Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Al-Ghashiyah — Ayah 5

هَلۡ أَتَىٰكَ حَدِيثُ ٱلۡغَٰشِيَةِ ١ وُجُوهٞ يَوۡمَئِذٍ خَٰشِعَةٌ ٢ عَامِلَةٞ نَّاصِبَةٞ ٣ تَصۡلَىٰ نَارًا حَامِيَةٗ ٤ تُسۡقَىٰ مِنۡ عَيۡنٍ ءَانِيَةٖ ٥ لَّيۡسَ لَهُمۡ طَعَامٌ إِلَّا مِن ضَرِيعٖ ٦ لَّا يُسۡمِنُ وَلَا يُغۡنِي مِن جُوعٖ ٧

নামকরণ ও গুরুত্ব:

الْغَاشِيَةِ কিয়ামতের অন্যতম একটি নাম। الْغَاشِيَةِ অর্থ : আচ্ছন্ন করে নেয়া, আবৃত করা ইত্যাদি। কিয়ামতকে এ নামে নামকরণ করার কারণ হলো সেদিন মানুষকে কিয়ামতের ভয়াবহতা আচ্ছন্ন করে নেবে। সূরার প্রথম আয়াতে উল্লিখিত শব্দ থেকেই সূরার নামকরণ করা হয়েছে। সূূরার গুরুত্ব সম্পর্কে পূর্বের সূরাতে আলোচনা করা হয়েছে।

সূরায় জান্নাতী ও জাহান্নামীÑদুদলে মানুষকে বিভক্ত করা হয়েছে এবং তাদের কী অবস্থা হবে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তারপর দুনিয়াতে আল্লাহ তা‘আলার কয়েকটি নির্দশনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে সান্ত্বনা প্রদান করা হয়েছে।

১-৭ নম্বর আয়াতের তাফসীর:

এ আয়াতগুলোতে জাহান্নামীদের অবস্থা এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে যা খাবে ও পান করবে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

خَاشِعَةٌ অর্থ : অবনত, বিনীত বা লাঞ্ছিত। অর্থাৎ কিয়ামতের দিন কাফিরদের মুখমন্ডল লাঞ্ছনায় অবনত হয়ে যাবে। ইমাম কুরতুবী (রহঃ) বলেন: দুনিয়াতে বহু আমলকারী ক্লান্ত-শ্রান্ত ব্যক্তিগণ আখেরাতে হবে ভীত-নমিত। ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন: তারা বহু আমল করেছে ও তাতে পরিশ্রমও হয়েছে (ইবনু কাসীর)। এ কথার সপক্ষে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কথা পাওয়া যায়: তোমরা কি জান মুফলিস কে? সাহাবীগণ বললেন : যার টাকা পয়সা নেই সে মুফলিস বা সর্বহারা। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন না, বরং মুফলিস বা সর্বহারা হল যে কিয়ামতের দিন অনেক আমল নিয়ে আসবে কিন্তু উমুকের ওপর এরূপ জুলুম করেছে অমুকের ওপর এরূপ জুলুম করেছেÑতারা তাদের জুলুম পরিমাণ সে ব্যক্তি থেকে সৎআমল কেটে নেবে অবশেষে সে লোকের কোন সৎআমল থাকবে না।.... (হাদীসের শেষ পর্যন্ত)। (তিরমিযী হা. ২৪১৮, ইবুন হিব্বান হা. ৭৩৫৯, সহীহ)

(عَامِلَةٌ نَّاصِبَةٌ)

অর্থ: ক্লান্ত পরিশ্রান্ত। অর্থাৎ তাদের আযাব এমন কষ্টদায়ক হবে যে, তাতে তাদের অবস্থা খুবই করুণ হবে। এর দ্বিতীয় অর্থ এটাও হতে পারে যে, দুনিয়াতে অনেক আমল করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে কিন্তু সেসব আমল বাতিল ধর্ম অনুযায়ী হওয়ায় গ্রহণযোগ্য হয়নি। আর এজন্যই ইবাদত ও ক্লান্তিকর আমল থাকা সত্ত্বেও তারা জাহান্নামে যাবে।

হাসান বাসরী (রহঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন : উমার (রাঃ) শাম সফরে এলে তাঁর কাছে একজন জীর্ণ-শীর্ণ খ্রিস্টান পাদ্রী দেখা করতে আসে। উমার (রাঃ) তার ক্লিষ্ট-করুণ দশা দেখে কেঁদে ফেলেন। কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন : এ হতভাগা মিসকীন যা চেয়েছিল তা পায়নি, যা আকাক্সক্ষা করেছিল তাতে ব্যর্থ হয়েছে। তারপর তিনি অত্র আয়াতটি পাঠ করেন। (তাফসীর কুরতুবী) ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন :

(عَامِلَةٌ نَّاصِبَةٌ)

দ্বারা উদ্দেশ্য হলো খ্রিস্টানগণ। (সহীহ বুখারী, সূরা গাশিয়াহর তাফসীর)

(عَيْنٍ اٰنِيَةٍ) অর্থাৎ এমন ফুটন্ত গরম পানির ঝরণা থেকে পান করানো হবে যা গরমের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

ضَرِيْعٍ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : জাহান্নামের একটি গাছ। ইকরিমা (রহঃ) বলেন : এমন গাছ যা কাঁটাযুক্ত, জমিনের সাথে লেগে থাকে। মোটকথা এটাও যাক্কুমের মত এক প্রকার অতি তিক্ত বদহজমের গাছ এবং অতি অপবিত্র নোংরা খাবার হবে। যা ভক্ষণ করলে জাহান্নামীদের না শরীর পুষ্ট হবে, আর না তাদের ক্ষুধা নিবারণ হবে।

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

১. কাফিররা কিয়ামতের দিন লাঞ্ছিত অবস্থায় মুখমন্ডল অবনত করে থাকবে।

২. তারা এমন খাবার ও পানীয় পান করবে যা তাদের উপকারের পরিবর্তে আরো ক্ষতি হবে।