Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Al-Muddaththir — Ayah 36

وَمَا جَعَلۡنَآ أَصۡحَٰبَ ٱلنَّارِ إِلَّا مَلَٰٓئِكَةٗۖ وَمَا جَعَلۡنَا عِدَّتَهُمۡ إِلَّا فِتۡنَةٗ لِّلَّذِينَ كَفَرُواْ لِيَسۡتَيۡقِنَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ وَيَزۡدَادَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِيمَٰنٗا وَلَا يَرۡتَابَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَ وَلِيَقُولَ ٱلَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٞ وَٱلۡكَٰفِرُونَ مَاذَآ أَرَادَ ٱللَّهُ بِهَٰذَا مَثَلٗاۚ كَذَٰلِكَ يُضِلُّ ٱللَّهُ مَن يَشَآءُ وَيَهۡدِي مَن يَشَآءُۚ وَمَا يَعۡلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَۚ وَمَا هِيَ إِلَّا ذِكۡرَىٰ لِلۡبَشَرِ ٣١ كـَلَّا وَٱلۡقَمَرِ ٣٢ وَٱلَّيۡلِ إِذۡ أَدۡبَرَ ٣٣ وَٱلصُّبۡحِ إِذَآ أَسۡفَرَ ٣٤ إِنَّهَا لَإِحۡدَى ٱلۡكُبَرِ ٣٥ نَذِيرٗا لِّلۡبَشَرِ ٣٦ لِمَن شَآءَ مِنكُمۡ أَن يَتَقَدَّمَ أَوۡ يَتَأَخَّرَ ٣٧

৩১-৩৭ নম্বর আয়াতের তাফসীর :

(وَّمَا جَعَلْنَا عِدَّتَهُمْ إِلَّا فِتْنَةً)

পূর্বের আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে- জাহান্নামের প্রহরী মাত্র ঊনিশজন ফেরেশতা। এ আয়াতে বলা হচ্ছে ঊনিশজন ফেরেশতা জাহান্নামের প্রহরী বানানোর কারণ হল : এর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা পরীক্ষা করবেন। ফলে যারা কাফির তাদের কুফরী আরো বৃদ্ধি পাবে আর যারা মু’মিন তাদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পাবে। যেমন মিরাজ একটি নিদর্শন যা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে যারা কাফির তাদের জন্য এ মি‘রাজ বিশ্বাস করা অসম্ভব হয়ে গেল, ফলে কুফরীর দিকে তারা আরো বেশি ধাবিত হল। আর মু’মিনদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পেল।

(الَّذِيْنَ فِيْ قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ)

এ অংশ দ্বারা মুনাফিকদের বুঝোনো হয়েছে। এরূপ উদাহরণ বর্ণনা করার হিকমত সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলছেন : এ সব নিদর্শন দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন আবার যাকে ই্চ্ছা পথভ্রষ্ট করেন।

(وَمَا يَعْلَمُ جُنُوْدَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَ)

অর্থাৎ কাফিররা ঊনিশজন ফেরেশতার কথা শুনে মনে করতে পারে আল্লাহ তা‘আলার আর ফেরেশতা নেই। মূলত আল্লাহ তা‘আলার যে কত বাহিনী আছে তা তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না। মূসা (আঃ)-এর অবাধ্য জাতিকে ব্যাঙ, উকুন, রক্ত ইত্যাদি দ্বারা তিনি শাস্তি প্রদান করেছেন। এগুলো আল্লাহ তা‘আলার বাহিনী। হাদীসে এসেছে : সাত আকাশের ওপর বাইতুল মা‘মুর নামে একটি ঘর বয়েছে যাতে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা ইবাদতের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে। কিয়ামতের পূর্বে তাদের দ্বিতীয় বার পালা আসবে না। (সহীহ বুখারী হা. ৩২০৭, সহীহ মুসলিম হা. ১৬২)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : দুনিয়ার আকাশে সিজদা অথবা দণ্ডায়মান ফেরেশতা দ্বারা কানায় কানায় পরিপূর্ণ, এমনকি পা রাখার কোন জায়গা নেই। এ ব্যাপারে ফেরেশতাগণ বলেন

:

(وَمَا مِنَّآ إِلَّا لَه۫ مَقَامٌ مَّعْلُوْمٌ ‏ وَّإِنَّا لَنَحْنُ الصَّآفُّوْنَ وَإِنَّا لَنَحْنُ الْمُسَبِّحُوْنَ) ‏

“(ফেরেশতারা বলে) আমাদের প্রত্যেকের জন্যই রয়েছে এক নির্দিষ্ট স্থান। আর আমরা তো সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান। এবং আমরা তাসবীহ পাঠে নিয়োজিত আছি।” (সূরা সাফফাত ৩৭ : ১৬৪)

তারপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তিনটি বড় বড় নিদর্শন নিয়ে কসম করে বলছেন : জাহান্নাম তাঁর অন্যতম একটি বড় নিদর্শন, যা কাফির জালিমদের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।

(إِنَّهَا لَإِحْدَي الْكُبَرِ)

এ আয়াত পূর্বের আয়াতগুলোর শপথের জবাব। كبر শব্দটি كبري এর বহুবচন। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার বিশাল ও ভয়াবহ জিনিসের মধ্যে জাহান্নাম একটি। এটি জালিমদের জন্য তৈরি করে রাখা হয়েছে। সুতরাং যে চায় সৎ পথ গ্রহণ করুক, আর যে চায় নিজেকে ধ্বংস করুক। যেমন আল্লাহ তা‘আলা ধমক দিয়ে বলেছেন : “বল : ‎ ‘সত্য তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে এসেছে; সুতরাং যার ইচ্ছা ঈমান আনুক ও যার ইচ্ছা কুফরী করুক।’ আমি জালিমদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি অগ্নি, যার বেষ্টনী তাদেরকে পরিবেষ্টন করে থাকবে। তারা পানীয় চাইলে তাদেরকে দেওয়া হবে গলিত ধাতুর ন্যায় পানীয়, যা তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে; এটা নিকৃষ্ট পানীয়! আর জাহান্নাম কতই না নিকৃষ্ট আশ্রয়!” (সূরা কাহফ ১৮ : ২৯)

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :

১. আল্লাহ তা‘আলা বিভিন্ন নিদর্শন দ্বারা মানুষকে পরীক্ষা করেন।

২. আল্লাহ তা‘আলার বাহিনী অসংখ্য, তিনিই সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন।

৩. হিদায়াতের মালিক একমাত্র আল্লাহ, তাই আমাদের উচিত তাঁর কাছেই হিদায়াত চাওয়া।