You are reading tafsir of 8 ayahs: 67:20 to 67:27.
২০-২৭ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
যারা আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে অন্যদের ইবাদত করে এবং তাদের কাছে সাহায্য চায় ও রিযিক তলব করে তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাসের প্রতিবাদে আল্লাহ তা‘আলা বলছেন : তাদের কি এমন কোন বাহিনী আছে- যে তাদেরকে সম্পদ, সন্তান প্রদান ও বিপদাপদ থেকে রক্ষা করতে পারবে? না, এরূপ কিছুই নেই, বরং আকাশ ও জমিনের সকল বাহিনী আল্লাহ তা‘আলার। বরং তারা ধোঁকায় পড়ে আছে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَلِلّٰهِ جُنُوْدُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ ط وَكَانَ اللّٰهُ عَزِيْزًا حَكِيْمًا)
“আসমান ও জমিনের সব সেনাবাহিনী আল্লাহরই হাতে রয়েছে। তিনি মহা শক্তিশালী ও প্রজ্ঞাময়।” (সূরা ফাতহ ৪৮ : ৭)
এরপর আল্লাহ তা‘আলা মানুষের সামনে জীবিকার ব্যাপারে একটি প্রশ্ন তুলে ধরছেন এ জীবিকা সে প্রতিনিয়ত উপভোগ করছে অথচ তা কোথা থেকে এলো একটু চিন্তা করছে না, অথবা এ জীবিকা কখনো বন্ধ হয়ে যেতে পারে কিনা ইত্যাদি।
(إِنْ أَمْسَكَ رِزْقَه۪)
অর্থাৎ যদি আল্লাহ তা‘আলা কোন প্রকার রিযিক প্রদান না করেন তাহলে কে আছে যে রিযিক দেবে? অর্থাৎ কেউ নেই। মানুষ বলতে পারে, আমরাই তো কষ্ট করে ফসল ফলাই, নিজেরা কষ্ট না করলে তো রিযিক পাচ্ছিনা? তাহলে আল্লাহ তা‘আলা রিযিক কিভাবে দিল? আসলে আমরা যদি একটু চিন্তা করি যে, আমরা যে ফসল ফলাই তার জন্য সূর্যের আলো, পানি, উর্বর জমি, ঋতুর পরিবর্তন ইত্যাদি প্রয়োজন হয়। আল্লাহ তা‘আলা এসব না দিলে আমরা কি ফসল ফলাতে পারব? কখনোই না। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা আমাদের জন্য এসব দিয়ে দিয়েছেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(أَفَرَأَيْتُمْ مَّا تَحْرُثُوْنَ أَأَنْتُمْ تَزْرَعُوْنَهٓ۫ أَمْ نَحْنُ الزّٰرِعُوْنَ لَوْ نَشَا۬ءُ لَجَعَلْنٰهُ حُطَامًا فَظَلْتُمْ تَفَكَّهُوْنَ)
“তোমরা যে বীজ বপন কর সে বিষয়ে চিন্তা করেছ কি? তোমরা কি ওকে অঙ্কুরিত কর, না আমি অঙ্কুরিত করি? আমি ইচ্ছা করলে একে খড়কুটোয় পরিণত করতে পারি, তখন তোমরা হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে” (সূরা ওয়াকিয়া ৫৬ : ৬৪)
(عُتُوٍّ وَّنُفُوْرٍ) অর্থাৎ তারা তাদের অবাধ্যতা ও ভ্রষ্টতার মধ্যে অবিচল রয়েছে। তারপর আল্লাহ তা‘আলা মু’মিন ও কাফিরদের একটি উদাহরণ দিচ্ছেন। কাফিরদের উদাহরণ সে ব্যক্তির মত যে মুখে ভর দিয়ে চলে ও ডান-বামে কিছুই দেখতে পায় না। যে ব্যক্তি মুখে ভর দিয়ে চলে সে যেমন গন্তব্যে পৌঁছতে পারে না তেমন কাফিররাও গন্তব্যে পৌঁছতে পারে না।
(يَّمْشِيْ سَوِيًّا)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি সরল-সঠিক পথে চলে। এটা হল মু’মিনদের বৈশিষ্ট্য। মু’মিনরা সরল সঠিক পথে চলে যা তাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। আর কাফিরদেরকে চেহারার ওপর দিয়ে হাঁকিয়ে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া হবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(اُحْشُرُوا الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا وَاَزْوَاجَھُمْ وَمَا کَانُوْا یَعْبُدُوْنَﭥﺫ مِنْ دُوْنِ اللہِ فَاھْدُوْھُمْ اِلٰی صِرَاطِ الْجَحِیْمِﭦ وَقِفُوْھُمْ اِنَّھُمْ مَّسْئُوْلُوْنَﭧﺫ مَا لَکُمْ لَا تَنَاصَرُوْنَﭨ بَلْ ھُمُ الْیَوْمَ مُسْتَسْلِمُوْنَﭩ)
“(ফেরেশতাদেরকে বলা হবে :) একত্র কর জালিমদেরকে এবং তাদের সাথীদেরকে আর তাদেরকে যাদের তারা ‘ইবাদত করত আল্লাহ ব্যতীত। অতএব তাদেরকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাও জাহান্নামের পথে। আর তাদেরকে একটু থামাও, অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞাস করা হবে। তোমাদের কী হল যে, একে অন্যের সাহায্য করছ না। বরং সেদিন তারা সবাই হবে আত্মসমর্পণকারী।” ( সূরা সফফাত ৩৭ : ২২-২৬)
আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে যে সকল নেয়ামত দান করেছেন, এখানে তার মধ্যে অন্যতম কয়েকটির কথা উল্লেখ করেছেন। মানব দেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল কান ও চোখ। কান ও চোখ না থাকলে সে বাহ্যিকভাবে সম্পূর্ণ অচল, সে চলতে পারবে না, কিছু দেখতে পাবে না এবং শুনতেও পাবে না। আর অন্তরশক্তি না থাকলে ভাল-মন্দ ও সত্য-মিথ্যা কিছুই পার্থক্য করতে পারবে না। অথচ এসব নেয়ামত পাওয়ার পরেও অধিকাংশ মানুষ আল্লাহ তা‘আলার অকৃতজ্ঞ হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَقَلِيْلٌ مِّنْ عِبَادِيَ الشَّكُوْرُ)
“আমার বান্দাদের মধ্যে খুব অল্পই কৃতজ্ঞ।” (সূরা সাবা ৩৪ : ১২)
অতঃপর মক্কার মুশরিকরা কিয়ামতকে অস্বীকার করে বলত : কিয়ামত কখন হবে? কিয়ামত কখন হবে-আল্লাহ তা‘আলা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে বললেন যে, তুমি বলে দাও : এ জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার কাছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিবরীল কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন : জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে বেশি জানেনা। (সহীহ বুখারী হা. ৪৭৭৭, সহীহ মুসলিম হা. ৮)
অর্থাৎ কিয়ামতকে অস্বীকার করার কারণে কাফিররা কিয়ামতের দিন দিশেহারা হয়ে যাবে, চেহারা মলিন হয়ে যাবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. কাফিররা বাস্তবেই ধোঁকায় আছে।
২. আল্লাহ তা‘আলা রিযিক বন্ধ করে দিলে তা পুনরায় দেওয়ার কেউ নেই। অতএব তাঁর কাছেই সকল প্রকার রিযিক চাওয়া উচিত।
৩. আল্লাহ তা‘আলার নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
৪. পুনরুত্থান দিবসের সময় সম্পর্কে একমাত্র আল্লাহই জানেন।
QUL supports exporting tafsir content in both JSON and SQLite formats.
Tafsir text may include <html> tags for formatting such as <b>,
<i>, etc.
Note:
Tafsir content may span multiple ayahs. QUL exports both the tafsir text and the ayahs it applies to.
Example JSON Format:
{
"2:3": {
"text": "tafisr text.",
"ayah_keys": ["2:3", "2:4"]
},
"2:4": "2:3"
}
"ayah_key" in "surah:ayah", e.g. "2:3" means
3rd ayah of Surah Al-Baqarah.
text: the tafsir content (can include HTML)ayah_keys: an array of ayah keys this tafsir applies toayah_key where the tafsir text can be found.
ayah_key: the ayah for which this record applies.group_ayah_key: the ayah key that contains the main tafsir text (used for shared tafsir).
from_ayah / to_ayah: start and end ayah keys for convenience (optional).ayah_keys: comma-separated list of all ayah keys that this tafsir covers.text: tafsir text. If blank, use the text from the group_ayah_key.