Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Al-Hashr — Ayah 21

لَوۡ أَنزَلۡنَا هَٰذَا ٱلۡقُرۡءَانَ عَلَىٰ جَبَلٖ لَّرَأَيۡتَهُۥ خَٰشِعٗا مُّتَصَدِّعٗا مِّنۡ خَشۡيَةِ ٱللَّهِۚ وَتِلۡكَ ٱلۡأَمۡثَٰلُ نَضۡرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمۡ يَتَفَكَّرُونَ ٢١ هُوَ ٱللَّهُ ٱلَّذِي لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَۖ عَٰلِمُ ٱلۡغَيۡبِ وَٱلشَّهَٰدَةِۖ هُوَ ٱلرَّحۡمَٰنُ ٱلرَّحِيمُ ٢٢ هُوَ ٱللَّهُ ٱلَّذِي لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡمَلِكُ ٱلۡقُدُّوسُ ٱلسَّلَٰمُ ٱلۡمُؤۡمِنُ ٱلۡمُهَيۡمِنُ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡجَبَّارُ ٱلۡمُتَكَبِّرُۚ سُبۡحَٰنَ ٱللَّهِ عَمَّا يُشۡرِكُونَ ٢٣ هُوَ ٱللَّهُ ٱلۡخَٰلِقُ ٱلۡبَارِئُ ٱلۡمُصَوِّرُۖ لَهُ ٱلۡأَسۡمَآءُ ٱلۡحُسۡنَىٰۚ يُسَبِّحُ لَهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ وَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ ٢٤

২১-২৪ নম্বর আয়াতের তাফসীর :

আল্লাহ তা‘আলা কুরআনুল কারীমের মহত্ত্ব ও বড়ত্বের বর্ণনা দিচ্ছেন যে, এ পবিত্র কুরআন উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন কিতাব। এর সামনে অন্তর ঝুঁকে পড়ে, লোম খাড়া হয়ে যায়, কলিজা কেঁপে উঠে। মহান আল্লাহ বলেন : যদি আমি এ কুরআন পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম তবে পাহাড় আমার ভয়ে বিনীত এবং বিদীর্ণ হয়ে যেত। অর্থাৎ পাহাড় এত কঠিন ও দৃঢ় হওয়া সত্ত্বেও যদি কুরআন বুঝতে পারত এবং তাতে যা রয়েছে তা অনুধাবন করতে পারত, তাহলে আল্লাহ তা‘আলার ভয়ে প্রকম্পিত ও বিদীর্ণ হয়ে যেত। তাহলে মানুষের কিভাবে শোভা পায় যে, আল্লাহ তা‘আলার ভয়ে তাদের অন্তর নরম, প্রকম্পিত ও বিনীত হবে না? অথচ তারা আল্লাহ তা‘আলার বিধান উপলব্ধি করতে পারে, আল্লাহ তা‘আলার কিতাব বুঝতে পারে। এ জন্য মহান আল্লাহ বলেছেন : আমি এসব দৃষ্টান্ত বর্ণনা করি মানুষের জন্য যাতে তারা চিন্তা করে।

হাদীসে এসেছে : মিম্বার নির্মিত হওয়ার পূর্বে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি খেজুর গাছের গুড়ির ওপর দাঁড়িয়ে খুতবাহ প্রদান করতেন। অতঃপর যখন মিম্বার তৈরি করা হল তখন তিনি তার ওপর দাঁড়িয়ে খুতবাহ দিতে লাগলেন এবং ঐ গুড়িটিকে সরিয়ে দেওয়া হল। ঐ সময় গুড়ি হতে কান্নার শব্দ আসতে লাগল। শিশুর মত ওটা ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে থাকল। কারণ তাকে আল্লাহ তা‘আলার যিকির ও ওয়াহী কিছু দূর থেকে শুনতে হচ্ছে। (সহীহ বুখারী হা. ১৪১)

সুতরাং কিছু মানুষ রয়েছে যাদের অন্তরে কুরআন কোন প্রভাব ফেলতে পারে না। কারণ, তাদের অন্তর পাথরের চেয়েও কঠিন। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে এমন রূঢ় অন্তর থেকে মুক্ত করে তাঁর বিধানের প্রতি নরম করে দিন। আমীন!

পরের আয়াতে আল্লাহ তা‘আলার সুন্দর সুন্দর কয়েকটি নামের বিবরণ এসেছে। হাদীসে এসেছে আল্লাহ তা‘আলার নিরানববইটি নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি তা গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সে নিরানব্বইটি নাম হল :

اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ المَلِكُ القُدُّوسُ السَّلَامُ المُؤْمِنُ المُهَيْمِنُ العَزِيزُ الجَبَّارُ المُتَكَبِّرُ الخَالِقُ البَارِئُ المُصَوِّرُ الغَفَّارُ القَهَّارُ الوَهَّابُ الرَّزَّاقُ الفَتَّاحُ العَلِيمُ القَابِضُ البَاسِطُ الخَافِضُ الرَّافِعُ المُعِزُّ المُذِلُّ السَّمِيعُ البَصِيرُ الحَكَمُ العَدْلُ اللَّطِيفُ الخَبِيرُ الحَلِيمُ العَظِيمُ الغَفُورُ الشَّكُورُ العَلِيُّ الكَبِيرُ الحَفِيظُ المُقِيتُ الحَسِيبُ الجَلِيلُ الكَرِيمُ الرَّقِيبُ المُجِيبُ الوَاسِعُ الحَكِيمُ الوَدُودُ المَجِيدُ البَاعِثُ الشَّهِيدُ الحَقُّ الوَكِيلُ القَوِيُّ المَتِينُ الوَلِيُّ الحَمِيدُ المُحْصِي المُبْدِئُ المُعِيدُ المُحْيِي المُمِيتُ الحَيُّ القَيُّومُ الوَاجِدُ المَاجِدُ الوَاحِدُ الصَّمَدُ القَادِرُ المُقْتَدِرُ المُقَدِّمُ المُؤَخِّرُ الأَوَّلُ الآخِرُ الظَّاهِرُ البَاطِنُ الوَالِيَ المُتَعَالِي البَرُّ التَّوَّابُ المُنْتَقِمُ العَفُوُّ الرَّءُوفُ مَالِكُ المُلْكِ ذُو الجَلَالِ وَالإِكْرَامِ، ا لمُقْسِطُ الجَامِعُ الغَنِيُّ المُغْنِي المَانِعُ الضَّارُّ النَّافِعُ النُّورُ الهَادِي البَدِيعُ البَاقِي الوَارِثُ الرَّشِيدُ الصَّبُورُ

(তিরমিযী হা. ৩৫০৭, সহীহ) তবে এ নিরানব্বই এর মাঝে সীমাবদ্ধ নয় বরং তাঁর নাম অগণিত। এ সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের ১৮০ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।

اَلْمَلِكُ অর্থাৎ কোন প্রতিবন্ধক ও প্রতিরোধ ছাড়াই সব কিছুর মালিক।

الْقُدُّوْسُ ওহাব বিন মুনাব্বিহ বলেন : এর অর্থ হল পবিত্র, মুজাহিদ বলেন : বরকতময়। السَّلٰمُ সকল ত্রুটি ও অপূর্ণাঙ্গতা থেকে মুক্ত, তিনি সত্তায়, গুণ ও কাজে পরিপূর্ণতার কারণে। الْمُؤْمِنُ ইবনু আব্বাস বলেন : তাঁর সৃষ্টি এ ব্যাপারে নিরাপদ যে, তিনি তাদের ওপর জুলুম করবেন না। الْمُهَيْمِنُ ইবনু আব্বাসসহ প্রমুখ বলেন : সৃষ্টিজীবের কাজের প্রত্যক্ষদর্শী। الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّر অর্থাৎ যে অহংকার ও বড়ত্ব তিনি ছাড়া অন্য কারো শানে শোভা পায় না। অহংকার আল্লাহ তা‘আলার জন্য প্রশংসনীয় কিন্তু বান্দার জন্য নিন্দনীয়।

হাদীসে এসেছে আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

الْكِبْرِيَاءُ رِدَائِي، وَالْعَظَمَةُ إِزَارِي، فَمَنْ نَازَعَنِي وَاحِدًا مِنْهُمَا، قَذَفْتُهُ فِي النَّار

অহংকার আমার চাদর, বড়ত্ব আমার লুঙ্গী। যদি কেউ তা হতে কোন একটি ছিনিয়ে নিতে চায় তাকে আমি জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। (আবূ দাঊদ হা. ৪০৯০, ইবনু মাযাহ হা. ৪১৭৪, সহীহ)

সুতরাং অহংকার ও বড়ত্ব একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার শানেই শোভা পায়, কোন ব্যক্তির জন্য অহংকার করা ও বড়ত্ব প্রকাশ করা শোভনীয় নয়। বরং কোন ব্যক্তি অহংকার করলে তার সকল নেক আমল বরবাদ হয়ে যায়।

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :

১. কুরআনের মহত্ব ও বড়ত্ব সম্পর্কে জানলাম। যদি তা পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করা হতো তাহলে আল্লাহ তা‘আলার ভয়ে তা বিদীর্ণ হয়ে যেত।

২. শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য উদাহরণ পেশ করা যায়।

৩. আল্লাহ তা‘আলার সুন্দর সুন্দর নামের বিবরণ জানলাম। আল্লাহ তা‘আলার সুন্দর সুন্দর নামের সংখ্যা তিনিই ভাল জানেন।