You are reading tafsir of 6 ayahs: 83:1 to 83:6.
নামকরণ ও শানে নুযূল:
المطففين শব্দটি مطفف এর বহুবচন। অর্থ হলো: মাপে কম দানকারীগণ। প্রথম আয়াতেই এ শব্দটি উল্লেখ রয়েছে। এখান থেকেই সূরার নামকরণ করা হয়েছে।
সূরাতে দুটি বিষয় আলোচিত হয়েছে। এক, মাপে ও ওজনে কমবেশি করার পরিণতি এবং দুই, ইল্লিয়ীন ও সিজ্জীনে নেককার ও বদকারদের আমলনামা সংরক্ষিত হওয়া।
১-৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর:
وَيْلٌ অর্থ দুর্ভোগ বা ধবংস। তবে এখানে وَيْلٌ এর সাথে يَّوْمَئِذٍ যোগ হওয়ায় অর্থ হবে জাহান্নাম। কেননা কিয়ামতের দিন দুর্ভোগের চূড়ান্ত পর্যায় হল জাহান্নাম।
(إِذَا اكْتَالُوْا) অর্থাৎ তারা যখন মানুষের কাছ থেকে মেপে নেয় তখন পরিপূর্ণভাবে মেপে নেয়। পক্ষান্তরে যখন মানুষকে মেপে দেয় তখন কম করে দেয়। এ চরিত্র ছিল শুয়াইব (আঃ)-এর জাতির। যারা এরূপ করে তাদের ধ্বংস অবধারিত, যেমন শুয়াইব (আঃ)-এর জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছিল। তাই আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে পরিপূর্ণভাবে মেপে দেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন।
(وَأَوْفُوا الْكَيْلَ إِذَا كِلْتُمْ وَزِنُوْا بِالْقِسْطَاسِ الْمُسْتَقِيْمِ ط ذٰلِكَ خَيْرٌ وَّأَحْسَنُ تَأْوِيْلًا)
“মাপ দেয়ার সময় পূর্ণ মাপে দেবে এবং ওজন করবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায়, এটাই উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্ট।” (সূরা ইসরা ১৭: ৩৫)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন :
(وَأَوْفُوا الْكَيْلَ وَالْمِيْزَانَ بِالْقِسْطِ ج لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا)
“এবং পরিমাণ ও ওজন ন্যায্যভাবে পুরোপুরি দেবে। আমি কাউকেও তার সাধ্যাতীত ভার অর্পণ করি না।” (সূরা আন‘আম ৬: ১৫২)
একটি হাদীসে বর্ণিত আছে : যে জাতিই মাপ ও ওজনে কম দেবে সে জাতিই দুর্ভিক্ষ, খাদ্য সংকট ও শাসক গোষ্ঠির অত্যাচারের শিকার হবে। (ইবনু মাযাহ হা. ৫০১৯, সিলসিলা সহীহাহ হা. ১০৬)
অতএব আমাদের এ সকল অপরাধ থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ধমক দিচ্ছেন যারা ওজনে মানুষকে কম দেয়Ñ তারা কি ভয় করে না পুনরুত্থান ও আল্লাহ তা‘আলার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে যিনি প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সবকিছু জ্ঞাত। কিয়ামত দিবসে মানুষ নগ্ন পায়ে উলঙ্গ ও খাতনাবিহীন অবস্থায় আল্লাহ তা‘আলার সামনে হাজির হবে। সেদিন মানুষ নিজের ঘামের মধ্যে নিমজ্জিত হবে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন : কিয়ামতের দিন সূর্য মানুষের এতো নিকটে থাকবে যে, তার দূরত্ব হবে এক মাইল বা দু মাইল। ঐ সময় সূর্যের প্রচন্ড তাপ হবে। প্রত্যেক লোক নিজ নিজ আমল অনুপাতে ঘামের মধ্যে ডুবে যাবে। কারো পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত ঘাম পৌঁছবে, আবার কারো ঘাম লাগামের মত হয়ে যাবে। (সহীহ মুসলিম হা. ২১৯৬)
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলূল্লাহ (সাঃ) বলেন : পাঁচটি বস্তু পাঁচটি বস্তুর কারণে হয়ে থাকে।
(১) কোন জাতি চুক্তিভঙ্গ করলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের ওপরে তাদের শক্রকে বিজয়ী করেন।
(২) কেউ আল্লাহ তা‘আলার নাযিলকৃত বিধান ছাড়া অন্য বিধান দ্বারা দেশের শাসন করলে তাদের মধ্যে দারিদ্র ছড়িয়ে পড়ে।
(৩) কোন জাতির মধ্যে অশ্লীল কাজ বিস্তার লাভ করলে তাদের মধ্যে মহামারি ছড়িয়ে পড়ে।
(৪) কেউ মাপে বা ওজনে কম দিলে তাদের জন্য খাদ্য-শস্যের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয় এবং দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।
(৫) কেউ যাকাত দেয়া বন্ধ করে দিলে তাদের থেকে বৃষ্টি তুলে নেয়া হয়।
(সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব হা. ৭৬৫, সহীহুল জামে হা. ৩২৪০)
সূরার শুরু থেকে এ পর্যন্ত এসে আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)-এর কিরাত বন্ধ হয়ে যেত এবং ক্রন্দন করতেন (কুরতুবী)। অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, কিয়ামতের দিন ঘামে কারো কারো কানের অর্ধেক পর্যন্ত ডুবে যাবে। (সহীহ বুখারী হা. ৪৯৩৮, সহীহ মুসলিম হা. ২৮৬২)
মিকদাদ বিন আসওয়াদ আল কিন্দী (রাঃ) বলেন : আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি : কিয়ামতের দিন সূর্য এক মাইল বা দু মাইল ওপরে চলে আসবে। অতঃপর সূর্যতাপে তাদের দেহ গলে যাবে। তাদের পাপের পরিমাণ অনুযায়ী কারো হাটু পর্যন্ত, কারো কোমর পর্যন্ত, কারো পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত, কারো বুক পর্যন্ত ঘামে ডুবে যাবে। (সহীহ মুসলিম হা. ২৮৬৪)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মানুষকে ওজনে কম দেওয়া হারাম।
২. যারা মানুষের কাছ থেকে নেয়ার সময় ঠিকমত মেপে নেয় কিন্তু দেয়ার সময় কম দেয় তাদের ওপর দুর্ভোগ।
৩. শুয়াইব (আঃ)-এর জাতি এ অপরাধে লিপ্ত ছিল। নিষেধাজ্ঞার পরেও বিরত না থাকার কারণে তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।
৪. কিয়ামতের দিন মানুষ নিজ ঘামের সাগরে নিমজ্জিত হয়ে যাবে।