You are reading tafsir of 8 ayahs: 56:75 to 56:82.
৭৫-৮২ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
فَلَآ أُقْسِمُ এখানে لا আরবী অক্ষরটি কতক মুফাসসিরদের মতে অতিরিক্ত। মূল বাক্য হল
(أُقْسِمُ بِمَوَاقِعِ النُّجُوْمِ)।
আর কতক মুফাসসিরগণ বলেছেন : এখানে لا অক্ষরটি অতিরিক্ত না, তবে তার কোন অর্থ এখানে হবে না। বরং এরূপ নিয়ে আসা হয় তখন, যখন না বোধক বিষয়ে শপথ করা হয়। এরূপ সূরা কিয়ামার শুরুতে আছে।
(بِمَوَاقِعِ النُّجُوْمِ)
এর অর্থ নিয়ে কয়েকটি মতামত পাওয়া যায়। যেমন : ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : এর অর্থ হল কুরআনের অবতরণ। কুরআন কদরের রাতে ঊর্ধ্বাকাশ থেকে দুনিয়ার আকাশে একত্রে অবতীর্ণ হয়। অতঃপর প্রয়োজন মত দুনিয়াতে অবতীর্ণ হতে থাকে। এভাবে কয়েক বছরে পূর্ণ কুরআন অবতীর্ণ হয়। তারপর ইবনু আব্বাস (রাঃ) এ আয়াত তেলাওয়াত করেন। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন : আকাশে নক্ষত্ররাজির অস্তাচল। যেমন বলা হয়
مطالعها ومشارقها
হাসান বাসরী ও কাতাদাহ (রহঃ) এ কথা বলেছেন। ইবনু জারীর (রহঃ) এ মত পছন্দ করেছেন।
অন্যত্র হাসান বাসরী (রহঃ) বলেন : এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল কিয়ামতের দিন যখন তারকা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়বে। (ইবনু কাসীর)
এখানে مَوَاقِعِ দ্বারা উদ্দেশ্য তারকারজির উদয়াচল ও অস্তাচল এবং তাদের গন্তব্যস্থল ও কক্ষপথ।
(وَإِنَّه۫ لَقَسَمٌ لَّوْ تَعْلَمُوْنَ عَظِيْمٌ)
অর্থাৎ অবশ্যই এটা এক মহা শপথ। কেননা, তারকার উদয় অস্তর গন্তব্য ও চলার কক্ষপথ একটি সীমাহীন বড় ধরণের নিদর্শন।
(إِنَّه۫ لَقُرْاٰنٌ كَرِيْمٌ)
‘নিশ্চয়ই এটা সম্মানিত কুরআন’ এ আয়াতটি পূর্বের আয়াতের শপথের জবাব। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা তারকার উদয় ও অস্তাচলের শপথ করে বলছেন যে, নিশ্চয়ই এ কুরআন একটি সম্মানিত কুরআন, এটা সাধারণ কোন বিদ্যা নয়। এতে যা কিছু রয়েছে তাতে কোন সংশয় নেই, তা আল্লাহর কালাম- নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য চিরস্থায়ী মু‘জিযাহ।
مَّكْنُوْنٍ অর্থ مستور عن عين الخلق
বা মানুষের দৃষ্টির আড়াল। ইবনুল কায়্যিম (রহঃ) বলেন : এর উদ্দেশ্য কী তা নিয়ে একাধিক মত পাওয়া যায়, কেউ বলেন : এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল লাওহে মাহফূজ। অর্থাৎ এ কুরআন লাওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ, সংরক্ষিত। সঠিক কথা হল : ফেরেশতাদের হাতে যে কিতাব রয়েছে এখানে সে কিতাব উদ্দেশ্য। যেমন আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন :
(فِیْ صُحُفٍ مُّکَرَّمَةٍﭜﺫ مَّرْفُوْعَةٍ مُّطَھَّرَةٍۭﭝبِاَیْدِیْ سَفَرَةٍﭞکِرَامٍۭ بَرَرَةٍ)
“তা সম্মানিত কিতাবে (লাওহ মাহফূজে) লিপিবদ্ধ যা উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন পবিত্র। এমন লেখকদের হাতে থাকে। যারা সম্মানিত ও সৎ।” (সূরা আবাসা ৮০ : ১৩-১৬)
(لَّا یَمَسُّھ۫ٓ اِلَّا الْمُطَھَّرُوْنَ)
পূতপবিত্রগণ ছাড়া অন্য কেউ তা স্পর্শ করে না। আয়াতের তাফসীরে বিভিন্ন মুফাসসিরদের মতামত তুলে ধরা হল :
১. তাফসীর মুয়াসসারে বলা হয়েছে : মাত্র ঐসকল ফেরেশতারাই কুরআন স্পর্শ করে যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা সকল প্রকার আপদ-বিপদ (أفات) ও গুনাহ থেকে পবিত্র করে রেখেছেন। অনুরূপভাবে এ কুরআনকে যারা শিরক ও অপবিত্রতা থেকে মুক্ত তারাই স্পর্শ করবে। (তাফসীর মুয়াসসার)
২. আয়সারুত তাফাসীরে বলা হয়েছে : কুরআন চাই লাওহে মাহফূজে হোক আর কপি আকারে আমাদের হাতে থাকুক তা ছোট-বড় সকল প্রকার অপবিত্রতা থেকে মুক্ত ব্যক্তিরাই স্পর্শ করবে। (আয়সারুত তাফাসীর)
৩. আল্লামা সা‘দী (রহঃ) বলেন : কুরআন সম্মানিত ফেরেশতা ছাড়া কেউ স্পর্শ করতে পারবে না, যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা বিপদ, গুনাহ ও ত্র“টি থেকে মুক্ত রেখেছেন। সুতরাং যখন পবিত্র ফেরেশতা ছাড়া তা স্পর্শ করতে পারবে না তখন শয়তান ও অপবিত্র কেউ স্পর্শ করার কোন প্রশ্নই আসে না। এ আয়াত (সতর্ককারীস্বরূপ) প্রমাণ করছে যে, কুরআন পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া স্পর্শ করতে পারবে না। (তাফসীর সা‘দী)
ইবনু আব্বাস (রাঃ)-সহ প্রমুখ সাহাবী ও তাবেয়ী বলেন : আয়াতে কিতাব দ্বারা আকাশে যে কিতাব আছে তা উদ্দেশ্য, আর পবিত্রগণ দ্বারা ফেরেশতা উদ্দেশ্য।
কাতাদাহ (রহঃ) বলেন : আল্লাহ তা‘আলার কাছে যে কিতাব আছে তা পবিত্রগণ ছাড়া কেউ স্পর্শ করতে পারে না। আর দুনিয়ায় যে কুরআন আছে তা অপবিত্র অগ্নিপূজক, মুনাফিক সবাই স্পর্শ করে থাকে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোম ও পারস্যসহ বিভিন্ন অমুসলিম রাষ্ট্র প্রধানের কাছে কুরআনের আয়াত সম্বলিত চিঠি প্রেরণ করেছেন। তারা তা স্পর্শ করেছে। বিশিষ্ট তাবেয়ী আবুল আলিয়া (রহঃ) উক্ত মতকে সমর্থন করে বলেন : এ আয়াত দ্বারা তোমরা পাপাচারীরা উদ্দেশ্য না। ইবনু জায়েদ (রহঃ) বলেন : কুরাইশদের কাফিররা ধারণা করত এ কুরআন শয়তান নিয়ে এসেছে। তাই আল্লাহ তা‘আলা বলে দিলেন, এ কুরআন পবিত্রগণ ছাড়া কেউ স্পর্শ করে না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَمَا تَنَزَّلَتْ بِھِ الشَّیٰطِیْنُﰡوَمَا یَنْۭبَغِیْ لَھُمْ وَمَا یَسْتَطِیْعُوْنَﰢ اِنَّھُمْ عَنِ السَّمْعِ لَمَعْزُوْلُوْنَ)
“শয়তানরা (এ কুরআন) তাসহ অবতীর্ণ হয়নি। তারা এ কাজের যোগ্য নয় এবং তারা এটার সামর্থ্যও রাখে না। তাদেরকে (ওয়াহী) শ্রবণের সুযোগ হতে দূরে রাখা হয়েছে।” ( সূরা শুয়ারা ২৬ : ২১০-২১২)
ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন : এ কথাটা উত্তম, তবে এ কথা পূর্বের কথাগুলোর বিপরীত নয়।
অন্যান্যরা বলেন : যারা ছোট ও বড় সকল প্রকার অপবিত্রতা থেকে মুক্ত তারাই এ কুরআন স্পর্শ করবে। এমতাবস্থায় لَّا یَمَسُّھ۫ٓ সংবাদসূচক বাক্যটির অর্থ হবে নিষেধসূচক, অর্থাৎ পবিত্রতা ছাড়া কুরআনের কপি স্পর্শ কর না। যেমন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : পবিত্রতা ছাড়া কুরআন স্পর্শ করবে না। (আবূ দাঊদ (মারাসিল) হা. ৯৪, সহীহুল জামে হা. ৭৭৮০)
উক্ত আলোচনা থেকে বুঝা গেল উক্ত আয়াতটি যদিও লাওহে মাহফূজে অবস্থিত কুরআন ও ফেরেশতাদের ব্যাপারে বলা হয়েছে কিন্তু মানুষেরাও এ সম্বোধনের অন্তর্ভুক্ত। তাই মুসলিমদের পবিত্র অবস্থা ছাড়া কুরআনকে স্পর্শ করা উচিত নয়। আল্লাহ তা‘আলা ভাল জানেন।
(أَفَبِهٰذَا الْحَدِيْثِ)
এখানে حديث দ্বারা কুরআন উদ্দেশ্য।
مُّدْهِنُوْنَ - এর এখানে অর্থ হল : মিথ্যাপ্রতিপন্ন করা। অর্থাৎ তোমরা এ সম্মানিত কুরআন যা পবিত্র ফেরেশতা ছাড়া কোন শয়তান স্পর্শ করতে পারে না তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছ?
(وَتَجْعَلُوْنَ رِزْقَكُمْ...)
ইবনু আব্বাস (রাঃ) এ আয়াতের তাফসীর করে বলেন : তোমরা আল্লাহ তা‘আলার নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে মিথ্যে প্রতিপন্ন কর ও কুফরী কর। (ইবনু কাসীর) যেমন বৃষ্টি পাওয়া একটি নেয়ামত। তোমরা আল্লাহ তা‘আলার এ নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে বলে থাক, অমুক তারকার কারণে বৃষ্টি পেয়েছি বা অমুক কারণে বৃষ্টি পেয়েছি। মূলত তোমাদের উচিত ছিল আল্লাহ তা‘আলার এ নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা। তোমরা তা না করে অমুক অমুক কথা বলছ।
জায়েদ বিন খালেদ (রাঃ) বলেন : একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতের বৃষ্টি শেষে হুদায়বিয়াতে আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করেন। সালাত শেষে সাহাবীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন : তোমরা কি জান, তোমাদের প্রতিপালক কী বলেন? তারা বলল : আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভাল জানেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন : আমার একশ্রেণির বান্দা সকাল করে মু’মিন অবস্থায়, আরেক শ্রেণি সকাল করে কাফির অবস্থায়। যারা বলে : আল্লাহ তা‘আলার রহমতে বৃষ্টি অবতীর্ণ হয়েছে তারা আমার প্রতি ঈমানদার তারকার প্রতি কাফির। আর যারা বলে : অমুক অমুক তারকার কারণে বৃষ্টি হয়েছে তারা আমার প্রতি কাফির তারকার প্রতি বিশ্বাসী।
সুতরাং একজন মু’মিন যে কোন প্রকার রিযিক পেয়ে আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া আদায় করবে, রিযিক পেয়ে বলবে না যে, অমুক কারণে এ রিযিক পেয়েছি।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. কুরআনের সম্মান ও মর্যাদা জানলাম।
২. কুরআন পবিত্র অবস্থায় ধরা ও পাঠ করা আবশ্যক।
৩. কোন তারকা উদয়ের কারণে বৃষ্টি হয় না বরং বৃষ্টি আল্লাহ তা‘আলার একটি নেয়ামত যখন ইচ্ছা তা দিয়ে থাকেন। তাই সকল নেয়ামতের জন্য একমাত্র তাঁরই শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
QUL supports exporting tafsir content in both JSON and SQLite formats.
Tafsir text may include <html> tags for formatting such as <b>,
<i>, etc.
Note:
Tafsir content may span multiple ayahs. QUL exports both the tafsir text and the ayahs it applies to.
Example JSON Format:
{
"2:3": {
"text": "tafisr text.",
"ayah_keys": ["2:3", "2:4"]
},
"2:4": "2:3"
}
"ayah_key" in "surah:ayah", e.g. "2:3" means
3rd ayah of Surah Al-Baqarah.
text: the tafsir content (can include HTML)ayah_keys: an array of ayah keys this tafsir applies toayah_key where the tafsir text can be found.
ayah_key: the ayah for which this record applies.group_ayah_key: the ayah key that contains the main tafsir text (used for shared tafsir).
from_ayah / to_ayah: start and end ayah keys for convenience (optional).ayah_keys: comma-separated list of all ayah keys that this tafsir covers.text: tafsir text. If blank, use the text from the group_ayah_key.