Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Ar-Rahman — Ayah 70

وَلِمَنۡ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِۦ جَنَّتَانِ ٤٦ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٤٧ ذَوَاتَآ أَفۡنَانٖ ٤٨ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٤٩ فِيهِمَا عَيۡنَانِ تَجۡرِيَانِ ٥٠ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٥١ فِيهِمَا مِن كُلِّ فَٰكِهَةٖ زَوۡجَانِ ٥٢ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٥٣ مُتَّكِـِٔينَ عَلَىٰ فُرُشِۭ بَطَآئِنُهَا مِنۡ إِسۡتَبۡرَقٖۚ وَجَنَى ٱلۡجَنَّتَيۡنِ دَانٖ ٥٤ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٥٥ فِيهِنَّ قَٰصِرَٰتُ ٱلطَّرۡفِ لَمۡ يَطۡمِثۡهُنَّ إِنسٞ قَبۡلَهُمۡ وَلَا جَآنّٞ ٥٦ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٥٧ كَأَنَّهُنَّ ٱلۡيَاقُوتُ وَٱلۡمَرۡجَانُ ٥٨ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٥٩ هَلۡ جَزَآءُ ٱلۡإِحۡسَٰنِ إِلَّا ٱلۡإِحۡسَٰنُ ٦٠ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٦١ وَمِن دُونِهِمَا جَنَّتَانِ ٦٢ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٦٣ مُدۡهَآمَّتَانِ ٦٤ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٦٥ فِيهِمَا عَيۡنَانِ نَضَّاخَتَانِ ٦٦ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٦٧ فِيهِمَا فَٰكِهَةٞ وَنَخۡلٞ وَرُمَّانٞ ٦٨ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٦٩ فِيهِنَّ خَيۡرَٰتٌ حِسَانٞ ٧٠ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٧١ حُورٞ مَّقۡصُورَٰتٞ فِي ٱلۡخِيَامِ ٧٢ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٧٣ لَمۡ يَطۡمِثۡهُنَّ إِنسٞ قَبۡلَهُمۡ وَلَا جَآنّٞ ٧٤ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٧٥ مُتَّكِـِٔينَ عَلَىٰ رَفۡرَفٍ خُضۡرٖ وَعَبۡقَرِيٍّ حِسَانٖ ٧٦ فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٧٧ تَبَٰرَكَ ٱسۡمُ رَبِّكَ ذِي ٱلۡجَلَٰلِ وَٱلۡإِكۡرَامِ ٧٨

৪৬-৭৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর :

পূর্বের আয়াতে জাহান্নামীদের দুর্ভোগের কথা আলোচনার পর এখানে জান্নাতীদের পরম সুখ সাচ্ছন্দ্যের কথা তুলে ধরেছেন।

(وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّه۪ جَنَّتٰنِ)

‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দু‘টি জান্নাত’ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : যে ব্যক্তি এ ভয় করে যে, কিয়ামতের দিন স্বীয় প্রতিপালকের সামনে দাঁড়িয়ে হিসাব দিতে হবে সে আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্য কাজ হতে বিরত থাকে এবং নিজেকে কু-প্রবৃত্তি হতে হেফাযত করে, দুনিয়াকে প্রাধান্য না দিয়ে আখিরাতকে প্রাধান্য দেয় এবং সে জানে আখিরাতই শ্রেষ্ঠ। ফলে শরীয়তের ফরযগুলো যথাযথ আদায় করে, হারাম কাজ থেকে বিরত থাকে তার জন্য কিয়ামত দিবসে দু’টি জান্নাত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : দু’টি জান্নাত হবে রৌপ্যের এবং তার আসবাবপত্রসহ তার ভেতরে যা কিছু আছে সব।

আর দুটি জান্নাত হবে স্বর্ণের এবং তার আসবাবপত্র ও তার ভেতরে যা আছে সব। জান্নাতবাসী ও আল্লাহর দীদারের মাঝে কোন প্রতিবন্ধকতা থাকবে না কেবলমাত্র তাঁর কিবরিয়ার চাঁদর যা তাঁর চেহারার ওপর, থাকবে। এটা থাকবে আদন নামক জান্নাতে। (সহীহ বুখারী হা. ৪৮৮০, সহীহ মুসলিম, অনুচ্ছেদ : মু’মিনরা কিয়ামতের দিন আল্লাহকে দেখবে)

আবূ দারদা (রাঃ) একদা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মিম্বারে বর্ণনা করতে শুনলেন

(وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّه۪ جَنَّتٰنِ)

‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দু‘টি জান্নাত’ আমি বললাম : হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! সে যদি ব্যভিচার করে ও চুরি করে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দ্বিতীয়বার উক্ত আয়াত তেলাওয়াত করলেন। আমি দ্বিতীয়বার বললাম : হে আল্লাহর রাসূল! সে যদি ব্যভিচার করে ও চুরি করে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তৃতীয়বার প্রাগুক্ত আয়াত তেলাওয়াত করলেন। আমি তৃতীয়বার বললাম : হে আল্লাহর রাসূল! সে যদি ব্যভিচার করে ও চুরি করে? তিনি বলেন, যদিও আবূ দারদার নাক ধূলায় ধূসরিত হয়। (সনদ সহীহ, আহমাদ হা. ৮৬৮৩)

(ذَوَاتَآ أَفْنَانٍ) ‘উভয়টি বহু শাখাপল্লববিশিষ্ট বৃক্ষে ফলমূল দ্বারা ভরপুর’ أَفْنَانٍ শব্দটি فن এর বহুবচন, অর্থ ডালপালা। এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তাতে ছায়া হবে ঘন ও সুনিবিড়। অনুরূপ ফলও হবে অধিক হারে। প্রতিটি ডাল ফলে পরিপূর্ণ থাকার কারণে ডালগুলো ঝুঁকে পড়বে। (ইবনু কাসীর)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : নিশ্চয়ই জান্নাতে একটি গাছ রয়েছে, একজন আরোহী দ্রুতগতিসম্পন্ন একটি ঘোড়ায় চড়ে ১০০ বছর চলেও তা অতিক্রম করতে পারবে না। অন্য বর্ণনায় রয়েছে একজন আরোহী তার ছায়ার নীচ দিয়ে একশত বছর অতিক্রম করেও শেষ করতে পারবে না। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম হা. ২৮২৮, ২৮২৬)

(فِيْهِمَا عَيْنَانِ تَجْرِيٰنِ)

‘উভয়টিতে রয়েছে সদা প্রবহমান দু‘টি ঝর্ণাধারা’ দু’টি প্রস্রবণের একটি হলো “তাসনীম” অপরটি হলো “সাল সাবিল” এ উক্তি হাসান বাসরী (রহঃ)। (ইবনু কাসীর)

(فِيْهِمَا مِنْ كُلِّ فَاكِهَةٍ زَوْجٰنِ)

‘উভয় বাগানে রয়েছে প্রত্যেক ফল দুই প্রকার’ অর্থাৎ প্রত্যেক শ্রেণির ফল হবে দুপ্রকারের। প্রত্যেকটির স্বাদ ও রং হবে ভিন্ন তবে সবই সুস্বাদু ও মিষ্টি। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, দুনিয়াতে কোন মিষ্টি বা টক গাছ নেই যার অনুরূপ জান্নাতে নেই এমনকি মাকালফল গাছও জান্নাতে থাকবে তবে তাও মিষ্টি হবে (কুরতুবী)।

(مُتَّكِئِيْنَ عَلٰي فُرُشٍۭ بَطَآئِنُهَا....)

‘সেখানে তারা হেলান দিয়ে বসবে” এটা হলো জান্নাতীদের জন্য তৈরি করে রাখা বিছানার বৈশিষ্ট্য। জান্নাতীরা আরাম ও আয়েশের জন্য সে সব বিছানায় রাজা বাদশাদের মতো হেলান দিয়ে বসে থাকবে- এখানে জান্নাতী বিছানার শুধু ভেতরের সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। বাহ্যিক সৌন্দর্য কেমন হবে তা আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া কেউ জানে না। শব্দটি بطانة এর বহুবচন, যা অভ্যন্তরে থাকে, ভেতর দিক। মোটা রেশমী কাপড়কে إِسْتَبْرَقٍ বলা হয়।

(وَجَنَي الْجَنَّتَيْنِ دَانٍ)

অর্থাৎ জান্নাতের ফল এত নিকটবর্তী হবে যে, বসে বসে এমনকি শুয়ে শুয়ে পাড়তে পারবে। আল্লাহ বলেন :

(وَدَانِيَةً عَلَيْهِمْ ظِلَالُهَا وَذُلِّلَتْ قُطُوْفُهَا تَذْلِيْلًا)

“জান্নাতের বৃক্ষছায়া তাদের ওপর ঝুঁকে থাকবে এবং ওর ফলমূল সম্পূর্ণরূপে তাদের আয়ত্তাধীন থাকবে।” (সূরা দাহর ৭৬ : ১৪)

যেমন আল্লাহ বলেন : (قُطُوْفُهَا دَانِيَةٌ)

“যার ফল-ফলাদি অতি নিকটে নাগালের মধ্যে থাকবে।” (সূরা হাক্কাহ্ ৬৯ : ২৩)

(فِيْهِنَّ قٰصِرٰتُ الطَّرْفِ.....)

‘‘সেখানে রয়েছে বহু আনতনয়না স্ত্রীগণ....” সে সকল বিছানায় রয়েছে এমন নারী যারা তাদের দৃষ্টিকে নিজ স্বামী ছাড়া অন্যদের থেকে অবনত রাখে। ইবনু জায়েদ বলেন : বর্ণিত আছে যে, জান্নাতী প্রত্যেক নারী তার স্বামীকে লক্ষ্য করে বলবে : আল্লাহর শপথ! আপনার চেয়ে উত্তম জান্নাতে আর কিছু দেখছি না। জান্নাতে আপনার চেয়ে আমার নিকট প্রিয় আর কিছুই নেই। তাই আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা যিনি আপনাকে আমার ভাগে দিয়েছেন। (ইবনু কাসীর)

(لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنْسٌ.....)

অর্থাৎ তারা হবে কুমারী, নব-যুবতী ও অবিবাহিতা যাদের সাথে কোন পুরুষ বা জিন সহবাস করেনি। এ আয়াত প্রমাণ করছে যে, জিন মু‘মিনরাও জান্নাতে যাবে, যেমন মানুষ মু’মিনরা জান্নাতে যাবে।

এ সকল জান্নাতী নারীদের আরো বৈশিষ্ট্য হল :

(كَأَنَّهُنَّ الْيَاقُوْتُ وَالْمَرْجَانُ)

অর্থাৎ মণিমুক্তা যেমন পরিস্কার স্বচ্ছ, তারাও ঠিক এমন।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : জান্নাতী নারীরা এমন যে, তার পদনালীর শুভ্রতা সত্তরটি রেশমের হুল্লার (পোশাক বিশেষ) মধ্য হতেও দেখা যাবে, এমনকি ভেতরের মজ্জাও দৃষ্টি-গোচর হবে। (তিরমিযী হা. ২৫৩৩, সহীহ)

অতঃপর তিনি

(كَأَنَّهُنَّ الْيَاقُوْتُ وَالْمَرْجَانُ)

‘তারা যেন হীরা ও মতি’ আয়াতটি তিলাওয়াত করেন এবং বলেন : ইয়াকুত একটি পাথর বটে কিন্তু যদি ওর মধ্যে সুতো পরিয়ে দেয়া হয় তবে বাইরে থেকে তা দেখা যাবে। (তিরমিযী হা. ২৫৩৩, হাসান সহীহ)

এ ছাড়াও জান্নাতী নারীদের সৌন্দর্য ও স্বামীর প্রতি তাদের ভালবাসার গভীরতার ব্যাপারে অনেক সহীহ হাদীস রয়েছে।

(هَلْ جَزَا۬ءُ الْإِحْسَانِ)

‘উত্তম কাজের পুরস্কার উত্তম (জান্নাত) ব্যতীত আর কী হতে পারে?’ আয়াতের প্রথম إحسان ইহসান এর অর্থ হলো : সৎ কর্ম ও আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য। আর দ্বিতীয় إحسان এর অর্থ হলো : প্রতিদান। অর্থাৎ যারা সৎকর্ম ও আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য করে তাদের জন্য উত্তম প্রতিদান ছাড়া আরো কিছু আছে কি? না, তাদের জন্য উত্তম প্রতিদানই রয়েছে।

(وَمِنْ دُوْنِهِمَا جَنَّتٰنِ)

অর্থাৎ এ জান্নাত দু’টি মর্যাদা ও ফযীলতের দিক দিয়ে সমান, এছাড়াও আরো দু’টি জান্নাত রয়েছে। যেমন ৪৬ নম্বর আয়াতের তাফসীরে হাদীস গত হয়েছে। অন্য একটি বর্ণনায় বলা হয়েছে স্বর্ণের জান্নাত مقربين তথা নৈকট্যশীলদের জন্য আর রৌপ্যের জান্নাত ডানপন্থীদের জন্য।

আব্দুল্লাহ ইবনু কায়েস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : (জান্নাতের মধ্যে) দুটি বাগান থাকবে। এ দুটির সকল পাত্র এবং এর ভেতর সকল বস্তু রৌপ্য নির্মিত হবে এবং (জান্নাতে) আরো দুটি বাগান থাকবে- এ দুটির সকল পাত্র এবং ভেতরের সকল বস্তু স্বর্ণের তৈরি হবে। জান্নাতে আদনের মধ্যে জান্নাতী লোকেরা তাদের প্রতিপালকের দর্শন লাভ করবে। এ জান্নাতবাসী এবং তাদের প্রতিপালকের এ দর্শনের মাঝে আল্লাহ তা‘আলার সত্তার ওপর জড়ানো তাঁর বড়ত্বের চাদর ছাড়া আর কোন অন্তরাল থাকবে না। (সহীহ বুখারী হা. ৪৮৭৮, সহীহ মুসলিম হা. ৭৪৪৪)

(مُدْهَآمَّتٰنِ)

অর্থাৎ অত্যধিক সতেজ ও সবুজ হওয়ার কারণে তা কালোর মতো দেখাবে।

(نَضَّاخَتٰنِ) অর্থাৎ فوارثان বা উচ্ছলিত।

(فِيْهِنَّ خَيْرَاتٌ حِسَانٌ)

‘সে সকলের মাঝে রয়েছে উত্তম চরিত্রের সুন্দরীগণ’ অধিকাংশ বিদ্বান বলেন : সতী সাধ্বী মহিলা যারা উত্তম চরিত্র ও অবয়বের অধিকারিণী। আবার বলা হয় জান্নাতে অনেক কল্যাণ রয়েছে (ইবনু কাসীর)।

(حُوْرٌ مَّقْصُوْرَاتٌ فِي الْخِيَامِ)

‘তাঁবুতে থাকবে সুরক্ষিত হূর’ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : জান্নাতে মতির তাঁবু হবে। তার প্রস্থ হবে ৬০ মাইল। তার প্রতি কোণে থাকবে জান্নাতী স্ত্রী। এক কোণের লোকদের অপর কোণের লোকেরা দেখতে পাবে না। মু’মিনরা তাতে বিচরণ করবে। (সহীহ বুখারী হা. ৩২৪৩)

( مُتَّكِئِيْنَ عَلٰي رَفْرَفٍ.....)

‘তারা হেলান দিয়ে বসবে এমন সবুজ আসনে এবং সুন্দর গালিচা’ অর্থ মসনদ, বালিশ, গালিচা অথবা এ ধরণের উৎকৃষ্ট বিছানা।

عَبْقَرِيٍّ প্রত্যেক উৎকৃষ্ট ও মূল্যবান জিনিসকে বলা হয়। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘উমার (রাঃ)-এর ক্ষেত্রে এ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। আমি কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি এমন দেখিনি যে, ‘উমারের মতো কাজ করতে পারে। (সহীহ বুখারী হা. ৩৬৮২, সহীহ মুসলিম, অনুচ্ছেদ : ‘উমার (রাঃ)-এর ফযীলত) অর্থাৎ জান্নাতীরা এমন আসনে হেলান দিয়ে উপবেশন করবে, যার ওপর সবুজ রঙের মসনদ, গালিচা এবং কারুকার্য খচিত উৎকৃষ্টমানের বিছানা বিছানো থাকবে।

(تَبَارَكَ اسْمُ رَبِّكَ ذِي الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ)

‘বরকতময় তোমার প্রতিপালকের নাম যিনি মহিমান্বিত ও সম্মানিত’ ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত শেষে এ দু‘আ পরিমাণ বসতেন :

اللّٰهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ، تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ

হে আল্লাহ তা‘আলা আপনি সালাম (শান্তি) আপনার পক্ষ থেকেই শান্তি আসে, আপনি বরকতময় হে মহিমান্বিত ও সম্মানিত। (সহীহ মুসলিম হা. ৫৯১)

সুতরাং প্রত্যেক মু‘মিন ব্যক্তির অবশ্যই এমন নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতে প্রবেশ আশা করা উচিত। শুধু আশা করলেই হবে না, সাথে সাথে সে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতের পাথেয় সংগ্রহ করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে তাঁর নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতে প্রবেশের পাথেয় সংগ্রহ করার তাওফীক দান করুন! আমীন।

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :

১. নেয়ামতে ভরপুর জান্নাতের বিবরণ পেলাম।

২. জান্নাতীদের আরাম-আয়েশ ইত্যাদি সম্পর্কে অবগত হলাম।

৩. জান্নাতী নারীদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানলাম।

৪. দুনিয়াতে ঈমানের সাথে সৎ আমল করলে আখিরাতে এ নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত লাভ করবে।

৫. মহিয়ান গরিয়ান বরকতময় আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত আমাদের ওপর প্রতিনিয়ত অসংখ্য নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা উচিত।

Tafsir Resource

QUL supports exporting tafsir content in both JSON and SQLite formats. Tafsir text may include <html> tags for formatting such as <b>, <i>, etc.

Example JSON Format:

{
  "2:3": {
    "text": "tafisr text.",
    "ayah_keys": ["2:3", "2:4"]
  },
  "2:4": "2:3"
}
  • Keys in the JSON are "ayah_key" in "surah:ayah", e.g. "2:3" means 3rd ayah of Surah Al-Baqarah.
  • The value of ayah key can either be:
    • an object — this is the main tafsir group. It includes:
      • text: the tafsir content (can include HTML)
      • ayah_keys: an array of ayah keys this tafsir applies to
    • a string — this indicates the tafsir is part of a group. The string points to the ayah_key where the tafsir text can be found.

SQLite exports includes the following columns

  • ayah_key: the ayah for which this record applies.
  • group_ayah_key: the ayah key that contains the main tafsir text (used for shared tafsir).
  • from_ayah / to_ayah: start and end ayah keys for convenience (optional).
  • ayah_keys: comma-separated list of all ayah keys that this tafsir covers.
  • text: tafsir text. If blank, use the text from the group_ayah_key.