Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Al-Mulk — Ayah 18

ءَأَمِنتُم مَّن فِي ٱلسَّمَآءِ أَن يَخۡسِفَ بِكُمُ ٱلۡأَرۡضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ ١٦ أَمۡ أَمِنتُم مَّن فِي ٱلسَّمَآءِ أَن يُرۡسِلَ عَلَيۡكُمۡ حَاصِبٗاۖ فَسَتَعۡلَمُونَ كَيۡفَ نَذِيرِ ١٧ وَلَقَدۡ كَذَّبَ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِمۡ فَكَيۡفَ كَانَ نَكِيرِ ١٨ أَوَلَمۡ يَرَوۡاْ إِلَى ٱلطَّيۡرِ فَوۡقَهُمۡ صَٰٓفَّٰتٖ وَيَقۡبِضۡنَۚ مَا يُمۡسِكُهُنَّ إِلَّا ٱلرَّحۡمَٰنُۚ إِنَّهُۥ بِكُلِّ شَيۡءِۭ بَصِيرٌ ١٩

১৬-১৯ নম্বর আয়াতের তাফসীর :

যারা সবর্দা কুফরী ও অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকে তাদেরকে এটা আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে ধমক ও সতর্কবার্তা যে, তোমরা কি আকাশে যিনি আছেন তাঁর ব্যাপারে নিশ্চিন্ত যে, তিনি তোমাদেরকে জমিনসহ ধসিয়ে দেবেন না; যার কারণে তোমরা অন্যায় কাজে সর্বদা ব্যস্ত থেকেই যাবে? প্রকৃতপক্ষে যেমনটি তোমরা মনে করছো বিষয়টি তেমন নয়। আল্লাহ তা‘আলা এতে সক্ষম, তারপরেও তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ যে, তিনি দুনিয়াতে তা করবেন না।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(وَلَوْ يُؤَاخِذُ اللّٰهُ النَّاسَ بِمَا كَسَبُوْا مَا تَرَكَ عَلٰي ظَهْرِهَا مِنْ دَآبَّةٍ وَّلٰكِنْ يُّؤَخِّرُهُمْ إِلٰٓي أَجَلٍ مُّسَمًّي فَإِذَا جَا۬ءَ أَجَلُهُمْ فَإِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِعِبَادِه۪ بَصِيْرًا ‏)‏

“আর যদি আল্লাহ মানুষকে তাদের কাজ-কর্মের দরুণ পাকড়াও করতেন তবে দুনিয়ার বুকে একটি প্রাণীকেও রেহাই দিতেন না। কিন্তু তিনি তাদেরকে এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্তঅবকাশ দেন। অতঃপর যখন এসে পড়বে তাদের সেই নির্র্দিষ্ট সময়, (তখন তিনি তাদের কর্মের প্রতিফল দেবেন) আল্লাহ তো তাঁর বান্দাদের (বিষয়ে) সর্বদ্রষ্টা।” ( সূরা ফাতির ৩৫ : ৪৫)

(أَنْ يُّرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا)

‘অথবা তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ যে, আকাশে যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদের ওপর পাথর বর্ষণকারী বাতাস প্রেরণ করবেন না?’

আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন :

(أَفَأَمِنْتُمْ أَنْ يَّخْسِفَ بِكُمْ جَانِبَ الْبَرِّ أَوْ يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا ثُمَّ لَا تَجِدُوْا لَكُمْ وَكِيْلًا) ‏

“তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ যে, তিনি তোমাদেরকেসহ কোন অঞ্চল ধসিয়ে দেবেন না অথবা তোমাদের ওপর শিলা বর্ষণকারী মেঘ প্রেরণ করবেন না? তখন তোমরা তোমাদের কোন কর্মবিধায়ক পাবে না।” (সূরা ইসরা ১৭ : ৬৮)

তারপর আল্লাহ তা‘আলা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন পূর্ববর্তী জাতির কথা। যেমন লূত (আঃ)-এর অবাধ্য জাতিকে তিনি অবাধ্যতার কারণে জমিনে ধসিয়ে দিয়েছিলেন, হস্তীবাহিনীকে পাথরের বৃষ্টি দ্বারা ধ্বংস করেছেন। অতএব তোমাদের ওপরও আল্লাহ তা‘আলা আযাব দিতে সক্ষম। তাই একজন মু’মিন কখনো আল্লাহ তা‘আলার পাকড়াও থেকে নিশ্চিন্ত থাকতে পারে না। বরং তার বিশ্বাস থাকবে এমন যে, যে- কোন সময় আল্লাহ তা‘আলা পাকড়াও করতে পারেন। হাদীসে এসেছে, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : কবীরাহ গুনাহ হল আল্লাহ তা‘আলার সাথে শির্ক করা, আল্লাহ তা‘আলার পাকড়াও থেকে নিরাপদ মনে করা এবং আল্লাহ তা‘আলার রহমত থেকে নিরাশ হওয়া। (মুু‘জামুল কাবীর, ইমাম তাবরানী হা. ৮৭৮৩)

(صٰٓفّٰتٍ وَّيَقْبِضْنَ)

অর্থাৎ পাখিরা যখন হাওয়াতে উড়তে থাকে, তখন তারা পাখা মেলে দেয়। কখনো উড়ন্ত অবস্থায় পাখা গুটিয়ে নেয়। এ পাখা মেলাকে فص-আর গুটিয়ে নেওয়াকে قبض বলে। আকাশে কে পাখিকে স্থির রাখেন? একমাত্র দয়াময় আল্লাহ তা‘আলা। আল্লাহ তা‘আলা কত ক্ষমতাবান। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে চলা উচিত, আল্লাহ তা‘আলার রহমতকে স্মরণ করা উচিত।

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :

১. আল্লাহ তা‘আলার পাকড়াও থেকে মুক্ত মনে করা কবীরা গুনাহ।

২. পূর্ববর্তী জাতিদের বিবরণ তুলে ধরার প্রধান কারণ হচ্ছে, তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।

৩. আল্লাহ তা‘আলার অশেষ ক্ষমতার কথা জানতে পারলাম।