Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Al-Bayyinah — Ayah 3

لَمۡ يَكُنِ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ وَٱلۡمُشۡرِكِينَ مُنفَكِّينَ حَتَّىٰ تَأۡتِيَهُمُ ٱلۡبَيِّنَةُ ١ رَسُولٞ مِّنَ ٱللَّهِ يَتۡلُواْ صُحُفٗا مُّطَهَّرَةٗ ٢ فِيهَا كُتُبٞ قَيِّمَةٞ ٣ وَمَا تَفَرَّقَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ إِلَّا مِنۢ بَعۡدِ مَا جَآءَتۡهُمُ ٱلۡبَيِّنَةُ ٤ وَمَآ أُمِرُوٓاْ إِلَّا لِيَعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ وَيُقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤۡتُواْ ٱلزَّكَوٰةَۚ وَذَٰلِكَ دِينُ ٱلۡقَيِّمَةِ ٥

নামকরণ ও গুরুত্ব:

الْبَيِّنَةُ অর্থ সুস্পষ্ট প্রমাণ, দলীল ইত্যাদি। অত্র সূরার প্রথম আয়াতে উল্লিখিত শব্দ থেকেই সূরার নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়াও এ সূরাকে সূরা “লাম ইয়াকুন” বলা হয়।

আনাস বিন মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাঃ) উবাই বিন কাব (রাঃ)-কে বললেন : আল্লাহ তা‘আলা আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমি যেন তোমাকে “লাম ইয়াকুনিল্লাযীনা কাফারু” পাঠ করে শুনাই। উবাই (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন : আল্লাহ তা‘আলা কি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করেছেন? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন : হ্যাঁ, উবাই খুুশিতে কেঁদে ফেললেন। (সহীহ বুখারী হা. ৪৯৫৯)

ইমাম কুরতুবী (রহঃ) বলেন : এর মধ্যে ছাত্রের প্রতি শিক্ষকের শিক্ষাদানের তাৎপর্যগত বিষয়টি ফুঠে উঠেছে। অন্য বিদ্বান বলেন : এর মধ্যে এ শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে যে, কেউ নিম্নস্তরের কাউকে শিক্ষাদানে যেন কুণ্ঠাবোধ না করে।

১-৫ নম্বর আয়াতের তাফসীর:

(أَهْلِ الْكِتٰبِ) আহলে কিতাব দ্বারা ইয়াহূদ ও খ্রিস্টানরা উদ্দেশ্য যারা আসমানী কিতাব পেয়েছিল।

الْمُشْرِكِيْنَ মুশরিক দ্বারা উদ্দেশ্য প্রত্যেক উম্মতের মুশরিক যারা মূর্তি ও অগ্নিপূজক।

مُنْفَكِّيْنَ অর্থ : تاركين অর্থাৎ ইয়াহূদী, খ্রিস্টান ও আরব-অনারব মুশরিকদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসা পর্যন্ত সর্বদা কুফর ও পথভ্রষ্টতার মধ্যে লিপ্ত ছিল। এখানে সুস্পষ্ট প্রমাণ বলতে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে যেসব প্রমাণের ওয়াদা দেয়া হয়েছিল তা। যেমন পরের আয়াতেই আল্লাহ তা‘আলা উল্লেখ করেছেন।

(رَسُوْلٌ مِّنَ اللّٰهِ) অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে।

(صُحُفًا مُّطَهَّرَةً) পবিত্র গ্রন্থ দ্বারা কুরআনকে বুঝানো হয়েছে যা লাওহে মাহফূজে লিপিবদ্ধ। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(صُحُفٍ مُّکَرَّمَةٍﭜمَّرْفُوْعَةٍ مُّطَھَّرَةٍۭﭝبِاَیْدِیْ سَفَرَةٍﭞ کِرَامٍۭ بَرَرَةٍ)

“তা সম্মানিত কিতাবে (লাওহ মাহফূজে) লিপিবদ্ধ যা উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও পবিত্র। এমন লেখকদের হাতে থাকে যারা সম্মানিত ও সৎ।” (সূরা ‘আবাসা ৮০ : ১৩-১৬)

(فِيْهَا كُتُبٌ قَيِّمَةٌ)

অর্থাৎ এ সব পবিত্রগ্রন্থে রয়েছে সত্য সংবাদ ও ন্যায়সঙ্গত নির্দেশ যা সত্যের ও সঠিক পথের দিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

(وَمَا تَفَرَّقَ الَّذِيْنَ أُوْتُوا الْكِتٰبَ)

অর্থাৎ আহলে কিতাবগণ মুহাম্মাদ (সাঃ) যে সত্য নাবীÑএ ব্যাপারে তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পরেই মতানৈক্য করেছে। এর পূর্বে তারা নাবী (সাঃ)-এর নবুওয়াতের ব্যাপারে একমত ছিল। যখন নাবী মুহাম্মাদ (সাঃ) আগমন করলেন তখন তারা অস্বীকার করল। মূলত এর কারণ হলো নাবী (সাঃ) তাদের ঘৃণ্য আশানুপাতে হয়নি। এদের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

(وَلَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِيْنَ تَفَرَّقُوْا وَاخْتَلَفُوْا مِنْم بَعْدِ مَا جَا۬ءَهُمُ الْبَيِّنٰتُ ط وَأُولٰ۬ئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيْمٌ)‏

“তোমরা তাদের মত হয়ো না যারা বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং তাদের কাছে প্রমাণ আসার পর মতভেদে লিপ্ত হয়েছে। তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি। (আল ইমরান ২: ১০৫)

(وَمَآ أُمِرُوْآ إِلَّا لِيَعْبُدُوا) এ কথাটি তেমন যেমন আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:

(وَمَآ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِکَ مِنْ رَّسُوْلٍ اِلَّا نُوْحِیْٓ اِلَیْھِ اَنَّھ۫ لَآ اِلٰھَ اِلَّآ اَنَا فَاعْبُدُوْنِ)

“আমি তোমার পূর্বে যখন কোন রাসূল প্রেরণ করেছি তার প্রতি এ ওয়াহী করেছি যে, ‘আমি ব্যতীত অন্য কোন সত্যিকার মা‘বূদ নেই; সুতরাং আমারই ‘ইবাদত কর‎।’ (আম্বিয়া ২১ : ২৫)

حنيف শব্দের অর্থ হলো : ঝুঁকে যাওয়া, কোন একটি কাজের প্রতি একনিষ্ঠ হওয়া। حُنَفَا۬ءَ শব্দটি তার বহুবচন। অর্থাৎ যারা শির্ক থেকে তাওহীদের প্রতি এবং সমস্ত দীন বর্জন করে কেবলমাত্র দীন ইসলামের প্রতি ঝুঁকে ও একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করে।

(ذٰلِكَ دِيْنُ الْقَيِّمَة)

অর্থাৎ তাওহীদের সাথে একনিষ্ঠভাবে সকল ইবাদত সম্পাদন করার ধর্মই একমাত্র সঠিক ধর্ম, যা জান্নাতের পথে পৌঁছে দেয়।

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

১. পূর্ববর্তী দীনগুলোতে হকের সাথে বাতিল সংমিশ্রণ করা হয়েছিল।

২. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আহলে কিতাবের বর্র্ণনানুপাতে আসার পরেও তারা অহংকারবশত তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

৩. সকল দীনের মূলমন্ত্র ছিল একই, তা হলো এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করা এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করা।