You are reading tafsir of 12 ayahs: 79:15 to 79:26.
১৫-২৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর:
কিয়ামতের ভয়াবহতার বর্ণনার মাধ্যমে কিয়ামত অস্বীকারকারীদের কথার জবাব দেওয়া শেষে এবারে আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আঃ) ও ফির‘আউনের ঘটনা বর্ণনার মাধ্যমে স্বীয় রাসূলকে এবং ঈমানদারদেরকে সান্ত্বনা প্রদান করছেন। আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাঃ)-এর নিকট মূসা (আঃ)-এর ঘটনা জিজ্ঞাসাকারে তুলে ধরছেন যে, তিনি মূসা (আঃ)-কে পবিত্র তুর পাহাড়ে ডেকে নিলেন এবং নির্দেশ দিলেন, সে যেন ফির‘আউনের কাছে দাওয়াত পৌঁছে দেয়। এটা তখনকার ঘটনা যখন মূসা (আঃ) মাদইয়ান শহর থেকে ফেরার পথে আগুন খোঁজার জন্য তুর পাহাড়ে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি গাছের অন্তরাল থেকে আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আঃ)-এর সাথে কথোপকথন করেন। সূরা ত্বহাতে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
(فَأَرَاهُ الْا۬يَةَ الْكُبْرٰي)
অর্থাৎ মূসা (আঃ) ফির‘আউনকে বড় বড় নিদর্শন দেখালেন। যেমন লাঠি সাপে পরিণত করা। কিন্তু ফির‘আউন সকল মু’জিযাহ মিথ্যা প্রতিপন্ন করল এবং রবের অবাধ্য হল আর ঈমান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল ও মূসা (আঃ) যা নিয়ে এসেছে তা মুকাবেলা করার জন্য জাদুকরদের একত্র করল।
(فَحَشَرَ فَنَادٰي)
অর্থাৎ ফির‘আউন তার সম্প্রদায়কে একত্র করে ঘোষণা দিল যে, সে-ই সর্বশ্রেষ্ঠ রব। যেমন অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَقَالَ فِرْعَوْنُ يٰٓأَيُّهَا الْمَلَأُ مَا عَلِمْتُ لَكُمْ مِّنْ إلٰهٍ غَيْرِيْ)
“ফির‘আউন বলল: ‘হে পরিষদবর্গ। আমি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ আছে বলে আমি জানি না।” (সূরা কাসাস ২৮: ৩৮)
ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে শাস্তি দ্বারা দুনিয়া ও আখিরাতে পাকড়াও করলেন। সর্বশেষে আল্লাহ তা‘আলা বললেন : ফির‘আউনের এ ঘটনার মধ্যে শিক্ষা রয়েছে তাদের জন্য যারা আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে। অতএব যারা ফির‘আউনের মত নাবীদের অবাধ্য হবে এবং ঈমান বর্জন করবে তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. শিক্ষা দেয়ার অন্যতম একটি মাধ্যম হল জিজ্ঞাসাসূচক প্রশ্ন করা।
২. পূর্ববর্তী নাবী ও তাদের অবাধ্য জাতিদের ঘটনা বর্ণনার মাধ্যমে পরবর্তী জাতিদেরকে শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে।
৩. নব্য ফির‘আউনদের প্রাচীন ফির‘আউন থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত।