You are reading tafsir of 5 ayahs: 68:48 to 68:52.
৪৮-৫২ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কাফিরদের অত্যাচার, মিথ্যা প্রতিপন্ন করা ইত্যাদি সকল কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ করার নির্দেশ দিয়ে বলছেন : মাছওয়ালা তথা ইউনূস (আঃ)-এর মত ধৈর্যহারা হয়ো না। ইউনুস (আঃ) জাতির প্রতি রাগান্বিত হয়ে আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি ছাড়াই বের হয়ে চলে গিয়েছিলেন। ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে শাস্তিস্বরূপ মাছের পেটে নিয়ে যান।
(وَهُوَ مَكْظُوْمٌ)
তিনি বিষণœ অবস্থায় আল্লাহ তা‘আলার কাছে প্রার্থনা করলেন যে,
(أَنْ لَّآ إِلٰهَ إِلَّآ أَنْتَ سُبْحٰنَكَ إِنِّيْ كُنْتُ مِنَ الظّٰلِمِيْنَ)
‘তুমি ব্যতীত কোন সত্যিকার মা‘বূদ নেই; তুমি পবিত্র, মহান! আমি তো সীমা লঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সূরা আম্বিয়াহ ২১ : ৮৭)
আল্লাহ তা‘আলা তার দু‘আ কবূল করে বললেন :
(فَاسْتَجَبْنَا لَه۫ لا وَنَجَّيْنٰهُ مِنَ الْغَمِّ ط وَكَذٰلِكَ نُنْجِي الْمُؤْمِنِيْنَ)
“তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম এবং মুক্তি দিয়েছিলাম দুশ্চিন্তা থেকে আর এভাবেই আমি মু’মিনদেরকে উদ্ধার করে থাকি।” (সূরা আম্বিয়া ২১ : ৮৭-৮৮)
(لَوْلَآ أَنْ تَدٰرَكَه۫ نِعْمَةٌ مِّنْ رَّبِّه)
অর্থাৎ যদি আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নেয়ামত তথা ক্ষমা দ্বারা আচ্ছাদিত না করে নিতেন তাহলে (لَنُبِذَ بِالْعَرَا۬ءِ.....) বা গাছ পালাহীন তীরে নিক্ষেপ করতেন অথবা মাছের পেটেই রেখে দিতেন। সেখানেই তাঁর কবর হতো এবং সেখান থেকেই পুনরুত্থিত হতেন। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলার দয়া যে, ইউনুস (আঃ) সেখানে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করে রাখেননি বরং সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছেন।
(فَاجْتَبَاهُ) অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় পুনরায় রিসালাতের দায়িত্বে নিযুক্ত করলেন। সূরা সাফফাতের ১৩৯-১৪৮ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
(لَيُزْلِقُوْنَكَ بِأَبْصَارِهِمْ)
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করে ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন : যদি তোমার জন্য আল্লাহ তা‘আলার প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষামূলক হেফাযত না হত তাহলে কাফিরদের হিংসাত্মক দৃষ্টির কারণে তুমি বদনজরের শিকার হয়ে পড়তে। অর্থাৎ তাদের কুদৃষ্টি তোমার প্রতি লেগে যেত। মানুষের বদনজর সত্য এবং তা লেগে যাওয়ার অনেক প্রমাণ রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : العين حق তথা বদনজর সত্য। (ইবনু মাযাহ হা. ৩৫০৭, সনদ সহীহ )।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেছেন : বদনজর সত্য। যদি কোন কিছু তাকদীর অতিক্রম করে চলে যাওয়ার থাকত তাহলে বদনজর চলে যেত। কেউ যদি তোমাদেরকে গোসল করিয়ে পানি নিতে চায় তাহলে গোসল করে পানি দিও। বদনজরের ঔষধ হিসাবে। (সহীহ মুসলিম হা. ২১৮৮)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করা ও ধৈর্য ধারণ করা খুব প্রশংসনীয়।
২. ইউনূস (আঃ)-এর শাস্তির কারণ জানলাম যে, তিনি আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি ছাড়াই অন্যত্র চলে গিয়েছিলেন।
৩. বড় মানুষের ছোট অপরাধও বড় বলে গণ্য হয়।
৪. বদনজর সত্য। বদনজরের চিকিৎসা হল বদনজরদাতা ব্যক্তির গোসল করা পানি দ্বারা যার বদনজর লেগেছে তাকে গোসল দিয়ে দেওয়া।
৫. বদনজর থেকে বাঁচার জন্য সূরা ইখলাস, নাস ও ফালাক পড়া মুস্তাহাব।