You are reading tafsir of 8 ayahs: 99:1 to 99:8.
নামকরণ ও ফযীলত:
زِلْزَالَ শব্দটি ক্রিয়া মূল। শব্দের অর্থ : কম্পণ, ভূ-কম্পন। অত্র সূরার প্রথম আয়াতে উল্লেখিত শব্দ থেকেই সূরার নামকরণ করা হয়েছে। এ সূরাটি মক্কা বা মদীনায় অবতীর্ণ হওয়ার ব্যাপারে মতানৈক্য রয়েছে। তবে সঠিক মত হলো সূরাটি মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে। এ সূরার ফযীলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে অনেক বর্ণনা পাওয়া যায়, তবে কোন বর্ণনা দুর্বলতা থেকে মুক্ত না, তাই উল্লেখ করা হল না। সূরায় কিয়ামত অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রত্যেকে তার ভাল-মন্দ আমলের প্রতিদান পাবে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
তাফসীর:
কিয়ামতের পূর্বে জমিনে কম্পণ সৃষ্টি হবে সে সম্পর্কে সূরাতে আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন :
(یٰٓاَیُّھَا النَّاسُ اتَّقُوْا رَبَّکُمْﺆ اِنَّ زَلْزَلَةَ السَّاعَةِ شَیْءٌ عَظِیْمٌﭐیَوْمَ تَرَوْنَھَا تَذْھَلُ کُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّآ اَرْضَعَتْ وَتَضَعُ کُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَھَا وَتَرَی النَّاسَ سُکٰرٰی وَمَا ھُمْ بِسُکٰرٰی وَلٰکِنَّ عَذَابَ اللہِ شَدِیْدٌ)
“হে মানুষ! ভয় কর তোমাদের প্রতিপালককে; কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়ংকর ব্যাপার! যেদিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী তার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত করে ফেলবে; মানুষকে দেখবে নেশাগ্রস্ত অবস্থায়, অথচ তারা নেশাগ্রস্ত নয়। বস্তুত আল্লাহর শাস্তি কঠিন। (সূরা হাজ্জ ২২: ১-২)
সেদিন জমিন তার মধ্যস্থ সবকিছু তথা তার মধ্যে যত মৃত মানুষ, খনিজ ও প্রোথিত সম্পদ আছে সব বের করে দেবে। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন : জমিন তার কলিজার টুকরোগুলোকে উগরে দেবে এবং বাইরে নিক্ষেপ করবে। স্বর্ণ-রৌপ্য স্তুপের আকারে বাইরে বেরিয়ে পড়বে। হত্যাকারী সে সব দেখে বলবে: হায়! আমি এ সম্পদের জন্য অমুককে হত্যা করেছি, অথচ আজ এগুলো বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে, কেউ যেন এগুলোর দিকে ভুলেও তাকাচ্ছে না। আত্মীয়-স্বজনের সাথে দুর্ব্যবহারকারী দুঃখ করে বলবে হায়! এ সম্পদের মোহে পড়ে আমি আমার আত্মীয়-স্বজনের সাথে ভাল ব্যবহার করিনি। চোর বলবে: হায়! এ সম্পদের জন্য আমার হাত কেটে দেয়া হয়েছিল। অতঃপর এগুলো তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা ওগুলো হতে কিছুই গ্রহণ করবে না। (সহীহ মুসলিম, তিরমিযী হা. ২২০৮)
(وَقَالَ الْإِنْسَانُ)
অর্থাৎ জমিনের এ অবস্থা দেখে মানুষ আশ্চর্য হয়ে বলবে জমিনের কী হল! কারণ ইতোপূর্বে তারা এমন অবস্থা দেখেনি।
(تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا)
অর্থাৎ জমিন তার ওপর মানুষ যা কিছু করেছে সব বলে দেবে। আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এ আয়াতটি পাঠ করলেন এবং বললেন: তোমরা কি জান, জমিনের খবর কী? সবাই বলল: আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল (সাঃ) অধিক জানেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: জমিনের সংবাদ হলো: প্রত্যেক নর-নারী জমিনের ওপর যা কিছু করেছে সব কিছু বলে দেবে। জমিন বলবে : অমুক অমুক কাজ অমুক দিন করেছে। এটাই হলো জমিনের সংবাদ। (তিরমিযী হা. ৩৩৫৩ সহীহ।)
(أَوْحٰي لَهَا) অর্থাৎ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা মাটিকে কথা বলার শক্তি দেবেন। সেদিন মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কথা বলবে। জড় পদার্থের কথা বলা, শব্দ ধরে রাখা এবং প্রয়োজনে তা শুনিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আজ বিজ্ঞানও তা প্রমাণ করেছে।
يَّصْدُرُ শব্দের অর্থ হলো : প্রকাশ পাওয়া, বের হওয়া ইত্যাদি। অর্থাৎ কবর থেকে বের হয়ে হিসাবের ময়দানের দিকে অথবা হিসাব শেষে জান্নাত অথবা জাহান্নামের দিকে ফিরে যাবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَيَوْمَ تَقُوْمُ السَّاعَةُ يَوْمَئِذٍ يَّتَفَرَّقُوْنَ فَأَمَّا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فَهُمْ فِيْ رَوْضَةٍ يُّحْبَرُوْنَ وَأَمَّا الَّذِيْنَ كَفَرُوْا وَكَذَّبُوْا بِاٰيٰتِنَا وَلِقَآئِ الْاٰخِرَةِ فَأُولٰ۬ئِكَ فِي الْعَذَابِ مُحْضَرُوْنَ)
“আর যেদিন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে, সেদিন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে যাবে। সুতরাং যারা ঈমান আনে এবং ভাল কাজ করেছিল, তারা তো জান্নাতে আনন্দে থাকবে। আর যারা কুফরী করে এবং অবিশ্বাস করে আমার আয়াতসমূহকে ও আখিরাতের সাক্ষাতকে, তাদেরকেই ‘আযাবের মধ্যে উপস্থিত করা হবে।” (সূরা রূম ৩০: ১৪-১৬)
أَشْتَاتًا শব্দের অর্থ : ভিন্ন ভিন্ন, দলে দলে। অর্থাৎ সেদিন সৎ আমলকারীরা একদলে আর খারাপ আমলকারীরা অন্য দলে বিভক্ত হয়ে যাবে।
ذَرَّةٍ অর্থ : অণু। এখানে উদ্দেশ্য সবচেয়ে ছোটতম গুনাহ বা নেকী তাও দেখতে পাবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(یَوْمَ تَجِدُ کُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ مِنْ خَیْرٍ مُّحْضَرًاﹴ وَّمَا عَمِلَتْ مِنْ سُوْ۬ئٍﹱ تَوَدُّ لَوْ اَنَّ بَیْنَھَا وَبَیْنَھ۫ٓ اَمَدًۭا بَعِیْدًا)
“প্রত্যেক মানুষ যা ভাল করেছে এবং খারাপ করেছে কিয়ামতের দিন সবই উপস্থিত পাবে। সে কামনা করবে তার ও তার অন্যায় কাজের মধ্যে যদি অনেক দুরত্ব থাকত!” (সূরা আলি ইমরান ৩: ৩০)
মূলত এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে ভাল কাজে উৎসাহ ও খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করেছেন। তাই আমাদের ভাল কাজে উৎসাহী ও খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কিয়ামতের পূর্বে ভূমিকম্প হবে যার ফলে সকল মৃত মানুষ ও ধন সম্পদ বের হয়ে আসবে।
২. মানুষ যা কিছু করছে সব ব্যাপারে জমিন সাক্ষ্য দেবে।
৩. মানুষ তার কৃত বিন্দু পরিমাণ ভালমন্দ আমলও দেখতে পাবে।