Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah At-Tahrim — Ayah 3

يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَآ أَحَلَّ ٱللَّهُ لَكَۖ تَبۡتَغِي مَرۡضَاتَ أَزۡوَٰجِكَۚ وَٱللَّهُ غَفُورٞ رَّحِيمٞ ١ قَدۡ فَرَضَ ٱللَّهُ لَكُمۡ تَحِلَّةَ أَيۡمَٰنِكُمۡۚ وَٱللَّهُ مَوۡلَىٰكُمۡۖ وَهُوَ ٱلۡعَلِيمُ ٱلۡحَكِيمُ ٢ وَإِذۡ أَسَرَّ ٱلنَّبِيُّ إِلَىٰ بَعۡضِ أَزۡوَٰجِهِۦ حَدِيثٗا فَلَمَّا نَبَّأَتۡ بِهِۦ وَأَظۡهَرَهُ ٱللَّهُ عَلَيۡهِ عَرَّفَ بَعۡضَهُۥ وَأَعۡرَضَ عَنۢ بَعۡضٖۖ فَلَمَّا نَبَّأَهَا بِهِۦ قَالَتۡ مَنۡ أَنۢبَأَكَ هَٰذَاۖ قَالَ نَبَّأَنِيَ ٱلۡعَلِيمُ ٱلۡخَبِيرُ ٣ إِن تَتُوبَآ إِلَى ٱللَّهِ فَقَدۡ صَغَتۡ قُلُوبُكُمَاۖ وَإِن تَظَٰهَرَا عَلَيۡهِ فَإِنَّ ٱللَّهَ هُوَ مَوۡلَىٰهُ وَجِبۡرِيلُ وَصَٰلِحُ ٱلۡمُؤۡمِنِينَۖ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ بَعۡدَ ذَٰلِكَ ظَهِيرٌ ٤ عَسَىٰ رَبُّهُۥٓ إِن طَلَّقَكُنَّ أَن يُبۡدِلَهُۥٓ أَزۡوَٰجًا خَيۡرٗا مِّنكُنَّ مُسۡلِمَٰتٖ مُّؤۡمِنَٰتٖ قَٰنِتَٰتٖ تَٰٓئِبَٰتٍ عَٰبِدَٰتٖ سَٰٓئِحَٰتٖ ثَيِّبَٰتٖ وَأَبۡكَارٗا ٥

নামকরণ :

التحريم শব্দটি حرم ক্রিয়ার ক্রিয়ামূল। অর্থ হল : হারাম করা, নিষিদ্ধকরণ বা অবৈধকরণ ইত্যাদি। এ সূরার প্রথম আয়াতে উল্লিখিত لِمَ تُحَرِّمُ ক্রিয়ার ক্রিয়ামূল থেকেই এই সূরার নামকরণ করা হয়েছে। তাছাড়া সূরাতে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের প্রতি আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক একটি হালালকৃত বস্তুকে হারাম করে নিয়েছিলেন, সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে সূরাটি নাযিল হয়েছে।

সূরার শুরুতে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর স্ত্রীদের মাঝে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের প্রতি হালাল জিনিস না খাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে তিরস্কার করলেন, তারপর মু’মিনদেরকে আল্লাহ তা‘আলা সপরিবারে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করার ও একনিষ্ঠ তাওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সূরার শেষে কাফির ও মু’মিনদের জন্য চারজন নারীর দৃষ্টান্ত পেশ করা হয়েছে।

শানে নুযূল :

এ সূরাটির শুরুর কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণের ব্যাপারে বেশ কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়। যেমন :

(১) আয়িশাহ (রাঃ) বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিষ্টান্ন ও মধু পছন্দ করতেন। আসর সালাত আদায় শেষে স্ত্রীদের ঘরে গিয়ে তাদের সাথে দেখা করতেন। (সহীহ বুখারী হা. ৬৬৯১)

অন্য বর্ণনায় রয়েছে : একদা তিনি যয়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ)-এর কাছে মধু পান করেন এবং কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। (আয়িশাহ (রাঃ) বলছেন) আমি ও হাফসাহ (রাঃ) স্থির করলাম আমাদের দুজনের যে ঘরেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসবেন, সে-ই তাঁকে বলব : আপনি কি মাগাফীর খেয়েছেন? (মাগাফীর এক প্রকার গাছের মিষ্টি আটা যা খেলে মুখে একপ্রকার গন্ধ সৃষ্টি হয়) তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী তা-ই করলেন। তারা বললেন : আমরা আপনার মুখে মাগাফীরের গন্ধ পাচ্ছি। তিনি বললেন : না, বরং আমি যয়নব বিনতে জাহাশের ঘরে মধু পান করেছি। আমি শপথ করে বলছি : আর কখনো মধু পান করব না। তুমি এ ব্যাপারটি অন্য কাউকে জানাবে না। তখন এ সূরার প্রথম দিকের কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণ হয়। (সহীহ বুখারী হা. ৪৯১২)

(২) একদা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাফসাহ (রাঃ)-এর ঘরে ছিলেন, তখন হাফসাহ (রাঃ) বাপের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও মারিয়া কিবতী একত্রে তার ঘরে। (মারিয়া ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ক্রীতদাসী, তার গর্ভে ইবরাহীম জন্ম গ্রহণ করেছিল) মারিয়া বের হওয়ার পর তিনি প্রবেশ করলেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন হাফসার চেহারায় আত্মমর্যাদার ছাপ দেখতে পেলেন তখন তিনি বললেন : তুমি আয়িশাহ (রাঃ)-কে সংবাদ জানাবে না। আমি তোমার সাথে কথা দিচ্ছি আমি কখনো তার কাছে যাব না। তখন এ সূরা অবতীর্ণ হয়। (সহীহ নাসায়ী, আলবানী ৩/৮৩১ হাকেম ৩২/৪৯৩)

আবার কেউ কেউ বলেছেন : যে মহিলা নিজেকে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছিল তার ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। (ফাতহুল কাদীর) ইবনু হাজার আসকালানী (রহঃ) বলেন : প্রথমত এ ঘটনাটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যা একে অপরকে বলিষ্ঠ করে। দ্বিতীয়ত : একই সময়ে উভয় ঘটনার প্রেক্ষিতে এ আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়েছে। (ফাতহুল কাদীর)।

১-৫ নম্বর আয়াতের তাফসীর :

স্ত্রীর সন্তুটি হাসিলের জন্য নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক হালাল বস্তুকে হারাম হিসাবে গ্রহণ করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে নিন্দা করেছেন। পরবর্তীতে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর শপথের কাফফারা দিয়ে ফিরে আসলে আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে ক্ষমা করে নিন্দার বাণী তুলে নিয়েছেন। যার প্রমাণ বহন করেছে আয়াতের শেষাংশ

(وَاللّٰهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ)

‘আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।

এ আয়াত প্রমাণ করছে কেউ যদি হালাল জিনিস নিজের ওপর হারাম করে নেয় তাহলে তা হারাম হবে না। কারণ হালাল হারামের বিধানদাতা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা। এ আয়াত আরো প্রমাণ করছে যে, কোন ব্যক্তি, শাসক বা যে কেউ হোক তার ভয়ে বা সন্তুষ্টি লাভের জন্য হালালকে হারাম অথবা হারামকে হালাল করে নেয়া যাবে না।

(قَدْ فَرَضَ اللّٰهُ)

অর্থাৎ কাফফারা আদায় করে সেই কাজ করার অনুমতি প্রদান করেছেন যে কাজ না করার জন্য তিনি শপথ করেছিলেন। এ বিধান সকল মু’মিনের জন্য। কাফফারার বিধান সূরা মায়িদার ৮৯ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।

(تَحِلَّةَ أَيْمَانِكُمْ)

বা শপথ থেকে মুক্তি লাভের উপায় হল শপথের কাফফারা আদায় করা।

(وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ) ‘

যখন নাবী তাঁর স্ত্রীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিলেন’ অধিকাংশ মুফাসসির বলেছেন : “কতক স্ত্রী” দ্বারা উদ্দেশ্য হাফসাহ (রাঃ)। তার কাছে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মারিয়াকে হারাম করে নেয়া বা মধু খাওয়া হারাম করে নেয়ার কথা গোপন রেখেছিলেন এবং তিনি কাউকে বলতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু হাফসাহ (রাঃ) আয়িশাহ (রাঃ)-কে বলে দিলেন। ফলে আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাদের বলে দেওয়ার কথা জানিয়ে দিলেন। হাফসাহ (রাঃ)-এর সম্মানের দিকে লক্ষ্য করে আল্লাহ তা‘আলা সব কথা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জানাননি। (তাফসীর মুয়াস্সার)

এখানে লক্ষ্যণীয় যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথাকে হাদীস বলা হয়েছে। সুতরাং হাদীস দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথাকে বুঝায় আবার কুরআনকেও বুঝায়। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(اللّٰهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيْثِ)

‘আল্লাহ অতি উত্তম হাদীস (কুরআন) নাযিল করেছেন’ (সূরা যুমার ৩৯-২৩)

(عَرَّفَ بَعْضَھ۫ وَاَعْرَضَ عَنْۭ بَعْضٍ)

‘তখন নাবী এই বিষয়ে কিছু প্রকাশ করলেন এবং কিছু গোপন রাখলেন’ মুকাতিল (রহঃ) বলেন : হাফসাহ (রাঃ) আয়িশাহ (রাঃ) কে যা বলেছিল নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কিছু হাফসাহকে জানিয়ে দিলেন, তা হল মারিয়ার ব্যাপারটা।

(إِنْ تَتُوْبَآ إِلَي اللّٰهِ)

‘যদি তোমরা উভয়ে (অনুতপ্ত হয়ে) আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর’ এখানে দু’জন স্ত্রী বলতে আয়িশাহ ও হাফসাহ (রাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : এ আয়াতে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোন্ দু’জন স্ত্রীর ব্যাপারে বলা হয়েছে তা উমার (রাঃ)-এর কাছে জানতে সর্বদা অনুপ্রাণিত ছিলাম। একদা উমার (রাঃ) হাজ্জ করতে যান, আমিও হাজ্জ করতে গেলাম। পথিমধ্যে তিনি (প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার জন্য) আলাদা হন, আমিও পাত্র সাথে নিয়ে তাঁর সাথে আলাদা হলাম। তিনি শৌচকার্য শেষে আমার কাছে আসলেন, আমি তাঁর হাতে পানি ঢাললাম। তিনি অযু করলেন। অতঃপর আমি বললাম : হে আমীরুল মু’মিনুন! সে দু’জন নারী কারা, যাদের কথা আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াতে বলেছেন? উমার (রাঃ) বললেন : তোমার জন্য আশ্চর্য, আমি গোপন করব না, তারা হলেন, আয়িশাহ (রাঃ) ও হাফসাহ (রাঃ)। (সহীহ বুখারী হা. ৮৯)

(فَقَدْ صَغَتْ قُلُوْبُكُمَا)

অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে যে আদব ও আল্লাহ তা‘আলার প্রতি যে তাক্বওয়া অবলম্বন করার প্রয়োজন ছিল তা থেকে তোমাদের অন্তর দূরে সরে গেছে। (তাফসীর সা‘দী)।

(وَإِنْ تَظَاهَرَا)

এখানেও আল্লাহ তা‘আলা আয়িশাহ (রাঃ) ও হাফসাহ (রাঃ)-কে সম্বোধন করে বলছেন : যদি তোমরা উভয়ে এমন কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা কর যা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য কষ্টকর এবং এর ওপর বহাল থাক তাহলে জেনে রেখো আল্লাহ তা‘আলা, জিবরীল (আঃ) ও সৎমু’মিনগণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহায্যকারী। এখানে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীদেরকে এরূপ কাজের জন্য সতর্ক করছেন এবং ভীতি প্রদর্শন করছেন যে, তোমাদের চেয়ে তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আরো উত্তম স্ত্রী দানে সক্ষম।

(عَسٰي رَبُّه۫ٓ إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُّبْدِلَهُ)

‘যদি নাবী তোমাদের সকলকে ত্বালাক দেয়.... ” উমার (রাঃ) বলেন : নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সতর্ক করার জন্য তাঁর সহধর্মিণীগণ একত্রিত হয়েছিল। আমি তাদেরকে বললাম : যদি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করেন তবে তাঁর প্রতিপালক সম্ভবত তাঁকে তোমাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্ট স্ত্রী দেবেন। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (সহীহ বুখারী হা. ৪৯১৬, সহীহ মুসলিম হা. ২৩৯৯)

নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্ত্রীদেরকে ত্বালাক দেননি। যদি দিতেন তাহলে আয়াতে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নারীদেরকে পেতেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীরা যখন এ ভয়ের বাণী শুনলেন তখন তারা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সন্তুষ্টি অর্জনের দিকে ধাবিত হতে লাগলেন এবং উত্তম মু’মিনা নারীদের মধ্যে শামিল হয়ে গেলেন। (তাফসীর সা‘দী)।

قٰنِتٰتٍ অর্থ : যারা সর্বদা আনুগত্য করে চলে।

تَآئِبٰتٍ অর্থ : আল্লাহ তা‘আলা যা অপছন্দ করে থাকেন তা থেকে তাওবা করে।

(ثَيِّبٰتٍ وَّأَبْكَارًا)

অর্থাৎ কতক হবেন স্বামীহীনা আবার কতক হবেন কুমারী।

সুতরাং মু’মিনা নারীদের এমন কিছু করা উচিত নয় যার দ্বারা তাদের স্বামী কষ্ট পায়, বরং সর্বদা স্বামীকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করতে হবে এবং তার আনুগত্য করতে হবে। যেমন হাদীসে এসেছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন :

المرأة إذا صلت خمسها، وصامت شهرها، وأحصنت فرجها، وأطاعت بعلها، فلتدخل من أي أبواب الجنة شاءت

একজন মহিলা যখন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে, রমাযান মাসে সিয়াম পালন করবে, নিজের সতীত্বের হেফাযত করবে এবং স্বামীর আনুগত্য করবে সে জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে। (আবূ নাঈম তার হুলিয়্যাহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, আলবানী সহীহ বলেছেন।)

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :

১. কেউ যদি কোন হালাল বস্তুকে শপথ করার মাধ্যমে হারাম করে নেয় তাহলে তা হারাম হবে না, শুধু শপথের কাফফারা দিয়ে দিলেই হবে।

২. স্ত্রীদের খুশি করার জন্য কোন হারাম কাজে জড়িত হওয়া বৈধ নয়।

৩. অত্র আয়াতকে কেন্দ্র করে ইমাম শাফিঈ ও আহমাদ বলেছেন : যদি কেউ তার স্ত্রীকে বলে- তুমি আমার ওপর হারাম কিন্তু ত্বালাকের নিয়্যাত না করে তাহলে হারাম হবে না। শুধু কাফফারা দিলেই হবে।

৪. আল্লাহ তা‘আলার কাছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মর্যাদা জানতে পারলাম।

৫. উমার (রাঃ)-এর মর্যাদা জানতে পারলাম।

৬. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথাকে হাদীস বলা হয় এর প্রমাণ কুরআনের এ সূরায় পেলাম।

৭. স্ত্রীলোকদের দুর্বলতা ও সতীনদের প্রতি ঈর্ষা থাকা স্বাভাবিক।

Tafsir Resource

QUL supports exporting tafsir content in both JSON and SQLite formats. Tafsir text may include <html> tags for formatting such as <b>, <i>, etc.

Example JSON Format:

{
  "2:3": {
    "text": "tafisr text.",
    "ayah_keys": ["2:3", "2:4"]
  },
  "2:4": "2:3"
}
  • Keys in the JSON are "ayah_key" in "surah:ayah", e.g. "2:3" means 3rd ayah of Surah Al-Baqarah.
  • The value of ayah key can either be:
    • an object — this is the main tafsir group. It includes:
      • text: the tafsir content (can include HTML)
      • ayah_keys: an array of ayah keys this tafsir applies to
    • a string — this indicates the tafsir is part of a group. The string points to the ayah_key where the tafsir text can be found.

SQLite exports includes the following columns

  • ayah_key: the ayah for which this record applies.
  • group_ayah_key: the ayah key that contains the main tafsir text (used for shared tafsir).
  • from_ayah / to_ayah: start and end ayah keys for convenience (optional).
  • ayah_keys: comma-separated list of all ayah keys that this tafsir covers.
  • text: tafsir text. If blank, use the text from the group_ayah_key.