Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Al-Mutaffifin — Ayah 29

إِنَّ ٱلَّذِينَ أَجۡرَمُواْ كَانُواْ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ يَضۡحَكُونَ ٢٩ وَإِذَا مَرُّواْ بِهِمۡ يَتَغَامَزُونَ ٣٠ وَإِذَا ٱنقَلَبُوٓاْ إِلَىٰٓ أَهۡلِهِمُ ٱنقَلَبُواْ فَكِهِينَ ٣١ وَإِذَا رَأَوۡهُمۡ قَالُوٓاْ إِنَّ هَٰٓؤُلَآءِ لَضَآلُّونَ ٣٢ وَمَآ أُرۡسِلُواْ عَلَيۡهِمۡ حَٰفِظِينَ ٣٣ فَٱلۡيَوۡمَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مِنَ ٱلۡكُفَّارِ يَضۡحَكُونَ ٣٤ عَلَى ٱلۡأَرَآئِكِ يَنظُرُونَ ٣٥ هَلۡ ثُوِّبَ ٱلۡكُفَّارُ مَا كَانُواْ يَفۡعَلُونَ ٣٦

২৯-৩৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর:

মু’মিন ও পাপাচারীদের প্রতিদানের কথা আলোচনার পর পাপাচারীরা দুনিয়াতে মু’মিনদের সাথে যে আচরণ করত এবং আখিরাতে মুমিনরা তাদের সাথে বদলাস্বরূপ যে আচরণ করবেন সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

يَضْحَكُوْنَ অর্থাৎ মু’মিনদেরকে তুচ্ছ ও হেয় প্রতিপন্ন করে পাপাচারীরা ঠাট্টা করত, চোখ টিপে ইশারা করে বলত, এরাই পথভ্রষ্ট। সত্যি দেখা যায় যে, মু’মিনরা যখন কোন সৎ আমল করে তখন কাফির তো দূরের কথা একশ্রেণির নামধারী মুসলিমরাও মু’মিনদের নিয়ে ঠাট্টা করে। যা হোক কিয়ামতের দিন মু’মিনরা বদলাস্বরূপ কাফিরদের নিয়ে ঠাট্টা করবে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : এ আয়াতগুলো মক্কার মুশরিকদের নেতা ওয়ালিদ বিন মুগীরাহ, ওকবা বিন আবূ মুআইত, আস বিন ওয়ায়েল প্রমুখ ব্যক্তিদের ব্যাপারে নাযিল হয়। (কুরতুবী)

الغمز অর্থ চোখ, পলক ও ভ্রু দিয়ে ইঙ্গিত করা। অর্থাৎ কাফিররা মু’মিনদেরকে দেখলে চোখ টিপে হাসতো ও কটাক্ষ করত।

(وَاِذَا انْقَلَبُوْٓا اِلٰٓی اَھْلِھِمُ.....)

অর্থাৎ তাদের হাসি-তামাশা ও ঠাট্টা শুধু বাইরেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তারা যখন তাদের পরিবার বা নিজেদের মত কাফিরদের কাছে ফিরে যেত বা একত্রিত হত তখন গরীব ও দুর্বল মু’মিনদের নিয়ে হাসি-তামাশা করত। তারা বিস্ময় প্রকাশ করে বলত : এ সব লোকেরা ইসলামের মধ্যে কী পেয়েছে, যার জন্য তারা বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করছে? শত নির্যাতন সহ্য করছে কিন্তু ইসলাম বর্জন করছেনা।

(إِنَّ هٰٓؤُلَا۬ءِ لَضَآلُّوْنَ)

অর্থাৎ কাফিররা মু’মিনদেরকে দেখলে বলতÑ এরা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানেও একশ্রেণির মানুষ রয়েছে যারা সঠিক পথের অনুসারীদেরকে এরূপ কাফির, ইয়াহূদী-খ্রিস্টানদের দালাল ইত্যাদি বলে থাকে। সুতরাং সকল যুগেই সত্যিকার মু’মিনদের মাঝে মুর্খ ও শিক্ষিত দুশ্রেণির শত্রু ছিল। মুর্খরা না জেনে শত্রুতা করত আর শিক্ষিত শয়তানরা জেনে শুনে পার্থিব স্বার্থের জন্য ইসলাম ও মুসলিমদের বিরোধিতা করত। তাই একজন সত্যিকার মু’মিন শয়তানদের কোন প্রকার উস্কানী, ঠাট্টা ও মশকরাতে কান না দিয়ে সঠিক পথের ওপর বহাল থাকবে এটাই তার ঈমানী দায়িত্ব।

(فَالْيَوْمَ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا.....)

অর্থাৎ দুনিয়াতে যে সকল কাফিররা মু’মিনদের নিয়ে বিদ্রƒপ ও ব্যঙ্গ করত তারা আখিরাতে জাহান্নামে যাবে। তাদের দূরবস্থা দেখে মু’মিনরা হাসবে।

يَنْظُرُوْنَ অর্থাৎ মু’মিনরা আল্লাহ তা‘আলার দিকে তাকাবে কাফিরদের এ ধারণাকে বাতিল করার জন্য যে, তারা পথভ্রষ্ট না। বরং তারাই আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা। আল্লাহ তা‘আলা এমন বান্দাদের মধ্যে আমাদের শামিল করে নিন। আমীন!

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

১. দুনিয়াতে মু’মিনদের নিয়ে ঠাট্টা করার পরিণতি ভাল নয়।

২. দুনিয়াতে মু’মিনদের সাথে ঠাট্টা করে যে আচরণ করা হবে আখিরাতে তার বদলা মু’মিনরা নিয়ে নেবে।

৩. মু’মিনরা আখিরাতে আল্লাহ তা‘আলাকে দেখতে পাবে।