You are reading tafsir of 9 ayahs: 88:8 to 88:16.
৮-১৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর:
জাহান্নামী ও তাদের দূরবস্থার কথা আলোচনার পর কিয়ামতের দিন জান্নাতীরা তাদের সৎআমলের প্রতিদানস্বরূপ যে নেয়ামতপূর্ণ সুউচ্চ জান্নাত পাবে এবং যে সুখ-সাচ্ছন্দ্য ও আরাম-আয়েশে থাকবে সে কথা এখানে তুলে ধরা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِيْٓ أُوْرِثْتُمُوْهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ لَكُمْ فِيْهَا فَاكِهَةٌ كَثِيْرَةٌ مِّنْهَا تَأْكُلُوْنَ)
“এটাই জান্নাত, তোমাদেরকে যার অধিকারী করা হয়েছে, তোমাদের কর্মের ফলস্বরূপ। সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে প্রচুর ফল-মূল, তোমরা তা হতে আহার করবে।” (সূরা যুখরূফ ৪৩ : ৭২-৩)
তবে কেউ আমলের বিনিময়ে জান্নাতে যেতে পারবে না যদি আল্লাহ তা‘আলা রহম না করেন। এ সম্পর্কে সূরা যুখরূফের ৭২ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
نَّاعِمَةٌ অর্থাৎ জান্নাতীদের চেহারায় নেয়ামতের সজিবতা প্রকাশ পাবে। এসব তাদের ভাল আমলের প্রতিদানস্বরূপ।
(لَّا تَسْمَعُ فِيْهَا لَاغِيَةً)
‘সেখানে তারা অবান্তর বাক্য শুনবে না।’ যেমন আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন :
(لَا يَسْمَعُوْنَ فِيْهَا لَغْوًا إِلَّا سَلٰمًا ط وَلَهُمْ رِزْقُهُمْ فِيْهَا بُكْرَةً وَّعَشِيًّا)
“সেথায় তারা ‘শান্তির সম্ভাষণ ব্যতীত’ কোন অসার বাক্য শুনবে না এবং সেথায় সকাল-সন্ধ্যা তাদের জন্য থাকবে জীবনোপকরণ।” (সূরা মারইয়াম ১৯ : ৬২) অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(جَزَا۬ئًۭ بِمَا کَانُوْا یَعْمَلُوْنَﭧلَا یَسْمَعُوْنَ فِیْھَا لَغْوًا وَّلَا تَاْثِیْمًا)
“তাদের আমলের পুরস্কারস্বরূপ। তারা শুনবে না কোন অসার অথবা পাপ বাক্য।” (সূরা ওয়াকিয়াহ ৫৬ : ২৪-২৫)
(عَيْنٌ جَارِيَةٌ) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) বলেন : জান্নাতের ঝর্ণাসমূহ মিশকের টিলা বা পাহাড় হতে প্রবাহিত। (সহীহ ইবনু হিব্বান হা. ২৬২২, সনদ হাসান)
(فِيْهَا سُرُرٌ مَّرْفُوْعَةٌ)
অর্থাৎ জান্নাতীদের জন্য জান্নাতে উঁচু উঁচু পালংক থাকবে এবং ঐসব পালংকে আরামদায়ক বিছানা তোষকসমূহ থাকবে। বিছানার পাশে হুরগণ বসে থাকবে। যখন তারা এসব বিছানায় বসতে ইচ্ছা করবে তখন তা নূয়ে পড়বে।
(وَّزَرَابِيُّ مَبْثُوْثَةٌ)
زَرَابِيُّ-অর্থ : গালিচা, আসন, গদি ইত্যাদি। আর مَبْثُوْثَةٌ অর্থ : বিছানো বা ছড়ানো। অর্থাৎ এসব আসন বিভিন্ন জায়গায় বিছানো থাকবে।
সুতরাং এমন নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতে যাওয়ার জন্য প্রতিটি মু’মিন মুসলিমের যে-কোনো মূল্যে সৎ আমলের প্রতি প্রচেষ্টা করা উচিত।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কিয়ামতের দিন জান্নাতীদের চেহারা উজ্জ্বল হবে।
২. জান্নাতে প্রস্তুত করে রাখা নেয়ামতরাজির বর্ণনা জানলাম।