You are reading tafsir of 3 ayahs: 60:4 to 60:6.
৪-৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মু’মিন বান্দা যাদেরকে আদেশ করেছিলেন কাফির ও তাদের শত্রুদের সাথে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করতে এবং কোন প্রকার বন্ধুত্ব গড়ে না তুলতে তাদেরকে বলছেন : ইবরাহীম (আঃ) ও তাঁর সাথে ঈমান আনয়নকারীদের কথা ও কাজে তোমাদের জন্য উত্তম আর্দশ নিহিত। যেমন তারা কাফির-মুশরিকদেরকে বলেছিল : তোমাদের সাথে এবং তোমরা যাদের ইবাদত কর তাদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আর যতদিন পর্যন্ত ঈমান না আনবে ততদিন পর্যন্ত তোমাদের সাথে আমাদের শত্রুতা থাকবে। একজন মু’মিনের আদর্শ এরূপই হবে। সে কখনো শিরক ও মূর্তিপূজা এবং তাদের অনুসারীদের সাথে একত্বতা ঘোষণা করবে না।
(إِلَّا قَوْلَ إِبْرَاهِيْمَ لِأَبِيْهِ)
‘তবে ব্যতিক্রম তাঁর পিতার প্রতি ইবরাহীমের উক্তি’ অর্থাৎ ইবরাহীম (আঃ) তাঁর পিতার জন্য যে ক্ষমা প্রার্থনার কথা বলেছিলেন- এ কথা তোমাদের আদর্শ নয়। কারণ ইবরাহীম (আঃ) তাঁর পিতাকে ওয়াদা দিয়েছিলেন তার জন্য ক্ষমা চাইবে, তাই তিনি এরূপ করেছিলেন। কিন্তু যখন প্রমাণিত হল যে, তাঁর পিতা আল্লাহ তা‘আলার শত্রু তখন তিনি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন। তাই একজন মু’মিন কোনদিন মুশরিকদের জন্য দু‘আ করতে পারে না, যদিও সে তার নিকটাত্মীয় হয়। সূরা তাওবার ১১৩, ১১৪ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
(رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلَّذِيْنَ كَفَرُوْا)
‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে কাফিরদের জন্য পরীক্ষার বস্তুতে পরিণত করো না’ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : কাফিরদেরকে আমাদের ওপর বিজয় ও কর্তৃত্ব দান করো না। কাতাদাহ (রহঃ) একটু বৃদ্ধি করে বলেন : ফলে তারা মনে করবে, আমরা হকের ওপর আছি তাই জয়ী হয়েছি। মুজাহিদ (রহঃ) ও যহহাক (রহঃ) বলেন : কাফিরদের হাতে ও তোমার পক্ষ থেকে আমাদেরকে শাস্তি প্রদান করো না। তারা বলবে : যদি তারা সত্যের ওপর থাকত তাহলে এরূপ বিপদ আসত না। পরের আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা আবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, যারা আখেরাতের সফলতা চাও তাদের জন্য ইবরাহীম (আঃ) ও তাঁর অনুসারীদের মাঝে যে আদর্শ রয়েছে সে আদর্শে আদর্শবান হও। আর যারা মুখ ফিরিয়ে নেবে জেনে রেখ, আল্লাহ তা‘আলা কারো মুখাপেক্ষী নয়। তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে তাঁর কিছু আসে যায় না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. শিরক ও মুর্তিপূজা এবং তাদের অনুসারীদের সাথে মুসলিমদের কোন সম্পর্ক থাকতে পারে না।
২. কাফির-মুশরিকরা ঈমান না আনা পর্যন্ত মুসলিমদের সঙ্গে শত্রুতা বিদ্যমান থাকবে।
৩. মুসলিমরা কোন মুশরিকের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারবে না।
৪. সৎপথের অনুসারী ব্যক্তিরা আল্লাহ তা‘আলার কাছে সমাদৃত।