Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Al-Balad — Ayah 6

لَآ أُقۡسِمُ بِهَٰذَا ٱلۡبَلَدِ ١ وَأَنتَ حِلُّۢ بِهَٰذَا ٱلۡبَلَدِ ٢ وَوَالِدٖ وَمَا وَلَدَ ٣ لَقَدۡ خَلَقۡنَا ٱلۡإِنسَٰنَ فِي كَبَدٍ ٤ أَيَحۡسَبُ أَن لَّن يَقۡدِرَ عَلَيۡهِ أَحَدٞ ٥ يَقُولُ أَهۡلَكۡتُ مَالٗا لُّبَدًا ٦ أَيَحۡسَبُ أَن لَّمۡ يَرَهُۥٓ أَحَدٌ ٧ أَلَمۡ نَجۡعَل لَّهُۥ عَيۡنَيۡنِ ٨ وَلِسَانٗا وَشَفَتَيۡنِ ٩ وَهَدَيۡنَٰهُ ٱلنَّجۡدَيۡنِ ١٠

নামকরণ:

الْبَلَدِ শব্দের অর্থ শহর, নগর ইত্যাদি। তবে এখানে শহর বলতে মক্কা নগরীকে বুঝানো হয়েছে। প্রথম আয়াতে উল্লিখিত الْبَلَدِ শব্দ থেকেই উক্ত নামে সূরার নামকরণ করা হয়েছে। সূরাতে কয়েকটি বিষয়ে শপথ করার পর মানুষকে প্রদত্ত অসংখ্য নেয়ামতের মধ্যে কয়েকটি নেয়ামতের কথা তুলে ধরা হয়েছে এবং ফলাফলের ভিত্তিতে তাদেরকে সৌভাগ্যবান ও হতভাগা দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১-১০ নম্বর আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা‘আলা মক্কা নগরীর শপথ করে বলছেন : হে নাবী (সাঃ)! তুমি এ নগরীর জন্য বৈধ। অর্থাৎ তোমার জন্য এ নগরীতে যুদ্ধ করা বৈধ। হাসান বাসরী (রহঃ) বলেন : আল্লাহ তা‘আলা রাসূলের জন্য কিছু সময়ের জন্য যুদ্ধ করা বৈধ করে দিয়েছিলেন। যেমন সহীহ হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন : যেদিন আকাশ-জমিন সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকেই আল্লাহ তা‘আলা এ শহরকে (যুদ্ধ বিগ্রহ থেকে) হারাম করেছেন। এ হারাম কিয়ামত অবধি বিদ্যমান থাকবে। এখানের কোন গাছ কাটা যাবে না এবং কোন কাঁটা উপড়িয়ে ফেলা যাবে না। আমার জন্য শুধুমাত্র দিনের কিছু সময় বৈধ করে দেয়া হয়েছে, প্রাক্কালের হারামের মত আজও তা হারাম হয়ে যাবে। (সহীহ বুখারী হা. ১০৪, সহীহ মুসলিম হা; ১৩৫৪) এ ঘটনা ছিল মক্কা বিজয়ের সময়।

(وَوَالِدٍ وَّمَا وَلَدَ)

এখানে পিতা ও সন্তান বলতে আদম (আঃ) ও তাঁর সন্তানাদি উদ্দেশ্য। আবার কেউ বলেছেন: শব্দটা ব্যাপক, তাই সকল পিতা ও সন্তান উদ্দেশ্য।

(لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِيْ كَبَدٍ)

এটা হলো পূর্বের আয়াতসমূহের শপথের জবাব। অর্থাৎ মানুষের জীবন পরিশ্রম ও দুঃখ-কষ্টে পরিপূর্ণ। ইমাম তাহাবী (রহঃ) এ অর্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

(أَيَحْسَبُ الْإِنْسَانَ)

অর্থাৎ মানুষ কি ধারণা করে, সে যে সম্পদ একত্রিত করেছে আল্লাহ তা‘আলা তা পাকড়াও করে নিতে পারবেন না। কাতাদাহ (রহঃ) বলেন: বানী আদম কি ধারণা করে যে, তার সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না, সে কোথা থেকে উপার্জন করেছে আর কোথায় ব্যয় করেছে? অর্থাৎ আদম সন্তান যা কিছু করুক তাকে সবকিছুর হিসাব দিতে হবে।

(مَالًا لُّبَدًا) শব্দের অর্থ: প্রচুর, রাশি রাশি। অর্থাৎ দুনিয়াতে অন্যায় ও অশ্লীল কাজে অনেক সম্পদ ব্যয় করে অতঃপর গর্বের সাথে সে কথা মানুষের সামনে বলে বেড়ায়। অন্যায় ও খারাপ কাজে সম্পদ ব্যয় করাকে আল্লাহ তা‘আলা সম্পদ ধ্বংস করা বলে আখ্যায়িত করেছেন। কেননা এসব কাজে ব্যয় করলে কোন উপকার তো দূরের কথা আফসোস ও ধ্বংস ছাড়া কিছুই নিয়ে আসবে না। যারা অন্যায় কাজে সম্পদ ব্যয় করে গর্ব করে তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করে আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: মানুষ কি মনে করে তাকে কেউ দেখছে না? না, বরং আল্লাহ তা‘আলা সব কিছু দেখছেন, শুনছেন এবং প্রত্যেকের কর্মানুয়াযী প্রতিদান দেবেন। এবার আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক প্রদত্ত মানুষের শরীরে কয়েকটি নেয়ামতের কথা জিজ্ঞাসা করছেন: আমি কি তার দুটি চোখ দেইনি? যার দ্বারা সে দেখে, আমি কি তার জিহ্বা দেইনি? যার দ্বারা কথা বলে, এবং তাকে কি দুটি ঠোট দেইনি? যার দ্বারা কথা বলা ও খাওয়ার সহযোগিতা নেয়। এছাড়া তা চেহারা ও মুখমন্ডলের সৌন্দর্যের কারণও বটে।

(وَهَدَيْنٰهُ النَّجْدَيْنِ)

ইবনু মাসউদ (রাঃ)-সহ প্রমুখ সাহাবী বলেন: ভাল-মন্দের উভয় পথ আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

(إِنَّا هَدَيْنٰهُ السَّبِيْلَ إِمَّا شَاكِرًا وَّإِمَّا كَفُوْرًا)‏

“আমি তাকে পথ দেখিয়েছি এরপর হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, নয়তো হবে অকৃতজ্ঞ।” (সূরা দাহার ৭৬: ৩)

অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

(فَمَنْ شَا۬ءَ فَلْيُؤْمِنْ وَّمَنْ شَا۬ءَ فَلْيَكْفُرْ)

“সুতরাং যার ইচ্ছা ঈমান আনুক ও যার ইচ্ছা কুফরী করুক।’ (সূরা কাহ্ফ ১৮ : ২৯)

সুতরাং যে আল্লাহ এতসব নেয়ামত দান করেছেন শুকরিয়াস্বরূপ সর্বদা তাঁকে মেনে চলা উচিত।

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

১. মক্কা নগরীর মর্যাদা জানলাম।

২. মক্কায় পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকেই যুদ্ধবিগ্রহ হারাম এবং তা কিয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে।

৩. অন্যায় কাজে সম্পদ ব্যয় করার পরিণাম খুবই ভয়াবহ।

৪. আল্লাহ প্রদত্ত সকল নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা উচিত।

৫. মানুষকে আল্লাহ তা‘আলা ভাল-মন্দের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর কেউ জেনে শুনে ঈমান ও সত্য বর্জন করলে তা নিজের ওপরই বর্তাবে।