You are reading tafsir of 10 ayahs: 88:17 to 88:26.
১৭-২৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর:
এ আয়াতগুলোতে মানব জাতিকে আল্লাহ তা‘আলার কয়েকটি মাখলুকের প্রতি চিন্তার দৃষ্টিতে তাকানোর নির্দেশ করে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে উপদেশদাতা হিসাবেই বহাল থাকার নির্দেশ করেছেন। কেননা তিনি একজন উপদেশদাতা মাত্র, কোন দারোগা নন।
(إِلَي الْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ)
অর্থাৎ যারা আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূল (সাঃ)-কে বিশ্বাস করে না তাদের এবং অন্যান্য সকল মানুষকে অনুপ্রাণিত করে আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: তারা কি উটের প্রতি লক্ষ্য করে না, কিভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে? সে মানুষ ও বোঝা বহুদূর বহন করে নিয়ে যায়, তার গোশত খায়, পশম কাজে লাগায়, তার দুধ পানসহ আরো অনেক উপকার নিয়ে থাকে। এখানে সবাগ্রে উটের কথা নিয়ে আসার কারণ হলো আরবরা সাধারণত উটের দ্বারাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়ে থাকে। উট আরববাসীর নিকট সর্বাধিক ব্যবহৃত প্রাণী।
نُصِبَتْ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা পর্বতমালাকে এমনভাবে মাটিতে প্রোথিত করে দিয়েছেন যাতে জমিন নড়াচড়া করতে না পারে। আর পর্বতও যেন অন্যত্র সরে যেতে না পারে।
سُطِحَتْ অর্থ : بسطت و مهرت বা বিছিয়ে ও প্রশস্ত করে দেয়া হয়েছে।
(فَذَكِّرْ إِنَّمَآ أَنْتَ مُذَكِّرٌ)
অর্থাৎ হে মুহাম্মাদ (সাঃ)! তুমি মানুষকে উপদেশ, নসীহত ও সতর্ক কর। কেননা এটাই তোমার দায়িত্ব।
(لَسْتَ عَلَيْهِمْ بِمُصَيْطِرٍ)
ইবনু আব্বাস <, মুজাহিদ ও অন্যান্য মুফাসসির বলেন :
لست عليهم بجبار
অর্থাৎ তুমি তাদের ওপর জোর-জবরদস্তিকারী নও।
ইবনু জায়েদ বলেন :
لست بالذى تكرههم علي الإيمان
তুমি তাদেরকে ঈমান আনয়নে বাধ্য করতে পারবে না। (ইবনু কাসীর) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন : আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া সত্যিকার কোন মা‘বূদ নেই। যখন তারা এ কথা বলবে, তখন তাদের রক্ত ও সম্পদ আমার থেকে নিরাপদে থাকবে, তবে ন্যায্য হক ব্যতীত। তাদের হিসাব আল্লাহ তা‘আলার কাছে। তারপর তিনি অত্র আয়াত দু’টি পাঠ করেন। (সহীহ বুখারী হা. ২৫, সহীহ মুসলিম হা. ৩২)
(إِلَّا مَنْ تَوَلّٰي وَكَفَرَ)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরী করে। আল্লাহ তা‘আলা এরূপ অন্যত্র বলেন:
(فَلَا صَدَّقَ وَلَا صَلّٰي)
“সে বিশ্বাস করেনি এবং সালাতও পড়েনি।” (সূরা কিয়ামাহ ৭৫: ৩১)
এ জন্য আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন : (فَيُعَذِّبُهُ اللّٰهُ الْعَذَابَ الْأَكْبَرَ) “আল্লাহ তাকে আযাব দেবেন কঠোর আযাব।”
একদা আবূ উসামা আল বাহিলী খালেদ বিন ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়ার নিকট গমন করলেন। তিনি তাকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে শ্রবণ করা অতি নরম একটি বাক্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন : রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি তোমাদের সবাই জান্নাতে যাবে শুধু ঐ ব্যক্তি প্রবেশ করবে না, যে ঐ দুষ্ট উটের ন্যায় যে তার মালিকের সাথে হঠকারিতা করে। (আহমাদ ৫২৫৮, বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
(إِنَّ إِلَيْنَآ إِيَابَهُمْ)
অর্থাৎ মৃত্যু ও পুনরুত্থানের মাধ্যমে সব মানুষ আল্লাহ তা‘আলার কাছে ফিরে যাবে। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَاتَّقُوْا يَوْمًا تُرْجَعُوْنَ فِيْهِ إِلَي اللّٰهِ قف ثُمَّ تُوَفّٰي كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُوْنَ)
“তোমরা এমন এক দিনকে ভয় কর যেদিন তোমরা আল্লাহর দিকে ফিরে যাবে। অতঃপর প্রত্যেকে যা অর্জন করেছে তার ফলাফল পুরোপুরি দেওয়া হবে এবং তাদের ওপর কোন অন্যায় করা হবে না।”
(ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا حِسَابَهُمْ)
অর্থাৎ আমি আল্লাহ তা‘আলা তাদের কর্মের হিসাব নেব এবং তদনুযায়ী প্রতিদান দেব, চাই ভাল হোক বা মন্দ হোক। আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন :
(فَمَنْ يَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَّرَه۫ وَمَنْ يَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَّرَه۫)
“অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে, এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।” (সূরা যিলযাল ৯৯ : ৭-৮)
এ সূরার শেষে
اللهم حاسبني حسابا يسيرا
এ দু‘আ পাঠ করার সপক্ষে নাবী (সাঃ) থেকে কোন বিশুদ্ধ সনদে প্রমাণ নেই।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আল্লাহ তা‘আলার বড় বড় নিদর্শনের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার পরিচয় পাওয়া যায়।
২. একজন দাঈর কাজ হলো মানুষকে আল্লাহ তা‘আলার দিকে আহ্বান করা, দীনের ব্যাপারে জবরদস্তি না করা।
৩. যারা দাওয়াত পাওয়ার পরেও ঈমান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাদের জন্য জাহান্নাম।