You are reading tafsir of 4 ayahs: 67:12 to 67:15.
১২-১৫ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
কাফিরদের অবস্থা বর্ণনা করার পর আল্লাহ তা‘আলাকে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে ভয় করে এমন ঈমানদারদের বিবরণ তুলে ধরেছেন। এখানে الْغَيْب শব্দ দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে :
১. যারা আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে চলে, অথচ তারা আল্লাহ তা‘আলাকে দেখেনি। আর যারা নাবী-রাসূলদের কথায় ঈমান এনে জান্নাতের আশায় সৎ আমল করে এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য অসৎ আমল থেকে বেঁচে থাকে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বড় প্রতিদান। এটা গায়েবের প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।
২. যারা আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে চলে লোকদের দৃষ্টির অন্তরালে একাকী অবস্থায়। লোকজনের সামনে যেমন অপরাধ করে না তেমনি লোকজনের আড়ালেও অপরাধ করে না। যেমন হাদীসে এসেছে : সাত শ্রেণীর মানুষকে আল্লাহ তা‘আলা আরশের ছায়ার নীচে ছায়া দেবেন যেদিন অন্য কোন ছায়া থাকবে না। তার মধ্যে একশ্রেণি হলো যাকে সুন্দরী ও সম্ভ্রান্ত নারী খারাপ কাজের জন্য ডাকে (এবং তার খারাপ কাজ করতে কোন বাধা নেই) কিন্তু সে বলে আমি আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করি। (সহীহ মুসলিম হা. ৬২৯)
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলছেন যে, তিনি (عَلِیْمٌۭ بِذَاتِ الصُّدُوْرِ) অর্থাৎ মানুষের প্রকাশ্য সহ অন্তরে যা উদ্রেক হয় তাও তিনি জানেন।
اللَّطِيْفُ অর্থ হল : সূক্ষ্মদর্শী।
الذي لطف علمه بما في القلوب
যিনি অন্তরের সমস্ত খবর জানেন ও দেখেন (ফাতহুল কাদীর)।
ذَلُوْلًا শব্দের অর্থ : এমন অনুগত যে, সামনে অবনত হয়ে যায় এবং কোন প্রকার অবাধ্য হয় না। অর্থাৎ জমিনকে আল্লাহ তা‘আলা মানুষের বসবাসের অনুগামী করে দিয়েছেন যাতে তারা চলতে-ফিরতে পারে। আনুগত্য বা বশীভূত হওয়া বা পোষ মানার এ গুণটি সাধারণত জন্তু জানোয়ারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এ গুণটি স্বয়ং পৃথিবীর উপরেও প্রযোজ্য। আমরা যে পৃথিবী দেখি, একই জায়গায় স্থির ও নিস্তদ্ধ হয়ে আছে, বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আসলে তা চলমান, শুধু চলমান নয় বরং সবেগে ধাবমান এক জন্তুর ন্যায়। আবার একই সাথে সে বিনয়াবনত এবং অনুগতও। সে তার আরোহীকে পিঠ থেকে নাড়া দিয়ে ফেলে দেয়না। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীতে যেমন মানুষকে সুন্দর ও সস্তির সাথে বসবাস করার সুযোগ দান করেছেন তেমনি পৃথিবী থেকে খাদ্যসম্ভারও উৎপন্ন করছেন।
مَنٰكِب শব্দটি منكب এর বহুবচন। অর্থ : দিক। অর্থাৎ পৃথিবীর দিক-দিগন্তে ভ্রমণ করা এবং তাতে দেওয়া রিযিক অন্বেষণ করা, রিযিকের জন্য ভ্রমণ করা, ব্যবসায় করা, কাজ করা ইত্যাদি আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করার পরিপন্থী নয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন; তোমরা যদি আল্লাহ তা‘আলার ওপর সত্যিকার ভরসা কর যেমন ভরসা করা উচিত তাহলে তিনি তোমাদেরকে পাখির মত রিযিক দেবেন। পাখি যেমন সকাল বেলা খালি পেটে বের হয় আবার বিকাল বেলা ভরা পেটে ফিরে আসে। (তিরমিযী হা. ২৩৪৪, ইবনু মাযাহ হা. ৪১৬৪, সহীহ)
সুতরাং প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে চলা এবং তাঁর ওপর ভরসা করা উচিত।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. যারা আল্লাহ তা‘আলাকে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে সর্বদা ভয় করে তাদের মর্যাদা জানলাম।
২. আল্লাহ তা‘আলা মানুষের অন্তরের খবরও রাখেন।
৩. পৃথিবীর সব কিছু আল্লাহ তা‘আলা মানুষের উপকারার্থে সৃষ্টি করেছেন।
৪. আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করার প্রকৃত অর্থ জানলাম।