You are reading tafsir of 3 ayahs: 66:6 to 66:8.
৬-৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদের প্রতি অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব অর্পণ করছেন। তা হল : একজন মু’মিন যেমন আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে জান্নাতের আশায় জাহান্নামের ভয়ে নিজে সৎআমল করবে এবং অসৎআমল বর্জন করে নিজেকে সংশোধন করে নেবে ঠিক তেমনিভাবে তার পরিবারকেও ইসলামী শিক্ষা প্রদান এবং শরীয়তের বিধি-বিধান পালন ও বিধি-নিষেধ থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে জাহান্নামের হাত থেকে রক্ষা করবে। এজন্যই নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন :
(مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ، وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا، وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرٍ وَفَرِّقُوا بَيْنَهُمْ فِي الْمَضَاجِعِ)
তোমাদের সন্তানরা যখন সাত বছরে পদার্পন করে তখন তাদেরকে সালাত আদায় করার নির্দেশ দাও, আর যখন দশ বছরে পদার্পণ করবে তখন (সালাত আদায় না করলে) প্রহার কর এবং তাদের বিছানা আলাদা করে দাও। (আবূ দাঊদ হা. ৪৯৪, তিরমিযী হা. ৪০৭, সহীহ)।
এভাবে প্রত্যেক মু’মিন যদি পরিবারসহ নিজে জাহান্নাম থেকে বাঁচতে আপ্রাণ চেষ্টা করে তাহলে আখিরাতে যেমন সফলকাম হবে দুনিয়াতেও একটি আদর্শ সমাজে পরিণত হবে। যেখানে থাকবে না কোন ফেতনা-ফাসাদ, অশ্লীলতা বেপর্দা ইত্যাদি। কারণ যারাই ফেতনা-ফাসাদ করছে, অশ্লীল ও বেপর্দায় চলা ফেরা করছে তারা কারো না কারো পরিবারভুক্ত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, প্রত্যেককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। পরিবারের অভিভাবক তার পরিবারের দায়িত্বশীল, তাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। (সহীহ বুখারী হা. ৮৯৩, সহীহ মুসলিম হা. ১৮২৯)
(قُوْآ أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيْكُمْ نَارًا)
‘তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা কর ঐ অগ্নি হতে’ মুজাহিদ (রহঃ) বলেন : তোমাদের নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের আল্লাহ তা‘আলার ভয়ের অসিয়ত কর এবং তাদেরকে আদব শিক্ষা দাও। (সহীহ বুখারী)।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য কর ও তাঁর অবাধ্য কাজ থেকে বিরত থাক এবং তোমাদের পরিবারকে আল্লাহ তা‘আলার স্মরণের নির্দেশ দাও। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তা দ্বারা জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেবেন। (ইবনু কাসীর)
وَّقُوْدُ অর্থ : কাঠ, জ্বালানী। অর্থাৎ জাহান্নামের জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। কেউ বলেছেন : পাথর দ্বারা উদ্দেশ্য হল সে সকল পাথর যার ইবাদত করা হত, যাতে পাথরের ইবাদতকারীরা বুঝতে পারে পাথর ইবাদত পাওয়ার যোগ্য ছিল না এবং তারা আজ তাদের কোন উপকার করতে পারছে না বরং নিজেরাই জাহান্নামে যাচ্ছে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(إِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ ط أَنْتُمْ لَهَا وَارِدُوْن)
“তোমরা এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ‘ইবাদত কর সেগুলো তো জাহান্নামের ইন্ধন; তোমরা সকলে তাতে প্রবেশ করবে।” (সূরা আম্বিয়া ২১ : ৯৮)
(غِلَاظٌ شِدَادٌ)
অর্থাৎ জাহান্নামের প্রহরী ফেরেশতাগণ নির্মম হৃদয়বিশিষ্ট ও কঠোর স্বভাবের। তারা সর্বদা আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য করে, তাদের যা আদেশ করা হয় তারা তার বিরোধিতা করে না।
(لَا تَعْتَذِرُوا الْيَوْمَ)
‘আজ তোমরা কোন প্রকার অজুহাত পেশ কর না’ অর্থাৎ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামীদেরকে তিরস্কার করে এ কথা বলবেন। সেদিন ওজর পেশ করার কোন অবকাশ থাকবে না। কারণ তারা দুনিয়াতে যা কিছু আমল করেছে কেবল তারই প্রতিদান প্রদান করা হবে।
(تَوْبَةً نَّصُوْحًا)
‘একান্ত বিশুদ্ধ তাওবা’ উমার (রাঃ) বলেছেন : তা হল গুনাহ করার পর তাতে পুনরায় লিপ্ত না হওয়া। (ইবনু জারীর)
আল্লামা ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন :
توبة صادقة جازمة বা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তাওবা।
এরূপ তাওবার পাঁচটি শর্ত;
১. একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্যই তাওবা করবে, অন্য কোন লোক দেখানোর জন্য নয়।
২. কৃত অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হওয়া।
৩. কৃত অপরাধ থেকে ফিরে আসা। যদি মানুষের হক থাকে তাহলে তা ফেরত দেওয়া।
৪. এ দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা যে, ভবিষ্যতে কখনো এরূপ কাজে জড়িত হবে না।
৫. সময়ের আগে তাওবা করতে হবে। অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্বেই এবং পশ্চিমাকাশে সূর্য উদয় হওয়ার পূর্বেই তাওবা করতে হবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন ;
( وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِيْنَ يَعْمَلُوْنَ السَّيِّاٰتِ ج حَتٰـّٰـيٓ إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّيْ تُبْتُ الْئٰنَ )
“আর তাদের জন্য কোন তাওবা কবূল করা হয় না যারা পাপ কাজ করতেই থাকে এমনকি তাদের নিকট যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন সে বলে আমি এখন তাওবা করছি।” (সূরা নিস্ া৩ : ১৮, শরহু আকিদাহ ওয়াসিতিয়াহ)
(نُوْرُهُمْ يَسْعٰي بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ)
এ সম্পর্কে সূরা হাদীদের ১২ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
(يَقُوْلُوْنَ رَبَّنَآ أَتْمِمْ لَنَا نُوْرَنَا)
অর্থাৎ মুনাফিকদের থেকে যখন নূর ছিনিয়ে নেয়া হবে তখন মু’মিনরা এ দু‘আ করবে, ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের দু‘আ কবুল করবেন।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. মু’মিনরা যেমন নিজে জাহান্নাম থেকে বাঁচবে তেমন পরিবারকেও বাঁচাবে।
২. আখিরাতে আল্লাহ তা‘আলা কেবল কৃতকর্মের প্রতিদান দেবেন।
৩. তাওবার শর্তসমূহ জানলাম।
৪. মু’মিনের চারপাশে কিয়ামতের দিন নূর থাকবে।
৫. খালেস তাওবার ফলাফল জানতে পারলাম।
QUL supports exporting tafsir content in both JSON and SQLite formats.
Tafsir text may include <html> tags for formatting such as <b>,
<i>, etc.
Note:
Tafsir content may span multiple ayahs. QUL exports both the tafsir text and the ayahs it applies to.
Example JSON Format:
{
"2:3": {
"text": "tafisr text.",
"ayah_keys": ["2:3", "2:4"]
},
"2:4": "2:3"
}
"ayah_key" in "surah:ayah", e.g. "2:3" means
3rd ayah of Surah Al-Baqarah.
text: the tafsir content (can include HTML)ayah_keys: an array of ayah keys this tafsir applies toayah_key where the tafsir text can be found.
ayah_key: the ayah for which this record applies.group_ayah_key: the ayah key that contains the main tafsir text (used for shared tafsir).
from_ayah / to_ayah: start and end ayah keys for convenience (optional).ayah_keys: comma-separated list of all ayah keys that this tafsir covers.text: tafsir text. If blank, use the text from the group_ayah_key.