Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Al-Jinn — Ayah 28

قُلۡ إِنۡ أَدۡرِيٓ أَقَرِيبٞ مَّا تُوعَدُونَ أَمۡ يَجۡعَلُ لَهُۥ رَبِّيٓ أَمَدًا ٢٥ عَٰلِمُ ٱلۡغَيۡبِ فَلَا يُظۡهِرُ عَلَىٰ غَيۡبِهِۦٓ أَحَدًا ٢٦ إِلَّا مَنِ ٱرۡتَضَىٰ مِن رَّسُولٖ فَإِنَّهُۥ يَسۡلُكُ مِنۢ بَيۡنِ يَدَيۡهِ وَمِنۡ خَلۡفِهِۦ رَصَدٗا ٢٧ لِّيَعۡلَمَ أَن قَدۡ أَبۡلَغُواْ رِسَٰلَٰتِ رَبِّهِمۡ وَأَحَاطَ بِمَا لَدَيۡهِمۡ وَأَحۡصَىٰ كُلَّ شَيۡءٍ عَدَدَۢا ٢٨

২৫-২৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর :

আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নির্দেশ দিচ্ছেন- বলে দাও, তোমাদের ওপর যে শাস্তি আপতিত হওয়ার বা কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার প্রতিশ্র“তি দেওয়া হয়েছে তা কি অচিরেই আসবে না বিলম্ব হবে, তা আমি জানি না। এ জ্ঞান আল্লাহ তা‘আলার কাছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময়কাল সম্পর্কে জিবরীল (আঃ) জিজ্ঞাসা করলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন :

مَا المَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ

এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে বেশি জানে না। (সহীহ বুখারী হা. ৫০, সহীহ মুসলিম হা. ৮)

অন্যত্র তিনি বলেন : হে আদম সন্তান! যদি তোমরা বুদ্ধিমান হও তাহলে নিজেদেরকে মৃতদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য কর। ঐ সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ তোমাদের যে প্রতিশ্র“তি দেওয়া হয়েছে তা অবশ্যই আসবে। (সিলসিলা যঈফাহ হা. ৪৯৭৭, যঈফ)

(إِلَّا مَنِ ارْتَضٰي مِنْ رَّسُوْلٍ)

অর্থাৎ গায়েবের খবর আল্লাহ তা‘আলা মনোনীত রাসূল ছাড়া অন্য কাউকে জানান না। রাসূলদেরকে যতটুকু জানান তারা কেবল ততটুকুই জানতে পারেন, এর বেশি না। তবে যখন গায়েবের খবর তাদের কাছে প্রদান করেন তখন সামনে পেছনে অনেক ফেরেশতা প্রহরী নিযুক্ত থাকে যাতে কোন জিন শয়তান তা না জানতে পারে।

لِّيَعْلَمَ এর সর্বনাম কার দিকে ফিরে গেছে তা নিয়ে মুফাসসিরগণের মাঝে মতামত রয়েছে : কেউ বলেছেন, রাসূলের দিকে। অর্থাৎ যাতে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জেনে যান যে, পূর্বের নাবীগণও আল্লাহ তা‘আলার পয়গাম তাঁর মত পৌঁছে দিয়েছেন। অথবা ফেরেশতা, অর্থাৎ যাতে ফেরেশতারা জেনে নেন যে, তারা রাসূলদের নিকট আল্লাহ তা‘আলার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। কেউ বেলেছেন : এর সর্বনাম আল্লাহ তা‘আলার দিকে গেছে। অর্থ হল : আল্লাহ তা‘আলা ফেরেশতাদের মাধ্যমে তাঁর নাবীদের হেফাযত করেন, যাতে তারা নবুওয়াতের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন। এছাড়া নাবীদের প্রতি নাযিলকৃত

ওয়াহীও হেফাযত করেন যাতে তিনি জেনে নেন যে, নাবীরা তাঁর পয়গাম মানুষের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দিয়েছেন।

(وَأَحَاطَ بِمَا لَدَيْهِمْ)

অর্থাৎ ফেরেশতা বা নাবীদের নিকট যা আছে (তথা ওয়াহীর যে জ্ঞান দান করেছেন) সব আল্লাহ তা‘আলার জ্ঞানায়ত্ত। তিনি সব কিছু হিসাব করে রাখেন।

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :

১. গায়েবের খবর একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা জানেন। কোন নৈকট্যশীল ফেরেশতা বা নাবী রাসূলগণও জানেন না, পীর-গাউছ-কুতুব তো দূরের কথা। তবে আল্লাহ তা‘আলা নাবী-রাসূলদের যতটুকু জানান তাঁরা কেবল ততটুকুই জানতে পারে।

২. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর জ্ঞান দ্বারা সব কিছু বেষ্টন করে আছেন, কোন কিছুই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়।