Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Al-Qalam — Ayah 17

إِنَّا بَلَوۡنَٰهُمۡ كَمَا بَلَوۡنَآ أَصۡحَٰبَ ٱلۡجَنَّةِ إِذۡ أَقۡسَمُواْ لَيَصۡرِمُنَّهَا مُصۡبِحِينَ ١٧ وَلَا يَسۡتَثۡنُونَ ١٨ فَطَافَ عَلَيۡهَا طَآئِفٞ مِّن رَّبِّكَ وَهُمۡ نَآئِمُونَ ١٩ فَأَصۡبَحَتۡ كَٱلصَّرِيمِ ٢٠ فَتَنَادَوۡاْ مُصۡبِحِينَ ٢١ أَنِ ٱغۡدُواْ عَلَىٰ حَرۡثِكُمۡ إِن كُنتُمۡ صَٰرِمِينَ ٢٢ فَٱنطَلَقُواْ وَهُمۡ يَتَخَٰفَتُونَ ٢٣ أَن لَّا يَدۡخُلَنَّهَا ٱلۡيَوۡمَ عَلَيۡكُم مِّسۡكِينٞ ٢٤ وَغَدَوۡاْ عَلَىٰ حَرۡدٖ قَٰدِرِينَ ٢٥ فَلَمَّا رَأَوۡهَا قَالُوٓاْ إِنَّا لَضَآلُّونَ ٢٦ بَلۡ نَحۡنُ مَحۡرُومُونَ ٢٧ قَالَ أَوۡسَطُهُمۡ أَلَمۡ أَقُل لَّكُمۡ لَوۡلَا تُسَبِّحُونَ ٢٨ قَالُواْ سُبۡحَٰنَ رَبِّنَآ إِنَّا كُنَّا ظَٰلِمِينَ ٢٩ فَأَقۡبَلَ بَعۡضُهُمۡ عَلَىٰ بَعۡضٖ يَتَلَٰوَمُونَ ٣٠ قَالُواْ يَٰوَيۡلَنَآ إِنَّا كُنَّا طَٰغِينَ ٣١ عَسَىٰ رَبُّنَآ أَن يُبۡدِلَنَا خَيۡرٗا مِّنۡهَآ إِنَّآ إِلَىٰ رَبِّنَا رَٰغِبُونَ ٣٢ كَذَٰلِكَ ٱلۡعَذَابُۖ وَلَعَذَابُ ٱلۡأٓخِرَةِ أَكۡبَرُۚ لَوۡ كَانُواْ يَعۡلَمُونَ ٣٣

১৭-৩৩ নম্বর আয়াতের তাফসীর :

আলোচ্য আয়াতের প্রথমটিতে আল্লাহ তা‘আলা একজন বাগানের মালিকের সন্তানদের ঘটনা উল্লেখ করছেন। কৃপণতার জন্য যেমন আল্লাহ তা‘আলা তাদের শাস্তি দিয়েছেন তেমন মক্কাবাসী কাফিরদেরও শাস্তি প্রদান করেছেন।

ঘটনার সারসংক্ষেপ হল : বাগানের মালিক ইয়ামানের একটি গ্রাম জরওয়ান (ضروان) এর অধিবাসী। তা সানআ থেকে ৬ মাইল দূরে। আবার বলা হয় তারা হাবশাবাসী। এ বাগানের মালিক আহলে কিতাব ছিলেন। তিনি বাগান থেকে যা পেতেন তার এক ভাগ নিজ পরিবারের সারা বছরের খরচ হিসাবে রাখতেন, আরেক ভাগ পরবর্তী রছর ফসল উৎপাদনের জন্য রাখতেন, অন্য ভাগ গরীব মিসকীনদের দান করতেন। মালিক মারা গেলে তার সন্তানেরা নীতি বহির্ভূত কাজ করতে লাগল। বলল : আমাদের পিতা একজন বোকা লোক ছিলেন। আমরা গরীর মিসকীনদের কিছুই দেব না, সব জমা করব। তাই তাদের পরিকল্পনা ছিল : সকাল সকাল বাগানে চলে যাবে যাতে কোন মিসকীন না দেখে। তারা তাই করল, তারা সকাল সকাল রওনা দিল কিন্তু তাদের এসব কথাবার্তার পূর্বে ইনশা-আল্লাহ বলেনি। ফলে বাগানে যেয়ে দেখে সব ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা বলাবলি করতে লাগল : আমরা মনে হয় পথ ভুল করে এসেছি। তাদের মধ্যে যে শ্রেষ্ঠ ছিল সে বলল : আমি কি বলিনি যে তোমরা ইনশা-আল্লাহ বলোনি। তারা মাহরুম হল। এভাবেই আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে বঞ্চিত করলেন। তাদের এ পরিণতির কারণ হচ্ছে : তারা ফসলের যাকাত তথা উশর আদায় করেনি।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(وَاٰتُوْا حَقَّه۫ يَوْمَ حَصَادِه)

“আর ফসল তোলার দিনে তার হক প্রদান করবে” (সূরা আন‘আম ৬ : ১৪১)।

এ আয়াতগুলো প্রমাণ করছে যে, মানুষ কোন অন্যায় কাজ করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করলে সেজন্য তাকে পাকড়াও করা হবে। যেমন এরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছিল, ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলেন। আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন :

وَمَنْ يُّرِدْ فِيْهِ بِإِلْحَادٍمبِظُلْمٍ نُّذِقْهُ مِنْ عَذَابٍ أَلِيْمٍ

“আর যে ইচ্ছা করে পাপ কাজে সীমালঙ্ঘন করে, তাকে আমি আস্বাদন করাব যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি‎।” (সূরা হাজ্জ ২২ : ২৫)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : যখন দু’জন মুসলিম তরবারী নিয়ে মুখোমুখি হয়ে একজন অন্যজনকে হত্যা করে তখন হত্যাকারী ও নিহত উভয় জাহান্নামী। বলা হল : হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! এ শাস্তি তো হত্যাকারীর জন্য কিন্তু নিহত ব্যক্তির কী হল? তিনি বললেন : সে তার সাথী (হত্যাকারীকে) হত্যা করার জন্য উৎসাহী ছিল (তাই উভয় সমান শাস্তি পাবে)। (সহীহ বুখারী হা. ৩১, সহীহ মুসলিম হা. ২৮৮৮)

لَا يَسْتَثْنُوْنَ অর্থ : ইনশা-আল্লাহ বলেনি। طائفة অর্থ : آفة سماوية আসমানী বালা মসিবত। صريم অর্থ : ফসল কাটা বা ফসল তোলা। صرد শব্দের অর্থ : শক্তি, কঠোরতা করা। কেউ অর্থ করেছেন : ==

==অসম্পুর্ন