You are reading tafsir of 14 ayahs: 56:13 to 56:26.
১৩-২৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
ثُلَّةٌ শব্দের অর্থ : দল। আল্লামা জামাখশারী (রহঃ) বলেন : বড় দলকে ثُلَّةٌ বলা হয়।
(ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ وَقَلِيلٌ مِنَ الْآخِرِينَ) ও
(ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ وَثُلَّةٌ مِنَ الْآخِرِينَ)
-এ আয়াতগুলোর ব্যাপারে যে শানে নুযুল পাওয়া যায় তা দুর্বল। (লুবাবুন নুকূল ফী আসবাবে নুযূল, পৃঃ ২৬৩)
আয়াতে উল্লিখিত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বলতে কাদেরকে বুঝানো হয়েছে সে ব্যাপারে মুফাস্সিরদের অনেক মতামত পাওয়া যায়।
মুজাহিদ, হাসান বাসরী প্রমুখদের মতে, পূর্ববর্তী বলতে উম্মতে মুহাম্মাদীর পূর্ববর্তী উম্মতসমূহকে বুঝানো হয়েছে। আর পরবর্তী বলতে উম্মতে মুহাম্মাদীকে বুঝানো হয়েছে।
ইবনু জারীর (রহঃ) এ মতকে পছন্দ করেছেন। তিনি দলীল উল্লেখ করেছেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন :
نَحْنُ الآخِرُونَ السَّابِقُونَ يَوْمَ القِيَامَةِ
আমরা সর্বশেষ উম্মত কিন্তু কিয়ামতের দিন অগ্রগামী। (সহীহ বুখারী হা. ৬৬২৪) তবে এ বিষয়ে সঠিক কথা হলো : পূর্ববর্তী বলতে, এ উম্মতের প্রথম যুগের মানুষকে বুঝানো হয়েছে তবে কেউ কেউ এর সাথে ইসলামের তিনটি স্বর্ণ যুগকেও শামিল করেছেন।
যেমন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন :
خَيْرُ الْقُرُوْنِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ
সর্বোত্তম যুগ আমার যুগ, অতঃপর তার পরবর্তী যুগ, অতঃপর তার পরবর্তী যুগ। (সহীহ বুখারী হা. ২৬৫১, সহীহ মুসলিম হা. ২৫৩৩ আযওয়াউল বায়ান ৭/৪৫৩) আল্লামা সা‘দী (রহঃ) বলেছেন :
جماعة كثيرون من المتقدمين من هذه الأمة وغيرهم
অর্থাৎ এ উম্মতের প্রথম সারির ও অন্যান্যদের অধিক সংখ্যার একটি দল। (তাফসীর সা‘দী)
আর পরবর্তী বলতে এ উম্মতের উল্লিখিত পূর্ববর্তী মানুষ বা যুগের মানুষ ব্যতীত কিয়ামত পর্যন্ত যারা আসবে সবাই শামিল। (ইবনু কাসীর, তাফসীর সা‘দী ও তাফসীর মুয়াসসার) এ কথার ওপরে প্রমাণ বহন করে ইবনু আব্বাসের বর্ণনা, তিনি
(ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ وَثُلَّةٌ مِنَ الْآخِرِينَ)
এ আয়াতের ব্যাপারে বলেছেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : তারা সবাই আমার উম্মত (কুরতুবী)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন :
أَهْلُ الجَنَّةِ عِشْرُونَ وَمِائَةُ صَفٍّ ثَمَانُونَ مِنْهَا مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ وَأَرْبَعُونَ مِنْ سَائِرِ الأُمَمِ
জান্নাতবাসীগণ একশত বিশ কাতারে বিভক্ত হবে; তার মধ্যে আশি কাতার এ উম্মতের অর্ন্তভুক্ত, বাকী চল্লিশ কাতার অন্যান্য সকল উম্মতের অন্তর্ভুক্ত। (সহীহ, তিরমিযী হা. ২৫৪৬, মিশকাত হা. ৫৬৪৪)
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতীরা জান্নাতে যে আরাম আয়েশে থাকবে তার বিবরণ তুলে ধরেছেন।
مَّوْضُوْنَةٍ বলা হয় নির্মিত, খচিত। অর্থাৎ জান্নাতীরা স্বর্ণের তৈরি মণিমুক্তা খচিত আসনে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে বালিশের ওপর হেলান দিয়ে বসবে। তখন চিরকিশোর যারা কখনো বৃদ্ধ হবে না এবং শারীরিক গঠনে কোন পরিবর্তন আসবে না তারা পানপাত্র, সুরাপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে তাদের সামনে ঘোরাফেরা করবে। যা পান করলে মাথা ব্যথা হবে না এবং জ্ঞান হারাও হবে না। এসব জান্নাতী কিশোরদের বিবরণ দিতে আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন :
(وَيَطُوْفُ عَلَيْهِمْ غِلْمَانٌ لَّهُمْ كَأَنَّهُمْ لُؤْلُؤٌ مَّكْنُوْنٌ)
“তাদের সেবার জন্য নিয়োজিত থাকবে কিশোরেরা যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা সদৃশ।” (সূরা তূর ৫২ : ২৪)
الْمَكْنُوْنِ অর্থ সুরক্ষিত, যাতে কখনো হাতের স্পর্শ লাগেনি। অর্থাৎ জান্নাতীদেরকে এমন হুর প্রদান করা হবে যাদেরকে ইতোপূর্বে স্পর্শ করা হয়নি। দুনিয়াবী নারীদের যেসব সমস্যা হয় তাদের এরূপ কোন সমস্যাও হবে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
أَعْدَدْتُ لِعِبَادِي الصَّالِحِينَ مَا لاَ عَيْنٌ رَأَتْ، وَلاَ أُذُنٌ سَمِعَتْ، وَلاَ خَطَرَ عَلَي قَلْبِ بَشَرٍ
আমি আমার সৎ বান্দাদের জন্য এমন কিছু তৈরি করে রেখেছি যা কোন চক্ষু দেখেনি, কোন কান তা শোনেনি এবং কোন মানুষের অন্তরে তা অনুভূতও হয়নি। (সহীহ বুখারী হা. ৩২৪৪, সহীহ মুসলিম হা. ২৮২৪)
(لَا يَسْمَعُوْنَ فِيْهَا لَغْوًا)
‘তারা শুনবে না কোন অসার অথবা পাপ বাক্য’ অর্থাৎ পৃথিবীতে পরস্পর দ্বন্দ্ব বিবাদ হয়। যার ফলে অন্তরে জন্ম নেয় এমন ঘৃণা, বিদ্বেষ ও শত্র“তা যা একে অপরের বিরুদ্ধে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার, গালিগালাজ ইত্যাদি করার প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়। জান্নাতে জান্নাতীরা এ সমস্ত চারিত্রিক নোংরামী ও পংকিলতা থেকে কেবল পবিত্রই থাকবে না, বরং সেখানে শুধু সালাম আর সালামের ধ্বনি মুখরিত হবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. উম্মতে মুহাম্মাদীর ও অন্যান্য উম্মতের অনেক সংখ্যক লোক জান্নাতে যাবে।
২. জান্নাতীগণ জান্নাতে যে সকল নেয়ামত পাবে তার বিবরণ অবগত হলাম।
QUL supports exporting tafsir content in both JSON and SQLite formats.
Tafsir text may include <html> tags for formatting such as <b>,
<i>, etc.
Note:
Tafsir content may span multiple ayahs. QUL exports both the tafsir text and the ayahs it applies to.
Example JSON Format:
{
"2:3": {
"text": "tafisr text.",
"ayah_keys": ["2:3", "2:4"]
},
"2:4": "2:3"
}
"ayah_key" in "surah:ayah", e.g. "2:3" means
3rd ayah of Surah Al-Baqarah.
text: the tafsir content (can include HTML)ayah_keys: an array of ayah keys this tafsir applies toayah_key where the tafsir text can be found.
ayah_key: the ayah for which this record applies.group_ayah_key: the ayah key that contains the main tafsir text (used for shared tafsir).
from_ayah / to_ayah: start and end ayah keys for convenience (optional).ayah_keys: comma-separated list of all ayah keys that this tafsir covers.text: tafsir text. If blank, use the text from the group_ayah_key.