Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Ash-Sharh — Ayah 1

أَلَمۡ نَشۡرَحۡ لَكَ صَدۡرَكَ ١ وَوَضَعۡنَا عَنكَ وِزۡرَكَ ٢ ٱلَّذِيٓ أَنقَضَ ظَهۡرَكَ ٣ وَرَفَعۡنَا لَكَ ذِكۡرَكَ ٤ فَإِنَّ مَعَ ٱلۡعُسۡرِ يُسۡرًا ٥ إِنَّ مَعَ ٱلۡعُسۡرِ يُسۡرٗا ٦ فَإِذَا فَرَغۡتَ فَٱنصَبۡ ٧ وَإِلَىٰ رَبِّكَ فَٱرۡغَب ٨

নামকরণ:

الشرح শব্দের অর্থ সম্প্রসারণ করা, প্রশস্ত করা ও উন্মোচন করা ইত্যাদি। প্রথম আয়াতে উল্লিখিত نَشْرَحْ ক্রিয়া থেকে اَلشَّرْح নামে সূরার নামকরণ করা হয়েছে।

পূর্বের সূরাতে নাবী (সাঃ)-এর প্রতি তিনটি নেয়ামতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ সূরাতেও মহান আল্লাহ আরো তিনটি নেয়ামতের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রথমটা হলো : নাবী (সাঃ)-এর বক্ষ প্রশস্ত করে দেয়া। বক্ষ প্রশস্ত করে দেয়ার অর্থ হলো : দীন ইসলামের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার দিকে মানুষকে দাওয়াত এবং উত্তম চরিত্রের জন্য বক্ষ উন্মোচন করে দেয়া। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

(فَمَنْ يُّرِدِ اللّٰهُ أَنْ يَّهْدِيَه۫ يَشْرَحْ صَدْرَه۫ لِلْإِسْلَامِ)

“আল্লাহ কাউকে সৎপথে পরিচালিত করতে চাইলে তিনি তার বক্ষ ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দেন।” (সূরা আনআম ৬ : ১২৫)

আবার কেউ কেউ এ আয়াত দ্বারা বক্ষ বিদীর্ণ বা সিনাচাককে বুঝিয়েছেন। সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নাবী (সাঃ)-এর দু’বার সিনাচাক করা হয়েছিল। প্রথমবার ৪ বছর বয়সে। (সহীহ মুসলিম হা. ২৬১) দ্বিতীয়বার মি‘রাজের সময়। জিবরীল (আঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর বুককে চিরে অন্তরকে বের করে যমযমের পানি দিয়ে ধুয়ে পুনরায় স্বস্থানে বসিয়ে দেন। (সহীহ বুখারী হা. ৩৪৯, সহীহ মুসলিম হা. ১৬৪)

(وَوَضَعْنَا عَنْكَ وِزْرَكَ) অর্থাৎ তোমার অপরাধসমূহ অপসারণ করে দিয়েছি। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

(لِّیَغْفِرَ لَکَ اللہُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْۭبِکَ وَمَا تَاَخَّرَ وَیُتِمَّ نِعْمَتَھ۫ عَلَیْکَ وَیَھْدِیَکَ صِرَاطًا مُّسْتَقِیْمًا)

“যাতে আল্লাহ তোমার‎ আগের ও পরের ভুল-ক্রটি মাফ করেন, তোমার‎ ওপর তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করে দেন, এবং তোমাকে সরল-সঠিক পথে পরিচালিত করেন।” (সূরা ফাত্হ ৪৮: ২)

(وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ)

অর্থাৎ যেখানে আল্লাহ তা‘আলার নাম আসবে সেখানে নাবী (সাঃ)-এর নামও আসবে। যেমন আযান, ইকামত, শাহাদাত ইত্যাদি। এ হিসাবে সারা বিশ্বে প্রতি মুহূর্তে তাঁর নাম উচ্চারিত ও তাঁর প্রতি দরূদ পাঠ করা হয়ে থাকে। তাছাড়া পূর্ববর্তী গ্রন্থেও নাবী (সাঃ)-এর নাম ও গুণাবলীর বিবরণ রয়েছে। ফেরেশতারাও তাঁর নাম সম্মানের সাথে উল্লেখ করেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন : একদা জিবরীল (আঃ) আমার কাছে আগমন করলেন এবং বললেন : নিশ্চয়ই আমার ও আপনার প্রভু আপনার আলোচনাকে কী করে সমুন্নত করবেন তা তিনি জানতে চান। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন : সেটা আল্লাহ তা‘আলা ভাল জানেন। জিবরীল (আঃ) বললেন : আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন : আমার কথা যখন আলোচনা করা হবে তখন আমার রাসূলের (সাঃ)-এর কথাও আলোচিত হবে। (আহমাদ ৫/১৩৯ বণর্নাকারী নির্ভরযোগ্য।)

(فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا)

আরবী ব্যাকরণে যখন দু’টি নাম একত্রে উল্লেখ করা হবে তখন তার চারটি অবস্থা থাকে।

তার দু’টি অবস্থা এখানে তুলে ধরা হয়েছে :

(১) যদি দুটি নাম নির্দিষ্ট হয় তাহলে দ্বিতীয়টা দ্বারা প্রথম নাম উদ্দেশ্য।

(২) যদি দু’টি নামই অনির্দিষ্ট হয় তাহলে দুটি নাম দ্বারা ভিন্ন ভিন্ন জিনিস বুঝায়। আয়াতদ্বয়ে الْعُسْرِ শব্দটি দু’বার এসেছে। এবং দুবারেই ال (আলিফ-লাম) দ্বারা নির্দিষ্ট আর يسر শব্দটি দুবার এসেছে অনির্দিষ্ট অবস্থায়। তাহলে আয়াতদ্বয়ের অর্থ হলো: নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে, আবার ঐ কষ্টের সাথে আরেকটি স্বস্তি রয়েছে। এজন্য ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন:

لن يغلب العسر يسرين

অর্থাৎ একটি কষ্ট দুটি স্বস্তির ওপর জয়ী হবে না। (মাবাহিস ফী উলূমুল কুরআন পৃ. ১৯১)

দুঃখের সাথেই সুখ রয়েছে এটা হলো মহা সুসংবাদ। এমনকি দুঃখ-কষ্ট যদি গুইসাপের গর্তে প্রবেশ করে তাহলে সুখও তাতে প্রবেশ করে তা থেকে বের করে নিয়ে আসবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(سَيَجْعَلُ اللّٰهُ بَعْدَ عُسْرٍ يُّسْرًا)‏

“আল্লাহ কষ্টের পর সহজ করে দেবেন।” (সূরা তালাক ৬৫: ৭)

তারপর আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে উম্মাতকে নির্দেশ দিয়ে বলছেন : যখনই দুনিয়াবী ব্যস্ততা থেকে অবসর পাবে তখন আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতে সচেষ্ট হও।

فَارْغَبْ অর্থাৎ তাঁর কাছে তুমি জান্নাতের আশা রাখ। তাঁর কাছে তোমার প্রয়োজনে চাও এবং তাঁর ওপরই নির্ভর কর।

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

১. নাবী (সাঃ)-এর ওপর আল্লাহ তা‘আলার অসংখ্য নেয়ামতের কথা জানতে পারলাম।

২. আল্লাহ তা‘আলা যার হিদায়াত চান তার অন্তরকে এভাবে উন্মোচন করে দেন।

৩. প্রত্যেক কষ্টের সাথে দু’টি স্বস্তি রয়েছে।

৪. প্রত্যেক মু’মিনের কর্তব্য অবসর পেলেই আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতে মশগুল হওয়া।