Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Al-Muzzammil — Ayah 15

وَٱصۡبِرۡ عَلَىٰ مَا يَقُولُونَ وَٱهۡجُرۡهُمۡ هَجۡرٗا جَمِيلٗا ١٠ وَذَرۡنِي وَٱلۡمُكَذِّبِينَ أُوْلِي ٱلنَّعۡمَةِ وَمَهِّلۡهُمۡ قَلِيلًا ١١ إِنَّ لَدَيۡنَآ أَنكَالٗا وَجَحِيمٗا ١٢ وَطَعَامٗا ذَا غُصَّةٖ وَعَذَابًا أَلِيمٗا ١٣ يَوۡمَ تَرۡجُفُ ٱلۡأَرۡضُ وَٱلۡجِبَالُ وَكَانَتِ ٱلۡجِبَالُ كَثِيبٗا مَّهِيلًا ١٤ إِنَّآ أَرۡسَلۡنَآ إِلَيۡكُمۡ رَسُولٗا شَٰهِدًا عَلَيۡكُمۡ كَمَآ أَرۡسَلۡنَآ إِلَىٰ فِرۡعَوۡنَ رَسُولٗا ١٥ فَعَصَىٰ فِرۡعَوۡنُ ٱلرَّسُولَ فَأَخَذۡنَٰهُ أَخۡذٗا وَبِيلٗا ١٦ فَكَيۡفَ تَتَّقُونَ إِن كَفَرۡتُمۡ يَوۡمٗا يَجۡعَلُ ٱلۡوِلۡدَٰنَ شِيبًا ١٧ ٱلسَّمَآءُ مُنفَطِرُۢ بِهِۦۚ كَانَ وَعۡدُهُۥ مَفۡعُولًا ١٨

১০-১৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর :

আল্লাহ তা‘আলা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে রিসালাত গ্রহণের প্রস্তুতি, আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতে মগ্ন হওয়া ইত্যাদি নির্দেশের পর অত্র আয়াতগুলোতে কাফির-মুশরিকদের মিথ্যা অপবাদ, অকথ্য গালিগালাজ এবং ঠাট্টা-বিদ্রƒপে ধৈর্য ধারণ করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তাদেরকে সৌজন্যতার সাথে পরিহার করার উপদেশ দিচ্ছেন। কারণ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের স্বভাব হল তারা সত্য গ্রহণ করবে না, বরং সত্যাগ্রহীদের অপবাদ দেবে, গালিগালাজ করবে এবং তাদের নিয়ে ঠাট্টা-ব্যঙ্গ করবে। এটা নতুন নয়, পূর্বেও ফিরআ‘উন সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল, ফলে তাকে পাকড়াও করেছিলাম। তাই এসব সত্যপ্রত্যাখ্যানকারী ও মিথ্যুকদেরও পাকড়াও করব এবং তাদের জন্য আখিরাতে ন্যাক্কারজনক শাস্তি প্রস্তুত করা আছে।

(وَذَرْنِيْ وَالْمُكَذِّبِيْنَ)

অর্থাৎ যাদেরকে অনেক ধন-জন দিয়ে প্রভাব-প্রতিপত্তির অধিকারী বানিয়েছি তাদের মধ্যে যারা মিথ্যুক ও আখিরাতে অবিশ্বাসী তাদের ব্যাপারটা আমার কাছে ছেড়ে দাও। অথবা তাদের ব্যাপারে আমাকে ছেড়ে দাও, আমি তাদেরকে কিছু দিন অবকাশ দেব, তারপর তাদের জন্য রয়েছে আয়াতে উল্লিখিত শাস্তিসমূহ। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(نُمَتِّعُھُمْ قَلِیْلًا ثُمَّ نَضْطَرُّھُمْ اِلٰی عَذَابٍ غَلِیْظٍ)

“আমি অল্প সময়ের জন্য তাদেরকে সুখ-সম্ভোগ দেব, পুনরায় তাদেরকে বাধ্য করব কঠিন শাস্তি ভোগ করতে।” (সূরা লুক্বমান ৩১ : ২৪)

تَرْجُفُ অর্থ تزلزل বা প্রকম্পন।

(كَثِيْبًا مَّهِيْلًا) مَّهِيْلًا

বলা হয় বালির স্তুপকে, আর كَثِيْب বলা হয় বহমান (ভূর ভূরে) বালি, যা পায়ের নিচে থেকে সরে যায়। অর্থাৎ কিয়ামতের দিন পাহাড়সমূহ বহমান বালুকারাশিতে পরিণত হবে।

(شَاهِدًا عَلَيْكُمْ) অর্থাৎ شاهدا بأعمالكم

বা আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের নিকট রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রেরণ করেছেন যিনি তোমাদের আমলসমূহ প্রত্যক্ষ করবেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা ফির‘আউনের নিকট মূসা (রাঃ)-কে প্রেরণ করেছিলেন। কিন্তু ফির‘আউন মূসা (রাঃ)-এর অবাধ্য হলো, ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে সাগরে ডুবিয়ে মারলেন। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরী করলে রেহাই পাওয়ার কোন সুযোগ নেই যেমন রেহাই পায়নি ফির‘আউন ও তার দলবল।

شِيْبَ হল اشيب এর বহুবচন। কিয়ামতের দিন কিয়ামতের ভয়াবহতা দেখে শিশুরা বৃদ্ধ হয়ে যাবে। অথবা কিয়ামতের মাঠের জটিল অবস্থার একটি চিত্র তুলে ধরতে এ উদাহরণ পেশ করা হয়েছে। অতএব বুদ্ধিমান তারাই যারা সেদিনের দূরবস্থা থেকে বাঁচার জন্য যথাসম্ভব পাথেয় অর্জন করে।

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :

১. কাফির-মুশরিকদের জন্য আল্লাহ তা‘আলাই যথেষ্ট। তাদের কর্মের পরিণাম প্রস্তুত আছে।

২. কিয়ামতের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানলাম।

৩. নাবী-রাসূলদের প্রেরণ করার অন্যতম একটি উদ্দেশ্য হল উম্মতের আমল প্রত্যক্ষ করা। অবশ্য এটা প্রত্যেক রাসূলের জীবদ্দশার সাথে সম্পৃক্ত, মারা যাওয়ার পর না।