Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah As-Saf — Ayah 6

وَإِذۡ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوۡمِهِۦ يَٰقَوۡمِ لِمَ تُؤۡذُونَنِي وَقَد تَّعۡلَمُونَ أَنِّي رَسُولُ ٱللَّهِ إِلَيۡكُمۡۖ فَلَمَّا زَاغُوٓاْ أَزَاغَ ٱللَّهُ قُلُوبَهُمۡۚ وَٱللَّهُ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلۡفَٰسِقِينَ ٥ وَإِذۡ قَالَ عِيسَى ٱبۡنُ مَرۡيَمَ يَٰبَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ إِنِّي رَسُولُ ٱللَّهِ إِلَيۡكُم مُّصَدِّقٗا لِّمَا بَيۡنَ يَدَيَّ مِنَ ٱلتَّوۡرَىٰةِ وَمُبَشِّرَۢا بِرَسُولٖ يَأۡتِي مِنۢ بَعۡدِي ٱسۡمُهُۥٓ أَحۡمَدُۖ فَلَمَّا جَآءَهُم بِٱلۡبَيِّنَٰتِ قَالُواْ هَٰذَا سِحۡرٞ مُّبِينٞ ٦

৫-৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর :

মূসা (আঃ) আল্লাহ তা‘আলার সত্য রাসূল, এ কথা জানা সত্ত্বেও বানী ইসরাঈল তাঁকে তাদের জবান দ্বারা কষ্ট দিত। এমনকি তাঁর ব্যাপারে দৈহিক ত্রুটির কথাও তারা বলে বেড়াত। অথচ সে ত্রুটি ও ব্যাধি তাঁর মধ্যে ছিল না।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِيْنَ اٰذَوْا مُوْسٰي فَبَرَّأَهُ اللّٰهُ مِمَّا قَالُوْا ط وَكَانَ عِنْدَ اللّٰهِ وَجِيْهًا) ‏

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা তাদের মত হয়ো না যারা মূসা (আঃ)-কে কষ্ট দিয়েছিল; আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আঃ)-কে নির্দোষ প্রমাণিত করলেন সে অপবাদ থেকে যা তারা আরোপ করেছিল। আর তিনি ছিলেন আল্লাহ তা‘আলার কাছে খুবই সম্মানিত নাবী।” (সূরা আহযাব ৩৩ : ৬৯)

(فَلَمَّا زَاغُوْآ) অর্থাৎ জানাসত্ত্বেও যখন তারা সত্য বিমুখ হল, হকের পরিবর্তে বাতিল, ভালোর পরিবর্তে মন্দ ও ঈমানের পরিবর্তে কুফরী গ্রহণ করে নিল, তখন আল্লাহ তা‘আলাও তাদের অন্তরকে হিদায়াত বিমুখ করে দিলেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(وَمَنْ يُّشَاقِقِ الرَّسُوْلَ مِنْۭ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدٰي وَيَتَّبِعْ غيْرَ سَبِيْلِ الْمُؤْمِنِيْنَ نُوَلِّه۪ مَا تَوَلّٰي وَنُصْلِه۪ جَهَنَّمَ ط وَسَا۬ءَتْ مَصِيْرًا)‏

“কারো‎ নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে যেদিকে সে ফিরে যায় সেদিকেই তাকে ফিরিয়ে দিব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব, আর তা কতই না মন্দ আবাস!” (সূরা নিসা ৪ : ১১৫)

(وَإِذْ قَالَ عِيْسَي ابْنُ مَرْيَمَ)

এখানে ঈসা (আঃ)-এর আলোচনা নিয়ে আসার কারণ হল, বানী ইসরাঈল যেমন মূসা (আঃ)-এর অবাধ্যতা করেছিল অনুরূপ তারা ঈসা (আঃ)-কেও অস্বীকার করেছিল। এজন্য ঈসা (আঃ) বলেছেন, আমি আল্লাহর রাসূল, আমি সুস্পষ্ট প্রমাণসহ এসেছি। পূর্ববর্তী নাবীগণ যেমন অন্যান্য নাবীদের সত্যায়ন করেছেন আমিও সত্যায়ন করছি আর আমার পর আহমাদ তথা মুহাম্মাদ নামক একজন নাবীর সুসংবাদ প্রদান করছি। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একটি নাম হল আহমাদ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : আমার কয়েকটি নাম রয়েছে, আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ। (সহীহ মুসলিম হা. ২৩৫৪)

(فَلَمَّا جَا۬ءَهُمْ بِالْبَيِّنٰتِ)

অর্থাৎ ঈসা (আঃ)-এর সুসংবাদ মোতাবেক যখন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুস্পষ্ট প্রমাণসহ আগমন করলেন তখন তারা হিংসাবশত বলতে লাগল, এটা একটা প্রকাশ্য জাদু।

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :

১. নাবীদেরকে কষ্ট দেওয়া, তাদের নিয়ে ঠাট্টা করা বা ব্যঙ্গ করা কুফরী।

২. নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ব্যাপারে ঈসা (আঃ)-এর সুসংবাদ।

৩. আল্লাহ তা‘আলা মানুষের কর্মের কারণে হিদায়াত থেকে বঞ্চিত করেন।