Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Al-Haqqah — Ayah 13

فَإِذَا نُفِخَ فِي ٱلصُّورِ نَفۡخَةٞ وَٰحِدَةٞ ١٣ وَحُمِلَتِ ٱلۡأَرۡضُ وَٱلۡجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةٗ وَٰحِدَةٗ ١٤ فَيَوۡمَئِذٖ وَقَعَتِ ٱلۡوَاقِعَةُ ١٥ وَٱنشَقَّتِ ٱلسَّمَآءُ فَهِيَ يَوۡمَئِذٖ وَاهِيَةٞ ١٦ وَٱلۡمَلَكُ عَلَىٰٓ أَرۡجَآئِهَاۚ وَيَحۡمِلُ عَرۡشَ رَبِّكَ فَوۡقَهُمۡ يَوۡمَئِذٖ ثَمَٰنِيَةٞ ١٧ يَوۡمَئِذٖ تُعۡرَضُونَ لَا تَخۡفَىٰ مِنكُمۡ خَافِيَةٞ ١٨

১৩-১৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর :

এখানে আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের ভয়াবহতার বর্ণনা দিচ্ছেন। প্রথমে ভয়ের কারণ হবে শিংগায় ফুঁ দেওয়া। এতে সবারই অন্তরাত্মা কেঁপে উঠবে। তারপর পুনরায় শিংগায় ফুঁ দেওয়া হবে, যার ফলে আকাশ-জমিনের সমস্ত মাখলুক অজ্ঞান হয়ে পড়বে। তবে আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা করবেন তিনি ব্যতীত। এরপর শিংগায় ফুঁ দেওয়া হবে যার আওয়াজ শুনে সমস্ত মাখলুক কবর থেকে উঠে তাদের প্রতিপালকের সামনে এসে দাঁড়াবে। এখানে ঐ প্রথম ফুঁৎকারের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এখানে আরো গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে এ কথা দ্বারা যে, উঠে দাঁড়ানোর ফুঁৎকার মাত্র একটি। রাবী (রহঃ) বলেছেন : এটা শেষ ফুঁৎকার। ইবনু কাসীর (রহঃ) বলছেন প্রথটাই সঠিক। এজন্য আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন :

(وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَاحِدَةً)

“আর পৃথিবী ও পর্বত মালাকে উত্তোলন করা হবে এবং একই ধাক্কায় চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া হবে।” (সূরা হাক্কাহ ৬৯ : ১৪৪)

সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে এবং সকল দরজা খুলে দেওয়া হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(وَفُتِحَتِ السَّمَا۬ءُ فَكَانَتْ أَبْوَابًا)

“আসমান খুলে দেওয়া হবে, ফলে তাতে বহূ দরজা হয়ে যাবে।” (সূরা নাবা ৭৮ : ১৯)

أرجاءها অর্থ : علي جوانب السماء وأركانها

প্রতিপালকের আনুগত্যস্বরূপ ফেরেশতারা আকাশের পার্শ্বে অবস্থান করবে।

(وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمَانِيَةٌ)

অর্থাৎ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলার আরশ বহন করবে আট জন ফেরেশতা।

রাসূলল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : যে সকল ফেরেশতা আল্লাহ তা‘আলার আরশ বহন করে আছে তাদের বিবরণ দিতে আমাকে অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। তাদের কানের অগ্রভাগ থেকে কাঁধ পর্যন্ত দূরত্ব হল ৭০০ বছরের রাস্তার সমান। (আবূ দাঊদ হা. ৪৭২৭, সিলসিলা সহীহাহ : ১৫১)

সেদিন মানুষকে আল্লাহ তা‘আলার সামনে উপস্থিত হতে হবে এবং আমলনামাও উপস্থিত করা হবে। ফলে কিছুই গোপন থাকবে না।

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :

১. কিয়ামতের পূর্বাবস্থা জানলাম।

২. আরশ বহণকারী ফেরেশতাদের দৈহিক আকৃতির ধারণা পেলাম।

৩. কিয়ামতের দিন প্রত্যেককে আমলনামা দেওয়া হবে।