You are reading tafsir of 11 ayahs: 83:7 to 83:17.
৭-১৭ নম্বর আয়াতের তাফসীর:
যারা কাফির, মুনাফিক ও পাপিষ্ঠ তাদের অবস্থা এবং কিয়ামত দিবসে তাদের কী পরিণতি হবে সে সম্পর্কে এখানে আলোচনা করা হয়েছে।
كَـلَّآ অস্বীকার ও ধিক্কারসূচক অব্যয়। অর্থাৎ কখনই না। অর্থাৎ মাপে ও ওজনে কম দিয়ে, মানুষকে ঠকিয়ে যে পাপ অর্জন করেছে সে সকল পাপাচারীরা সফলকাম হয়েছ এমন মনে কর না, বরং এসব পাপীদের আমলনামা অবশ্যই سِجِّيْنٍ এ সংরক্ষিত থাকবে এবং যথোচিত প্রতিদান প্রদান করা হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ)
“যে ব্যক্তি এক সরিষাদানা পরিমাণ ভাল কাজ করবে, সেটাও সে দেখতে পাবে এবং যে ব্যক্তি এক সরিষাদানা পরিমাণ খারাপ কাজ করবে সেটাও সে দেখতে পাবে।” (সূরা যিলযাল ৯৯ : ৭-৮)
الْفُجَّارِ বলতে কাফির, মুনাফিক ও পাপিষ্ঠ সকলেই শামিল। (তাফসীর সা‘দী)
سِجِّيْنٌ এর তাফসীর পরের দু’টি আয়াতেই আল্লাহ তা‘আলা উল্লেখ করে দিয়েছেন যে, তা হলো
(كِتٰبٌ مَّرْقُوْمٌ)
বা এমন কিতাব যাতে খারাপ আমলসমূহ লিপিবদ্ধ করা আছে। তাছাড়া কোন কোন মুফাসসিরগণ বলেন : سِجِّيْنٌ শব্দটি سجن থেকে উৎপত্তি, যার অর্থ : কারাগার। উদ্দেশ্য হলো কারাগারের মত একটি সংকীর্ণ জায়গা। আবার বারা বিন আযেব (রাঃ)-এর হাদীসে এসেছে : আল্লাহ তা‘আলা কাফির আত্মাদের ব্যাপারে বলবেন : তার আমলসমূহ সিজ্জীনে লিখে দাও। سِجِّيْنٌ হলো সাত জমিনের নীচে একটি জায়গার নাম। যেখানে কাফির-মুশরিকদের আত্মা এবং তাদের আমলনামা জমা ও সংরক্ষিত থাকে। এজন্য তাকে “লিপিবদ্ধ পুস্তক” বলা হয়েছে। ইমাম ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন : সঠিক কথা হলো : سِجِّيْنٌ শব্দটি سجن থেকে গৃহিত। অর্থ হলো : সংকীর্ণ। নীচের মাখলুকের মধ্যে সংকীর্ণতা রয়েছে আর ওপরের মাখলুকের মধ্যে প্রশস্ততা রয়েছে। আকাশসমূহের মধ্যে প্রতিটি উপরের আকাশ ক্রমান্বয়ে প্রশস্ত এবং জমিনের মধ্যে প্রতিটি নীচের জমিন ক্রমান্বয়ে সংকীর্ণ। সপ্তম জমিনের মধ্যবর্তী কেন্দ্র সবচেয়ে সংকীর্ণ। কেননা কাফিরদের প্রত্যাবর্তনের জায়গা সেই জাহান্নাম যা সাত জমিনের সবচেয়ে নীচে অবস্থিত। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(ثُمَّ رَدَدْنٰهُ أَسْفَلَ سٰفِلِيْنَ لا إِلَّا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فَلَهُمْ أَجْرٌ غَيْرُ مَمْنُوْنٍ)
“অতঃপর তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি নীচ থেকে নীচে কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য রয়েছে অশেষ পুরস্কার।” (সূরা তীন ৯৫ : ৫-৬)
لِّلْمُكَذِّبِيْنَ এ মিথ্যাচারী কারা তার তাফসীর পরের আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা উল্লেখ করে বলেন : যারা কর্মফল বা কিয়ামত দিবসকে অস্বীকার করে। মূলত তারা সীমালংঘনকারী ও পাপিষ্ঠ লোক, তারা যখন আল্লাহ তা‘আলার কালাম শুনে তখন মিথ্যা বলে ও ঠাট্টা করে প্রত্যাখান করতঃ বলে, এসব পূর্ববর্তীদের উপকথা মাত্র। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَإِذَا قِيْلَ لَهُمْ مَّاذَآ أَنْزَلَ رَبُّكُمْ لا قَالُوْآ أَسَاطِيْرُ الْأَوَّلِيْنَ)
“যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘তোমাদের প্রতিপালক কী অবতীর্ণ করেছেন?’ তখন তারা বলে, ‘পূর্ববর্তীদের উপকথা!’ (সূরা নাহল ১৬ : ২৪)
(كَـلَّا بَلْ رَانَ)
অর্থাৎ তারা যেমন ধারণা করে ও বলে থাকে যে, কুরআন পূর্ববর্তীদের উপকথা, বিষয়টি তেমন নয়। মূলত তাদের অন্তরে মরিচা ধরে গেছে যার কারণে তারা সঠিক পথ খুঁজে পায় না। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত নাবী (সাঃ) বলেন: বান্দা যখন খারাপ কাজ করে তখন তার মনে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। যদি তাওবা করে তাহলে অন্তর পরিস্কার হয়ে যায়। আর যদি পাপ কাজ বৃদ্ধি পায় তাহলে কালো দাগও বৃদ্ধি পায়। এটাই হলো আল্লাহ তা‘আলার কথা
(كَـلَّا بَلْ رَانَ عَلٰي قُلُوْبِهِمْ.....)
(তিরমিযী হা. ৩৩৩৪ নাসায়ী হা. ১১৬৫৮, হাদীসটি হাসান সহীহ।)
এ সকল কাফির-মুশরিক ও পাপিষ্ঠরা কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তা‘আলাকে দেখতে পাবে না। যেমন মু’মিনরা দেখতে পাবে। মু’মিনরা আল্লাহ তা‘আলাকে দেখতে পাবে পূর্বের সূরাগুলোতে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে এবং তাদেরকে তিরস্কারের সাথে বলা হবেÑ এটা সেই জাহান্নাম যা তোমরা অস্বীকার করতে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. সিজ্জীনের তাফসীর জানতে পারলাম।
২. যারা আখিরাতে অবিশ্বাসী তাদের ধ্বংস অনিবার্য।
৩. পাপ কাজ করলে অন্তরে কালো দাগ পড়ে যায়।
৪. কাফিররা আল্লাহ তা‘আলাকে দেখতে পাবে না, অন্যদিকে মু’মিনরা দেখতে পাবে।