You are reading tafsir of 4 ayahs: 71:25 to 71:28.
২৫-২৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
নূহ (আঃ) যখন বুঝতে পারলেন- এরা আর ঈমান আনবে না, তখন তিনি অবাধ্য জাতির ওপর বদ্দুআ করলেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَأُوْحِيَ إِلٰي نُوْحٍ أَنَّه۫ لَنْ يُّؤْمِنَ مِنْ قَوْمِكَ إِلَّا مَنْ قَدْ اٰمَنَ فَلَا تَبْتَئِسْ بِمَا كَانُوْا يَفْعَلُوْنَ)
“নূহের প্রতি ওয়াহী করা হয়েছিল, ‘যারা ঈমান এনেছে তারা ব্যতীত তোমার সম্প্রদায়ের অন্য কেউ কখনও ঈমান আনবে না। সুতরাং তারা যা করে তজ্জন্য তুমি দুঃখিত হয়ো না।” (সূরা হূদ ১১ : ৩৬)
ফলে তাদের কৃত অপরাধের দরুন আল্লাহ তা‘আলা মহাপ্লাবন দিয়ে ডুবিয়ে মারলেন এবং এর মাধ্যমে তাদের জাহান্নামে দিলেন। প্লাবনের বিবরণ সূরা হূদের ৩৭-৪৮ নম্বর আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ রয়েছে।
دَيَّارً অর্থ : গৃহবাসী। অর্থাৎ কোন গৃহবাসী কাফিরকে দুনিয়াতে বাঁচিয়ে রেখো না। কারণ এরা বেঁচে থাকলে মানুষকে পথহারা করবে এবং যে সকল সন্তান জন্ম দেবে সে সব সন্তান কাফিরই হবে। সর্বশেষে নূহ (আঃ) নিজের জন্য, পিতা মাতার জন্য এবং যারা মু’মিন হয়ে তার গৃহে প্রবেশ করবে তাদের সকলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। কারণ নূহ (আঃ)-এর পূর্ব দশ পুরুষ সবাই মু’মিন ছিলেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : নূহ (আঃ)-এর পিতার পূর্বের কেউ কুফরী করেনি। (কুরতুবী) আর কাফির জালিমদের প্রতি বদ্দুআ কিয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে।
تَبَارًا অর্থ : ধ্বংস, ক্ষতি ইত্যাদি।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাতে তার খারাপ কৃতকর্মের জন্য শাস্তি দেওয়া হবে।
২. জালিম ও কাফিরদের জন্য বদ্দুআ করা শরীয়তসিদ্ধ।
৩. মু’মিন নর-নারীর জন্য অন্য মুমিনের দু‘আ করা উচিত।
৪. দু‘আকারী প্রথমে নিজের জন্য দু‘আ শুরু করা মুস্তাহাব।