Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Al-'Alaq — Ayah 3

ٱقۡرَأۡ بِٱسۡمِ رَبِّكَ ٱلَّذِي خَلَقَ ١ خَلَقَ ٱلۡإِنسَٰنَ مِنۡ عَلَقٍ ٢ ٱقۡرَأۡ وَرَبُّكَ ٱلۡأَكۡرَمُ ٣ ٱلَّذِي عَلَّمَ بِٱلۡقَلَمِ ٤ عَلَّمَ ٱلۡإِنسَٰنَ مَا لَمۡ يَعۡلَمۡ ٥

নামকরণ ও গুরুত্ব:

الْعَلَقُ শব্দের অর্থ ঝুলন্ত, রক্ত ও রক্তপিণ্ড ইত্যাদি। অত্র সূরার দ্বিতীয় আয়াতে উল্লিখিত শব্দ থেকেই সূরার নামকরণ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর ৪০ বছর বয়সে হেরা গুহায় এ সূরার প্রথম ৫টি আয়াত অবতীর্ণের মাধ্যমে নবুওয়াতী জীবন শুরু হয়। এ ৫টি আয়াতই প্রথম অবতীর্ণ ওয়াহী। (ইতকান ফী উলূমুল কুরআন)

১-৫ নম্বর আয়াতের তাফসীর:

শানে নুযূল:

নাবী (সাঃ)-এর সহধর্মিনী আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: ঘুমন্তঅবস্থায় সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে নাবী (সাঃ)-এর প্রতি প্রথম ওয়াহী অবতরণ শুরু করা হয়েছিল। এ সময় তিনি যে স্বপ্ন দেখতেন তা সকালের আলোর মতই সুষ্পষ্ট হত। এরপর নির্জনতা তার কাছে প্রিয় হয়ে উঠল। তিনি হেরা গুহায় চলে যেতেন এবং পরিবার পরিজনের কাছে আসার পূর্বে সেখানে লাগাতার কয়েকদিন পর্যন্ত তাহান্নুছ বা ধ্যান করতেন। তাহান্নুছ অর্থ: বিশেষ পদ্ধতিতে ইবাদত করা। এজন্য তিনি কিছু খাবার নিয়ে যেতেন। এরপর তিনি খাদিজাহ (রাঃ)-এর কাছে ফিরে এসে আবার সে রকম কিছু খাবার নিয়ে যেতেন। শেষে হেরা গুহায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ তাঁর কাছে সত্যবাণী এসে পৌঁছে। ফেরেশতা (জিবরীল) তাঁর কাছে এসে বললেন: পড়–ন! রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, আমি পড়তে জানি না। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: এরপর তিনি আামকে ধরে খুব জোরে আলিঙ্গন করলেন। এতে আমি অসহনীয় কষ্ট অনুভব করি। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: পড়–ন! আমি বললাম: আমি পড়তে জানি না। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: এরপর তিনি আমাকে ধরে দ্বিতীয়বার জোরে আলিঙ্গন করলেন। এতেও আমি ভীষণ কষ্ট অনুভব করি। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: পড়–ন! আমি বললাম: আমি পড়তে জানি না। এরপর তিনি আমাকে তৃতীয়বার খুব জোরে আলিঙ্গন করলেন। এবারও আমি খুব কষ্ট অনুভব করলাম। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন:

(اِقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ ......لَمْ يَعْلَمْ)

এভাবে পাঁচটি আয়াত তেলাওয়াত করলেন। (সহীহ বুখারী হা. ৩)

(اِقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِيْ خَلَقَ)

এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাঃ)-কে সম্বোধন করেছেন তবে এ সম্বোধনে উম্মাতের সবাই শামিল। কেননা শরীয়তের অন্যতম একটি সূত্র হলো

العبرة بعموم اللفظ لا بخصوص السبب

যে নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে কোন আয়াত বা সূরা অবতীর্ণ হয় তাহলে সে নির্দিষ্ট পেক্ষাপট ধর্তব্য নয় বরং ধর্তব্য হলো শব্দের ব্যাপকতা। আর এ পড়ালেখা হবে আল্লাহ তা‘আলার নামে অর্থাৎ দীন ও শরীয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে। এতে সাধারণ পড়ালেখা শামিল নয়। যারা এ আয়াত দ্বারা সাধারণ পড়ালেখার কথা বুঝিয়ে থাকেন তারা মূলত নিজ স্বার্থেই করে থাকেন। যে হাদীসে বলা হয়েছে প্রত্যেক মুসলিমের জ্ঞান অর্জন করা ফরযÑসে হাদীসটিও দীনি শিক্ষা অর্জনের ব্যাপারে। সাধারণ শিক্ষাকে ইসলাম নিষেধ করেনি বা বাধাও দেয়নি তবে অবশ্যই মুসলিম মাত্রই ফরয জ্ঞান অর্জন করতেই হবে। অন্যথায় গুনাহগার হতে হবে।

عَلَقٍ (আলাক) শব্দটি কুরআনে মোট ৬ জায়গায় ব্যবহৃত হয়েছে। সূরা মু‘মিনূনে ১৪ নম্বর আয়াতের তাফসীরে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

(عَلَّمَ بِالْقَلَمِ) আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ করেন এমনভাবে যে, তার জ্ঞান বলতে কিছুই থাকে না। জন্মের পর মানুষ যাতে জ্ঞান অর্জন করতে পারে সেজন্য আল্লাহ তা‘আলা দুটি উপকরণ প্রদান করেছেন।

১. হিফয বা মুখস্থ করে জ্ঞানায়ত্ত করা। এর জন্য প্রয়োজন দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি ও অনুধাবন শক্তি। আর এসব কিছু আল্লাহ তা‘আলা জন্মগতভাবেই দিয়েছেন।

২. লেখনির মাধ্যমে জ্ঞানার্জন। তাই আল্লাহ তা‘আলা লেখার উপকরণ হিসাবে কলম দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন :

إِنَّ أَوَّلَ مَا خَلَقَ اللَّهُ الْقَلَمَ، فَقَالَ لَهُ : اكْتُبْ

প্রথমে আল্লাহ তা‘আলা কলম সৃষ্টি করেছেন তারপর বললেন : তুমি লেখ। (আবূ দাঊদ হা. ৪৭০০)

(عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ)

মানুষকে আল্লাহ তা‘আলা জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে অজানা জিনিসকে শিক্ষা দেন। মানুষ জানত না কোন্টা সঠিক, কোন্টা বেঠিক, কোন্টা আকাশ, মাটি, চন্দ্র, সূর্য ইত্যাদি এবং এসব কী ও কেন সৃষ্টি হয়েছে? মানুষ জানত না কম্পিউটার আবিস্কার করতে, রকেট তৈরি করতে, গাড়ি তৈরি করতে। আল্লাহ তা‘আলা সব কিছু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে জানালেন।