You are reading tafsir of 3 ayahs: 67:28 to 67:30.
২৮-৩০ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
যারা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ধ্বংস কামনা করত আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে বলে দেওয়ার জন্য নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলছেন- বলে দাও : যদি তোমরা নিরাপদ থেকে যাও আর আল্লাহ তা‘আলা আমাকে ও আমার অনুসারীদের ধ্বংস করে দেন তাহলে এতে তোমাদের কোন উপকার হবে না। কেননা তোমরা আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শনকে অস্বীকার করছো, অতএব তোমাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি থেকে কে নাজাত দেবে? হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আরো বলে দাও যে, আমি দয়াময় আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর ওপর ভরসা করি। অতএব অচিরেই জানতে পারবে কে পথভ্রষ্ট।
غَوْرًا অতল তলে চলে যাওয়া। অর্থাৎ যদি পানি জমিনের অতলতলে মানুষের ক্ষমতার বাইরে চলে যায় তাহলে এনে দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই রাখেন। এটি মানুষের জীবনে অতি ঘনিষ্ট ও অতি প্রয়োজনীয় বরং অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ। বিশেষ করে মরু অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের। কারণ তারা যেখানে কোন কূপ বা পানির নালা পেত সেখানেই বসবাস করতো। তাই আল্লাহ তা‘আলা তাদের জীবন ধারণের এ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সম্পর্কে বলছেন যদি এ পানি অতলতলে চলে যায় তাহলে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই এনে দিতে পারেন, অন্য কেউ না।
সুতরাং মানুষের মনমগজে যদি আল্লাহ তা‘আলার সার্বভৌমত্ব ও সর্বশক্তিমান হওয়ার বিশ্বাস বিদ্যমান থাকে এবং বিশ্বাস করে যে, তাদের ক্ষণিকের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে অতঃপর তাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে ও সকল কর্মের হিসাব দিতে হবে তাহলে তার দ্বারা কোন প্রকার অবাধ্যতামূলক কাজ হওয়া সম্ভব নয়।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করা ওয়াজিব।
২. সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এবং বাতিলকে দূরীভূত করার জন্য তর্ক-বিতর্ক করা শরীয়ত সম্মত।