে, কিন্তু মণি-মুক্তা শুধু লোনা পানির মধ্যেই পাওয়া যায়, মিষ্টি পানিতে না। (ইবনু কাসীর)

ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন : আকাশ হতে যখন বৃষ্টি বর্ষণ হয় তখন সমুদ্রের ঝিনুক তাদের মুখ খুলে দেয়। বৃষ্টির যে ফোঁটা ঝিনুকের মাঝে পড়ে সেটাই মুক্তা হয়। (সনদ সহীহ, ইবনু আবী হাতেম- হা. ১৮৭৩৩-৪)

(وَلَهُ الْجَوَارِ الْمُنْشَاٰتُ)

‘পবর্ত সমতুল্য জাহাজসমূহ তাঁরই নিয়ান্ত্রণাধীন, যা সমুদ্রের বুকে চলাচল করে’ الْجَوَارِ হলো جارية-এর বহুবচন অর্থ হলো চলমান, الْمُنْشَاٰتُ অর্থ সুউচ্চ। অর্থাৎ সমুদ্রে চলমান পাহাড়সম উচ্চ জাহাজসমূহ একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার নিয়ন্ত্রণাধীন।

সূরা শূরাতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(وَمِنْ اٰيٰتِهِ الْجَوَارِ فِي الْبَحْرِ كَالْأَعْلَامِ)

‏“তাঁর মহা নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত হল পর্বত সদৃশ সমুদ্রে চলমান নৌযানসমূহ।” (সূরা শূরা- ৪২ : ৩২)

‘উমায়রাহ্ ইবনু সা‘দ বলেন : একদা আমি ‘আলী (রাঃ)-এর সাথে ফুরাত নদীর তীরে ছিলাম। নদীতে একটি বিরাট জাহাজ চলে আসছিল। জাহাজটিকে দেখে ‘আলী (রাঃ) ঐ জাহাজটির দিকে ইশারা করে

(وَلَهُ الْجَوَارِ الْمُنْشَاٰتُ فِي الْبَحْرِ كَالْأَعْلَامِ)

আয়াতটি পাঠ করেন। অতঃপর বলেন : যিনি এ পর্বত সদৃশ জাহাজকে নদীতে চালিত করছেন ঐ আল্লাহ তা‘আলার কসম! আমি ‘উসমান (রাঃ)-কে হত্যা করিনি হত্যা করার ইচ্ছাও করিনি এবং হত্যাকারীদের সাথে শরীকও ছিলাম না। (ইবনু কাসীর)

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :

১. মানব ও দানব সৃষ্টির মূল উপাদান জানলাম।

২. গ্রীষ্মকাল ও শীতকালে সূর্যের উদয় ও অস্তে পার্থক্য রয়েছে।

৩. মণিমুক্তা ও প্রবাল উৎপাদনের প্রক্রিয়া ও স্থান জানলাম।

৪. সমুদ্রে পাহাড়সম জাহাজ চলে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার কৃপায়।

Tafsir Resource

QUL supports exporting tafsir content in both JSON and SQLite formats. Tafsir text may include <html> tags for formatting such as <b>, <i>, etc.

Example JSON Format:

{
  "2:3": {
    "text": "tafisr text.",
    "ayah_keys": ["2:3", "2:4"]
  },
  "2:4": "2:3"
}
  • Keys in the JSON are "ayah_key" in "surah:ayah", e.g. "2:3" means 3rd ayah of Surah Al-Baqarah.
  • The value of ayah key can either be:
    • an object — this is the main tafsir group. It includes:
      • text: the tafsir content (can include HTML)
      • ayah_keys: an array of ayah keys this tafsir applies to
    • a string — this indicates the tafsir is part of a group. The string points to the ayah_key where the tafsir text can be found.

SQLite exports includes the following columns

  • ayah_key: the ayah for which this record applies.
  • group_ayah_key: the ayah key that contains the main tafsir text (used for shared tafsir).
  • from_ayah / to_ayah: start and end ayah keys for convenience (optional).
  • ayah_keys: comma-separated list of all ayah keys that this tafsir covers.
  • text: tafsir text. If blank, use the text from the group_ayah_key.