You are reading tafsir of 9 ayahs: 70:36 to 70:44.
৩৬-৪৪ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগের যে সকল কাফিররা তাঁকে পেয়েও এবং বহুসংখ্যক মু‘জিযাহ দেখার পরেও ঈমান না এনে জান্নাতে যাওয়ার আশা করে তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা তিরস্কার করছেন।
مُهْطِعِيْنَ অর্থ : হাসান বাসরী (রহঃ) বলেন : منطلقين বা দ্রুত আগমন করে। অর্থাৎ কাফিররা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে দ্রুত ছুটে আসে ইসলাম গ্রহণ করার জন্য নয়, বরং তিনি কী বলেন তা নিয়ে ঠাট্টা করার জন্য।
عِزِيْنَ শব্দটি عزة এর বহুবচন। অর্থ : متفرفين বা দলে দলে।
(أَيَطْمَعُ كُلُّ امْرِئٍ ....كَـلَّا)
অর্থাৎ তারা কি এ কুফরী অবস্থায় অটল থেকে জান্নাতে যাওয়ার আশা করে? কখনো সম্ভব নয়, কেবল মু’মিনরাই জান্নাতে যাবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন :
لَا يَدْخُلُ الجَنَّةَ إِلَّا نَفْسٌ مُؤْمِنَةٌ
মু’মিন ব্যক্তি ছাড়া কেউ জান্নাতে যাবে না। (তিরমিযী হা. ৩০৯২, সহীহ)
(إِنَّا خَلَقْنٰهُمْ مِّمَّا يَعْلَمُوْنَ)
অর্থাৎ দুর্বল বীর্য থেকে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ مِمَّ خُلِقَ ط خُلِقَ مِنْ مَّا۬ءٍ دَافِقٍ لا يَّخْرُجُ مِنْمبَيْنِ الصُّلْبِ وَالتَّرَآئِبِ)
“সুতরাং মানুষের লক্ষ্য করা উচিত যে, তাকে কিসের দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে প্রবল বেগে নির্গত পানি হতে, যা বের হয় পিঠ ও বুকের হাড়ের মধ্য হতে।” (সূরা তারেক ৮৬ : ৫-৭)
(رَبِّ الْمَشٰرِقِ وَالْمَغٰرِبِ)
এ সম্পর্কে সূরা আর-রহমানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
(إِنَّا لَقٰدِرُوْنَ عَلٰٓي أَنْ نُّبَدِّلَ خَيْرًا مِّنْهُمْ)
ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন : অর্থাৎ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা মানুষের শারীরিক গঠন দুনিয়ার চেয়ে উত্তম রূপে নিয়ে আসতে সক্ষম। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(أَيَحْسَبُ الْإِنْسَانُ أَلَّنْ نَّجْمَعَ عِظَامَه۫ ط بَلٰي قَادِرِيْنَ عَلٰٓي أَنْ نُّسَوِّيَ بَنَانَه)
“মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার হাড়গুলো কোনক্রমে একত্র করতে পারব না। হ্যাঁ, অবশ্যই আমি তার অঙ্গুলীর অগ্রভাগ পর্যন্ত পুনর্বিন্যস্ত করতে সক্ষম।” (সূরা কিয়ামাহ ৭৫ : ৩-৪)
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوْقِيْنَ عَلٰٓي أَنْ نُّبَدِّلَ أَمْثَالَكُمْ وَنُنْشِئَكُمْ فِيْ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ)
“আমি তোমাদের জন্য মৃত্যু নির্ধারিত করেছি এবং আমি অক্ষম নই এ ব্যাপারে যে, আমি তোমাদের মত (অন্যকে) পরিবর্তন করে নিয়ে আসব এবং তৈরি করব তোমাদেরকে এমন (আকৃতিতে) যা তোমরা জান না।” (সূরা ওয়াকিয়াহ ৫৬ : ৬০-৬১)
ইমাম ইবনু জারীর (রহঃ) বলেন : আল্লাহ তা‘আলা এ জাতিকে ধ্বংস করে অন্য জাতি নিয়ে আসতে সক্ষম যারা আল্লাহর আনুগত্য করবে এবং তাঁর অবাধ্য হবে না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَإِنْ تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ لا ثُمَّ لَا يَكُوْنُوْآ أَمْثَالَكُمْ)
“যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে রাখ তাহলে আল্লাহ তোমাদের বদলে অন্য কাওমকে নিয়ে আসবেন। আর তারা তোমাদের মত হবে না।” (সূরা মুহাম্মাদ ৪৭ : ৩৮)
(فَذَرْهُمْ يَخُوْضُوْا)
অর্থাৎ হে নাবী! তাদেরকে অবকাশ দিন। তারা তাদের বাতিল চিন্তা-চেতনা নিয়ে মত্ত থাকুক। যখন কিয়ামত চলে আসবে তখন তারা বুঝতে পারবে সঠিক ধর্ম বর্জন করার ফলাফল কী?
الْأَجْدَاثِ শব্দটি جدث এর বহুবচন। অর্থ হল : কবর। فصب অর্থ হল : থান, বেদী-যেখানে মূর্তির নামে পশু জবাই করা হয়। এটি মূর্তি অর্থেও ব্যবহৃত হয়। কেউ কেউ علم বা পতাকা বা নিদর্শন অর্থে প্রয়োগ করেছেন। যেভাবে যুদ্ধের ময়দানে সৈন্যরা নিজেদের পতাকার দিকে দৌড়ায় তেমনি কিয়ামতের দিন কবর থেকে উঠে মানুষ দ্রুত হাশরের দিকে দৌড়াবে।
خَاشِعَةً অর্থ ذليلة خاضعة বা অপদস্থ ও অবনত হয়ে থাকবে। অর্থাৎ কিয়ামতের দিন মানুষ লজ্জায় মাথা তুলে তাকাতে পারবে না। সকলে হীন ও মাথা নত অবস্থায় থাকবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে কাফিরদের যে অবস্থা ছিল তা জানতে পারলাম।
২. জান্নাতে কেবল মু’মিনরাই প্রবেশ করবে অন্য কোন ব্যক্তি না।
৩. কবর ও পুনরুত্থানের প্রমাণ পেলাম।