Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Al-Hadid — Ayah 3

سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ وَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ ١ لَهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ يُحۡيِۦ وَيُمِيتُۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٌ ٢ هُوَ ٱلۡأَوَّلُ وَٱلۡأٓخِرُ وَٱلظَّٰهِرُ وَٱلۡبَاطِنُۖ وَهُوَ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمٌ ٣

নামকরণ :

اَلْحَدِيْدُ শব্দের অর্থ : লোহা। اَلْحَدِيْدُ শব্দটি অত্র সূরার ২৫ নম্বর আয়াতে উল্লেখ আছে সেখান থেকেই উক্ত নামে সূরার নামকরণ করা হয়েছে।

ফযীলত :

অত্র সূরার ফযীলতের ব্যাপারে সাহাবী ইরবায বিন সারিয়াহ (রাঃ) হতে হাদীস বর্ণনা করে বলা হয় : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শয়নের পূর্বে ঐ সূরাগুলো পাঠ করতেন যেগুলোর শুরুতে سَبَّحَ বা يُسَبِّحُ রয়েছে এবং বলতেন : এগুলোর মধ্যে এমন একটি আয়াত রয়েছে যা হাজার আয়াত হতেও উত্তম। কিন্তু হাদীসটি দুর্বল। (আবূ দাঊদ হা. ৫০৫৭, তিরমিযী হা. ২৯২১)

ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেছেন : এ হাদীসে যে আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে (আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন) তা হল :

(ھُوَ الْاَوَّلُ وَالْاٰخِرُ وَالظَّاھِرُ وَالْبَاطِنُﺆ وَھُوَ بِکُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمٌ)

“তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই জাহের, তিনিই বাতেন এবং তিনি সর্ববিষয়ে অধিক অবহিত।”

সূরাতে কয়েকটি বিষয়ের আলোচনা স্থান পেয়েছে যেমন, আল্লাহ তা‘আলার শানে অনুপযোগী এমন সবকিছু থেকে প্রতিটি সৃষ্টি মহান আল্লাহকে পবিত্রতা ঘোষণা করে, আল্লাহ তা‘আলার কয়েকটি গুণাবলীর বিবরণ, ছয়দিনে আকাশ-জমিন সৃষ্টি, আল্লাহ তা‘আলার পথে জান-মাল উৎসর্গের জন্য মু’মিনদেরকে আহ্বান, প্রকৃত দৃষ্টিতে দুনিয়া ও আখিরাতের মূল্য, পুল-সিরাতে মু’মিনদের উজ্জ্বলাকৃতি ও মুনাফিকদের বিপরীত অবস্থা ইত্যাদি আলোচনা করা হয়েছে।

১-৩ নম্বর আয়াতের তাফসীর :

আকাশ-জমিন ও এতদুভয়ের মাঝে যা কিছু আছে সব কিছু আল্লাহ তা‘আলার তাসবীহ পাঠ করে (চাই তা জড় পদার্থ হোক কিম্বা জীব হোক), মহান আল্লাহর শানে যা অনুপযোগী ও আল্লাহ তা‘আলাকে যেসব গুণে গুণান্বিত করা যায় না সেসব কিছু থেকে পবিত্রতা বর্ণনা করে। এ সম্পর্কিত আয়াত অনেক রয়েছে, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(تُسَبِّحُ لَھُ السَّمٰوٰتُ السَّبْعُ وَالْاَرْضُ وَمَنْ فِیْھِنَّﺚ وَاِنْ مِّنْ شَیْءٍ اِلَّا یُسَبِّحُ بِحَمْدِھ۪ وَلٰکِنْ لَّا تَفْقَھُوْنَ تَسْبِیْحَھُمْﺚ اِنَّھ۫ کَانَ حَلِیْمًا غَفُوْرًا)

“সপ্ত আকাশ, পৃথিবী এবং তাদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছু তাঁরই পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং এমন কিছু নেই যা তাঁর সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে না; কিন্তু তাদের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা তোমরা অনুধাবন করতে পার না; নিশ্চয়ই তিনি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।” (সূরা ইসরা ১৭ : ৪৪)

অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন :

(اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللہَ یُسَبِّحُ لَھ۫ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَالطَّیْرُ صٰ۬فّٰتٍﺚ کُلٌّ قَدْ عَلِمَ صَلَاتَھ۫ وَتَسْبِیْحَھ۫)

“তুমি কি দেখ না যে, আকাশসমূহ ও পৃথিবীতে যারা আছে তারা এবং উড্ডীয়মান পাখিগুলো আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে? প্রত্যেকেই জানে তার প্রার্থনা ও পবিত্রতা ঘোষণার পদ্ধতি।” (সূরা নূর ২৪ : ৪১)

সুতরাং তাসবীহ শব্দটি যখন আল্লাহ তা‘আলার শানে ব্যবহার হবে তখন তার অর্থ হল- যা আল্লাহ তা‘আলার শানে উপযোগী নয় তা থেকে বিশ্বাসে, কথায় ও আমলে পূত-পবিত্রতা ঘোষণা করা। আল্লাহ তা‘আলার স্ত্রী-সন্তান রয়েছে, তাঁর শরীক আছে, আল্লাহ তা‘আলা নিরাকার, আল্লাহ তা‘আলা সকল ক্ষমতা ওলীদের হাতে দিয়ে নিজে রিক্তহস্ত ইত্যাদি থেকে বিশ্বাসকে পবিত্র রাখতে হবে, মুখে বলা যাবে না এবং আমলেও আল্লাহ তা‘আলার সাথে কাউকে শরীক করা যাবে না। আকাশ-জমিন ও তার মাঝে যত জীব-জন্তু, জড়-পদার্থ এবং মু’মিন মুওয়াহহিদ রয়েছে সকলে আল্লাহ তা‘আলাকে এ সকল ক্রটি থেকে পবিত্র বলে বিশ্বাস করে ও তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে না।

الْعَزِیْزُ অর্থ পরাক্রমশালী, সবকিছুর ওপর বিজয়ী, যার ওপর কেউ জয় লাভ করতে পারে না। এ সম্পর্কে সূরা বাক্বারার ১২৯ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।

الْحَکِیْمُ বলা হয় তাকে যিনি সকল বিষয় উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করতে পারেন। প্রত্যেক বিষয়কে উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করতে পারেন একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।

(لَھ۫ مُلْکُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ)

অর্থাৎ আকাশ-জমিনের মাঝে যা কিছু আছে সব কিছু তাঁর আজ্ঞাবহ, কর্তৃত্বাধীন, মালিক ও সার্বভৌমত্বের অধিকারী।

(هُوَ الْأَوَّلُ وَالْاخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ)

‘তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই জাহের, তিনিই বাতেন’ এখানে আল্লাহ তা‘আলার চারটি নাম এসেছে যার প্রত্যেকটি স্থান ও কাল ভেদে বিপরীত।

الْأَوَّلُ তিনিই আদি বা প্রথম। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : এর অর্থ হল :

الذي ليس قبله شيء

তাঁর পূর্বে কিছুই ছিল না। (সহীহ মুসলিম হা. ২৭১৩)

وَالْاخِرُ তিনিই অন্ত বা সর্বশেষ। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অর্থ বর্ণনা করে বলেন :

الذي ليس بعده شيء

অর্থাৎ তাঁর পর কিছুই থাকবে না।

وَالظَّاهِرُ শব্দটি الظهور থেকে এসেছে। অর্থ হল العلو বা ঊর্ধ্বে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(هُوَ الَّذِيْٓ أَرْسَلَ رَسُوْلَه۫ بِالْهُدٰي وَدِيْنِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَه۫ عَلَي الدِّيْنِ كُلِّه۪ لا وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُوْنَ)‏

“তিনিই সে সত্ত্বা যিনি তাঁর রাসূলকে পাঠিয়েছেন সুপথ ও সত্য দীনসহকারে সকল দীনের ওপর একে বিজয়ী করার জন্য যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।” (সূরা তাওবা ৯ : ৩৩)

নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ অংশের তাফসীর করে বলেন :

الذي ليس فوقه شئ

বা তাঁর উপরে কিছুই নেই। তিনিই সবার উপরে।

الْبَاطِنُ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন :

الذي ليس دونه شيء

তাঁর চেয়ে নিকটে আর কেউ নেই। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা সবার উপরে থেকেও তাঁর জ্ঞান দর্শন ও শ্রবণ দ্বারা তিনি প্রত্যেকটি বস্তুর নিকটে। এ আয়াতের তাফসীর সম্বলিত একটি দু‘আ রয়েছে যা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শয়নকালে পাঠ করতেন। দু‘আটি হল :

اللّٰهمَّ أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ، وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْر

হে আল্লাহ তা‘আলা আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কেউ নেই; আপনিই শেষ, আপনার পরে আর নেই; আপনিই সবার ঊর্ধ্বে, আপনার উপরে আর কেউ নেই; আপনি সবার নিকটে, আপনার চেয়ে নিকটে আর কেউ নেই; আমাদের পক্ষ থেকে আপনি ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং দরিদ্রতা থেকে অমুখাপেক্ষী করে রাখুন। (সহীহ মুসলিম হা. ২৭১৩)

অতএব আমরা আল্লাহ তা‘আলার ব্যাপারে এমন বিশ্বাস রাখব না যা তাঁর শানে উপযোগী নয়। তাঁর সাথে কাউকে শরীক করব না।

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :

১. সকল মাখলূক আল্লাহ তা‘আলার তাসবীহ ও পবিত্রতা পাঠ করে।

২. জীবন ও মৃত্যুর মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।

৩. আল্লাহ তা‘আলা স্বসত্ত্বায় সাত আকাশের ওপর রয়েছেন।

৪. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর জ্ঞান, দর্শন ও শ্রবণ দ্বারা প্রত্যেকের কাছে রয়েছেন।

৫. যখন কিছু ছিল না তখন আল্লাহ তা‘আলা ছিলেন, আর যখন কিছু থাকবে না তখন আল্লাহ তা‘আলা থাকবেন।

Tafsir Resource

QUL supports exporting tafsir content in both JSON and SQLite formats. Tafsir text may include <html> tags for formatting such as <b>, <i>, etc.

Example JSON Format:

{
  "2:3": {
    "text": "tafisr text.",
    "ayah_keys": ["2:3", "2:4"]
  },
  "2:4": "2:3"
}
  • Keys in the JSON are "ayah_key" in "surah:ayah", e.g. "2:3" means 3rd ayah of Surah Al-Baqarah.
  • The value of ayah key can either be:
    • an object — this is the main tafsir group. It includes:
      • text: the tafsir content (can include HTML)
      • ayah_keys: an array of ayah keys this tafsir applies to
    • a string — this indicates the tafsir is part of a group. The string points to the ayah_key where the tafsir text can be found.

SQLite exports includes the following columns

  • ayah_key: the ayah for which this record applies.
  • group_ayah_key: the ayah key that contains the main tafsir text (used for shared tafsir).
  • from_ayah / to_ayah: start and end ayah keys for convenience (optional).
  • ayah_keys: comma-separated list of all ayah keys that this tafsir covers.
  • text: tafsir text. If blank, use the text from the group_ayah_key.