Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Al-Mutaffifin — Ayah 22

كـَلَّآ إِنَّ كِتَٰبَ ٱلۡأَبۡرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ١٨ وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا عِلِّيُّونَ ١٩ كِتَٰبٞ مَّرۡقُومٞ ٢٠ يَشۡهَدُهُ ٱلۡمُقَرَّبُونَ ٢١ إِنَّ ٱلۡأَبۡرَارَ لَفِي نَعِيمٍ ٢٢ عَلَى ٱلۡأَرَآئِكِ يَنظُرُونَ ٢٣ تَعۡرِفُ فِي وُجُوهِهِمۡ نَضۡرَةَ ٱلنَّعِيمِ ٢٤ يُسۡقَوۡنَ مِن رَّحِيقٖ مَّخۡتُومٍ ٢٥ خِتَٰمُهُۥ مِسۡكٞۚ وَفِي ذَٰلِكَ فَلۡيَتَنَافَسِ ٱلۡمُتَنَٰفِسُونَ ٢٦ وَمِزَاجُهُۥ مِن تَسۡنِيمٍ ٢٧ عَيۡنٗا يَشۡرَبُ بِهَا ٱلۡمُقَرَّبُونَ ٢٨

১৮-২৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর:

পূর্ববর্তী আয়াতসমূহে কাফির, মুনাফিক ও পাপিষ্ঠ লোকদের খারাপ পরিণতির কথা আলোচনার পর আল্লাহ তা‘আলা এখানে সৎলোকদের আলোচনা নিয়ে এসেছেন এবং তারা যেসব নেয়ামতে থাকবে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

عِلِّيِّيْنَ শব্দটি এসেছে علو থেকে, যার অর্থ উচ্চ। এটি হলো سِجِّيْنٌ এর বিপরীত। হেলাল বিন এসাফ (রাঃ) বলেন : ইবনু আব্বাস (রাঃ) কাব (রাঃ)-কে سِجِّيْنٌ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। আমি তখন উপস্থিত, জবাবে তিনি বললেন : سِجِّيْنٌ হলো সাত জমিনের নীচে অবস্থিত। সেখানে কাফিরদের আত্মা রয়েছে। আর عِلِّيِّيْنَ হলো সাত আকাশের ওপরে, সেখানে মু’মিনদের আত্মা রয়েছে। (ইবনু কাসীর) মূলত عِلِّيِّيْنَ এর ব্যাখ্যা পরের আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা নিজেই বলে দিয়েছেন। অর্থাৎ عِلِّيِّيْنَ মু’মিনদের আমলনামাকে বলা হয়। তবে কেউ বলেছেন এটা عِلِّيِّيْنَ এর ব্যাখ্যা নয়, বরং عِلِّيِّيْنَ মু’মিনদের দফতর, যেখানে তাদের নেক আমলসমূহ লিপিবদ্ধ থাকে (কুরতুবী)। উচ্চমর্যাদার কারণে এ দফতরকে عِلِّيِّيْنَ বলা হয়।

(يَّشْهَدُهُ الْمُقَرَّبُوْنَ)

“(আল্লাহর) সান্নিধ্যপ্রাপ্ত ফেরেশ্তারা তা প্রত্যক্ষ করবে।” এখানে ফেরেশতা ও বান্দা উভয় অর্থ নেয়া যায়। অর্থাৎ ফেরেশতারা, নাবীদের আত্মা, সিদ্দিক ও শহীদরা তাদের আমলনামা দেখতে পাবে। আল্লাহ তা‘আলা তাদের কথা ঊর্ধ্ব জগতে আলোচনা করেন। (তাফসীর সা‘দী) ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেনÑ প্রত্যেক আকাশের ফেরেশতারা তা প্রত্যক্ষ করে।

অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলছেন : এ সকল সৎ লোকরা নেয়ামত তথা জান্নাতে থাকবে। আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য যা তৈরি করে রেখেছেন জান্নাতের পালং-এ বসে বসে তা প্রত্যক্ষ করবে এবং আল্লাহ তা‘আলার চেহারার দিকেও তাকিয়ে দেখবে। (তাফসীর সা‘দী)

(نَضْرَةَ النَّعِيْمِ)

অর্থাৎ তাদের চেহারায় নেয়ামতের উজ্জ্বলতা দেখা যাবে।

رَّحِيْقٍ হলো জান্নাতীদেরকে যে পানীয় প্রদান করা হবে তার মধ্যে সর্বোত্তম ও সুস্বাদু। (তাফসীর সা‘দী)

مَّخْتُوْمٍ “মোহরাংকিত” বলে তার সুস্বাদ আরো সুস্পষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ এমন সর্বোত্তম ও সুস্বাদু পানীয় সৎলোকদের জন্য সেখানে প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে যা কস্তুরী দ্বারা মোহারাংকিত কারো জন্য তা উন্মোচন করা হয়নি। নাবী (সাঃ) বলেন : যে মু’মিন ব্যক্তি কোন পিপাসিত মু’মিনকে দুনিয়াতে এক ঢোক পানি পান করাবে আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাকে রাহীকুল মাখতুমের বা মোহরাংকিত (ছিপিআঁটা বোতলের) সুস্বাদু পানি পান করাবেন। যে ব্যক্তি কোন ক্ষুধার্ত মু’মিনকে খাবার খাওয়াবে আল্লাহ তা‘আলা তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন। যে ব্যক্তি কোন বিবস্ত্র মু’মিনকে বস্ত্র পরিধান করাবে তাকে আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতের সবুজ বস্ত্র পরিধান করাবেন। (আহমাদ, তিরমিযী হা. ২৪৪৯, হাদীসটি দুর্বল।)

(فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُوْنَ)

অতএব এরূপ নেয়ামত পাওয়ার জন্য যেন সৎ আমলের মাধ্যমে প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

(لِمِثْلِ هٰذَا فَلْيَعْمَلِ الْعٰمِلُوْنَ)

“এরূপ সফলতার জন্যই কর্মীদের কাজ করা উচিত।” (সূরা সাফফাত ৩৭: ৬১)

(مِزَاجُه۫ مِنْ تَسْنِيْمٍ)

অর্থাৎ মোহরাংকিত শরাবটি তাসনীমের। তাসনীম হলো জান্নাতীদের জন্য তৈরি করা পানীয়র মধ্যে সর্বোত্তম এবং সর্বোচ্চ একটি ঝরনা যা থেকে নৈকট্যপাপ্ত মুুমিনরা পান করবে।

সুতরাং এমন নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত লাভের জন্য প্রতিটি মু’মিনকে ঈমান ও সৎআমলের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা করা উচিত। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সে তাওফীক দান করুন, আমীন।

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

১. ইল্লিয়্যীন এর তাফসীর জানলাম।

২. মু’মিনরা আখিরাতে যে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতে থাকবে তার বিবরণ জানলাম।

৩. নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত পাওয়ার জন্য সকলের সৎ আমলের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা করা উচিত।