Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah An-Nazi'at — Ayah 38

فَإِذَا جَآءَتِ ٱلطَّآمَّةُ ٱلۡكُبۡرَىٰ ٣٤ يَوۡمَ يَتَذَكَّرُ ٱلۡإِنسَٰنُ مَا سَعَىٰ ٣٥ وَبُرِّزَتِ ٱلۡجَحِيمُ لِمَن يَرَىٰ ٣٦ فَأَمَّا مَن طَغَىٰ ٣٧ وَءَاثَرَ ٱلۡحَيَوٰةَ ٱلدُّنۡيَا ٣٨ فَإِنَّ ٱلۡجَحِيمَ هِيَ ٱلۡمَأۡوَىٰ ٣٩ وَأَمَّا مَنۡ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِۦ وَنَهَى ٱلنَّفۡسَ عَنِ ٱلۡهَوَىٰ ٤٠ فَإِنَّ ٱلۡجَنَّةَ هِيَ ٱلۡمَأۡوَىٰ ٤١ يَسۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلسَّاعَةِ أَيَّانَ مُرۡسَىٰهَا ٤٢ فِيمَ أَنتَ مِن ذِكۡرَىٰهَآ ٤٣ إِلَىٰ رَبِّكَ مُنتَهَىٰهَآ ٤٤ إِنَّمَآ أَنتَ مُنذِرُ مَن يَخۡشَىٰهَا ٤٥ كَأَنَّهُمۡ يَوۡمَ يَرَوۡنَهَا لَمۡ يَلۡبَثُوٓاْ إِلَّا عَشِيَّةً أَوۡ ضُحَىٰهَا ٤٦

৩৪-৪৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর:

(الطَّامَّةُ الْكُبْرٰي)

(মহা সংকট) কিয়ামতের অন্যতম নাম। কেননা সে দিন হবে খুবই ভয়াবহ ও গোলযোগপূর্ণ দিন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

(بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهٰي وَأَمَرُّ)‏

“অধিকন্তু কিয়ামত তাদের আযাবের নির্ধারিতকাল এবং কিয়ামত হবে কঠিনতর ও তিক্তকর।” (সূরা কামার ৫৪ : ৪৬)

কিয়ামত দিবসে মানুষ তার ভাল-মন্দ প্রত্যেক আমল প্রত্যক্ষ করবে। আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:

(وَجِایْ۬ ئَ یَوْمَئِذٍۭ بِجَھَنَّمَﺃ یَوْمَئِذٍ یَّتَذَکَّرُ الْاِنْسَانُ وَاَنّٰی لَھُ الذِّکْرٰی)

“এবং সেদিন জাহান্নামকে আনা হবে, সেদিন মানুষ স্মরণ করবে, কিন্তু এই স্মরণ তার কি কাজে আসবে?” (সূরা ফাজর ৮৯: ২৩)

(وَبُرِّزَتِ الْـجَحِيْمُ)

অর্থাৎ أظهرت বা প্রত্যেক কাফিরদের জন্য জাহান্নাম প্রকাশ করে দেয়া হবে যাতে তাদের আফসোস আরো বেড়ে যায়। কোন কোন আলেম বলেন: মু’মিনরাও কাফিরদের মত জাহান্নাম দেখবে। মু’মিনরা তা দেখে আল্লাহ তা‘আলার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবে যে, ঈমান ও আমলের বদৌলতে তিনি তাদেরকে জাহান্নাম হতে রক্ষা করেছেন।

طَغٰي অর্থাৎ যারা কুফরী ও পাপ কাজের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যায় এবং দুনিয়াকে প্রাধান্য দেয়, দুনিয়া হাসিল করতে দীন ঠিক থাকল, না লংঘন হল তার তোয়াক্কা করে না তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। পক্ষান্তরে যারা আল্লাহ তা‘আলার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে অর্থাৎ সে জানে যে, একদিন আমার মরণ হবে, আমার ভাল-মন্দ কর্মের হিসাব দিতে হবে এবং এ বিশ্বাস অনুযায়ী আমল করে আর নিজের কুপ্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে, মনে যা চায় তাই করে নাÑতাদের ঠিকানা জান্নাত।

(أَيَّانَ مُرْسَاهَا)

অর্থাৎ কাফির-মুশরিকরা নাবী (সাঃ)-কে কিয়ামত সংঘঠিত হওয়ার ব্যাপারকে অবজ্ঞা করে জিজ্ঞাসা করে তা কখন হবে? আল্লাহ তা‘আলা বলে দিচ্ছেন : এ বিষয়ে তোমার ও কোন মাখলুকের জ্ঞান নেই। বরং আল্লাহ তা‘আলাই জানেন কখন কিয়ামত সংঘটিত হবে। জিবরীল (আঃ) নাবী (সাঃ)-কে কিয়ামত কখন হবে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে জবাবে বলেন :

مَا المَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ

অর্থ : এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে অধিক অবগত নয়। (সহীহ মুসলিম, মিশকাত হা. ০১)

(أَنْتَ مُنْذِرُ مَنْ يَّخْشَاهَا)

অর্থাৎ তোমাকে প্রেরণ করেছি কেবল মানুষকে আমার শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য। অতএব যারা আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করবে ও তোমার অনুসরণ করবে তারাই সফলকাম ও নাজাত প্রাপ্ত হবে।

عَشِيَّةً - (عَشِيَّةً أَوْ ضُحَاهَا)

অর্থ সূর্য ঢলে পড়া থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়। ضُحَا অর্থ সূর্যোদয় থেকে সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়া পর্যন্ত সময়। অর্থাৎ মানুষ যখন স্ব-স্ব কবর থেকে উঠে হাশরের ময়দানে সমবেত হবে তখন পৃথিবীর জীবনকাল তাদের কাছে খুবই কম সময় বলে গণ্য হবে। তাদের মনে হবে তারা দুনিয়াতে দিনের এক বিকাল বা দিনের প্রথম ভাগের কিছু সময় অবস্থান করেছে। কাতাদাহ (রহঃ) বলেন : কাফিররা যখন আখিরাত প্রত্যক্ষ করবে তখন তাদের কাছে দুনিয়ার জীবন এরূপ মনে হবে।

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

১. প্রত্যেক মানুষের কিয়ামতের দিন তার ভাল-মন্দ সকল আমলের কথা স্মরণ হবে।

২. জাহান্নামকে প্রকাশ করে দেয়ার হেকমত জানলাম।

৩. যারা দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দিয়ে আখিরাতকে ভুলে গিয়ে আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্য হয় তাদের ঠিকানা জাহান্নাম।

৪. যারা নিজের কুপ্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে তাদের ফযীলত জানলাম।

৫. কাফিরদের দৃষ্টিতে আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবন অতি নগণ্য মনে হবে।