Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Al-Jinn — Ayah 11

وَأَنَّا مِنَّا ٱلصَّٰلِحُونَ وَمِنَّا دُونَ ذَٰلِكَۖ كُنَّا طَرَآئِقَ قِدَدٗا ١١ وَأَنَّا ظَنَنَّآ أَن لَّن نُّعۡجِزَ ٱللَّهَ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَلَن نُّعۡجِزَهُۥ هَرَبٗا ١٢ وَأَنَّا لَمَّا سَمِعۡنَا ٱلۡهُدَىٰٓ ءَامَنَّا بِهِۦۖ فَمَن يُؤۡمِنۢ بِرَبِّهِۦ فَلَا يَخَافُ بَخۡسٗا وَلَا رَهَقٗا ١٣ وَأَنَّا مِنَّا ٱلۡمُسۡلِمُونَ وَمِنَّا ٱلۡقَٰسِطُونَۖ فَمَنۡ أَسۡلَمَ فَأُوْلَٰٓئِكَ تَحَرَّوۡاْ رَشَدٗا ١٤ وَأَمَّا ٱلۡقَٰسِطُونَ فَكَانُواْ لِجَهَنَّمَ حَطَبٗا ١٥ وَأَلَّوِ ٱسۡتَقَٰمُواْ عَلَى ٱلطَّرِيقَةِ لَأَسۡقَيۡنَٰهُم مَّآءً غَدَقٗا ١٦ لِّنَفۡتِنَهُمۡ فِيهِۚ وَمَن يُعۡرِضۡ عَن ذِكۡرِ رَبِّهِۦ يَسۡلُكۡهُ عَذَابٗا صَعَدٗا ١٧

১১-১৭ নম্বর আয়াতের তাফসীর :

জিনেরা নিজেদের ব্যাপারে সংবাদ দিচ্ছে যে, তাদের মধ্যে একশ্রেণি আছে যারা সৎ এবং আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি বিশ্বাসী, আর অপর শ্রেণি মু’মিন না, তারা জালিম। যেমন এক আয়াত পরে বলা হয়েছে :

وَّأَنَّا مِنَّا الْمُسْلِمُوْنَ وَمِنَّا الْقٰسِطُوْنَ ط فَمَنْ أَسْلَمَ فَأُولٰ۬ئِكَ تَحَرَّوْا رَشَدًا ‏))

“আমাদের কতক মুসলিম এবং কতক অত্যাচারী, যারা ইসলাম গ্রহণ করে তারা মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছে।”

قِدَدًا অর্থ : কোন বস্তুর খণ্ড। অর্থাৎ জিনদের মধ্যেও বিভিন্ন দল-উপদলে ভাগ রয়েছে। একদল মুসলিম, একদল কাফির ও আরেক দল ইয়াহূদী ইত্যাদি। কেউ বলেছেন : এদের মধ্যেও মুসলিমদের মত কাদারিয়াহ, মুরজিয়াহ এবং রাফিজিয়াহ ইত্যাদি ফির্কা আছে। (ফাতহুল কাদীর) ظن শব্দটি يقين অর্থে ব্যবহার হয়েছে।

الْقاسط অর্থ : الظالم জালিম, আর المقسط অর্থ العادل ন্যায়পরায়ণ। অর্থাৎ জিনদের মাঝেও মুসলিম ও জালিম রয়েছে যেমন মানুষের মাঝে রয়েছে।

(بَخْسًا وَّلَا رَهَقًا)

ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও কাতাদাহ (রহঃ) বলেন : যে ব্যক্তি রবের প্রতি ঈমান আনবে তার সৎ আমল কমে যাওয়ার বা অন্যের অসৎ আমল তার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার কোন আশংকা থাকবে না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(( وَمَنْ يَّعْمَلْ مِنَ الصّٰلِحٰتِ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَا يَخٰفُ ظُلْمًا وَّلَا هَضْمًا ‏

“এবং যে সৎকর্ম করে মু’মিন হয়ে, তার কোন আশংকা নেই অবিচারের এবং অন্য কোন ক্ষতির।” (সূরা ত্বহা ২০ : ১১২)

(فِيْهِ. . . . (وَّأَنْ لَّوِ اسْتَقَامُوْا عَلَي

মুফাসসিরগণ এর দু’টি তাফসীর করেছেন- (১) যারা জালিম ছিল তারা যদি ইসলামের পথে অটল থাকত তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে প্রচুর পরিমাণ রিযিক দিতেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন : “তারা যদি তাওরাত, ইঞ্জিল ও তাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রতিষ্ঠিত করত, তাহলে তারা তাদের ওপর ও পায়ের নীচ হতে খাদ্য ভক্ষণ করত। তাদের মধ্যে একদল রয়েছে যারা মধ্যপন্থী; কিন্তু তাদের অধিকাংশ যা করে তা নিকৃষ্ট।” (সূরা মায়িদাহ ৫ : ৬৬)

অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرٰٓي اٰمَنُوْا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكٰتٍ مِّنَ السَّمَا۬ءِ وَالْأَرْضِ وَلٰكِنْ كَذَّبُوْا فَأَخَذْنٰهُمْ بِمَا كَانُوْا يَكْسِبُوْنَ ‏)‏

“যদি সে সকল জনপদের অধিবাসীবৃন্দ ঈমান আনত ও তাক্বওয়া অবলম্বন করত তবে আমি তাদের জন্য আকাশসমূহ ও পৃথিবীর কল্যাণ উন্মুক্ত করে দিতাম, কিন্তু তারা প্রত্যাখ্যান করেছিল; সুতরাং তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে শাস্তি দিয়েছি।” (সূরা আ‘রাফ ৭ : ৯৬)

এই হিসাবে

لِّنَفْتِنَهُمْ فِيْهِ এর অর্থ হল : لنختبرهم

বা তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য। (২) যদি জালিমরা পথভ্রষ্টতার ওপর অটল থাকে তাহলে আমি অবকাশস্বরূপ তাদের জন্য রিযিকের দরজা খুলে দেব। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(فَلَمَّا نَسُوْا مَا ذُكِّرُوْا بِه۪ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ ط حَتّٰي إِذَا فَرِحُوْا بِمَآ أُوْتُوْآ أَخَذْنٰهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُّبْلِسُوْنَ) ‏

“তাদেরকে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তারা যখন তা বিস্মৃত হল তখন আমি তাদের জন্য সমস্ত কিছুর (নেয়ামতের) দ্বার উন্মুক্ত করে দিলাম; অবশেষে তাদেরকে যা দেওয়া হল যখন তারা তাতে উল্লসিত হল তখন অকস্মাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম; ফলে তখনি তারা নিরাশ হল।” (সূরা আন‘আম ৬ : ৪৪ )

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন :

(أَيَحْسَبُوْنَ أَنَّمَا نُمِدُّهُمْ بِه۪ مِنْ مَّالٍ وَّبَنِيْنَ نُسَارِعُ لَهُمْ فِي الْخَيْرَاتِ ط بَلْ لَّا يَشْعُرُوْنَ)

“তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা সাহায্য করি। তাদের জন্য সকল প্রকার মঙ্গল ত্বরান্বিত করছি? না, তারা বুঝে না।” (সূরা মু’মিনুন ২৩ : ৫৫-৫৬)

(عَذَابًا صَعَدًا) অর্থ عذابا شاقا شديدا موجعا مؤلما

অর্থাৎ অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টদায়ক আযাব।

সুতরাং যারা আল্লাহ তা‘আলার স্মরণ তথা তাঁর ইবাদত থেকে বিমুখ হবে-সে মানুষ হোক আর জিন হোক তাদেরকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। তাই আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত শয়তানের প্ররোচনায় যেন আমরা আল্লাহ তা‘আলার স্মরণ থেকে গাফেল না হই।

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :

১. যারা আল্লাহ তা‘আলার দীনের ওপর অটল থাকে তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে অনেক কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

২. সম্পদ একটি পরীক্ষার বস্তু, খুব কম মানুষ এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।

৩. বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হওয়াকে তিরস্কার করা হয়েছে।

৪. যারা কুফরীর ওপর অটল থাকে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে অবকাশস্বরূপ দুনিয়ায় ভোগ্য সামগ্রী প্রদান করে থাকেন।