You are reading tafsir of 10 ayahs: 76:13 to 76:22.
১৩-২২ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
এ আয়াতেগুলোতে জান্নাতীদের জন্য যে অশেষ নেয়ামত প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে তার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। জান্নাতীরা জান্নাতে অতিশয় শান্ত, সুখময়, নিরুদ্বেগ, কোমল, সৌহার্দময় ও নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশে থাকবে।
(لَا يَرَوْنَ فِيْهَا شَمْسًا وَّلَا زَمْهَرِيْرًا) زمهرير-
অর্থ কঠিন শীত। অর্থাৎ জান্নাতে কোন গরম এবং ঠান্ডা অনুভব করবে না।
(وَدَانِيَةً عَلَيْهِمْ ظِلَالُهَا)
অর্থাৎ গাছের ছায়া তাদের প্রতি ঝুঁকে থাকবে, এবং গাছের ফলগুলো তাদের আয়ত্তাধিন করে দেওয়া হবে, মন চাইলে হাত বাড়ালেই ওর ফল নিতে পারবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন :
إِنَّ فِي الجَنَّةِ لَشَجَرَةً يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلِّهَا مِائَةَ سَنَةٍ
জান্নাতে এমন একটি গাছ রয়েছে যার ছায়াতলে একজন আরোহী একশত বছর অতিক্রম করবে। (সহীহ বুখারী হা. ৩২৫২, সহীহ মুসলিম হা. ২৮২৬)
قَوَارِيْرَا অর্থ : কাঁচের পাত্র। এ কাঁচের পাত্রগুলোও রৌপ্যের হবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন :
لاَ تَلْبَسُوا الحَرِيرَ وَلاَ الدِّيبَاجَ، وَلاَ تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالفِضَّةِ، وَلاَ تَأْكُلُوا فِي صِحَافِهَا، فَإِنَّهَا لَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَلَنَا فِي الآخِرَةِ
তোমরা রেশমি কাপড় পরিধান করো না, স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্রে পান করিও না এবং সে সব পাত্রে খাবে না। কেননা এগুলো তাদের (কাফির) জন্য দুনিয়াতে আর তোমাদের জন্য আখিরাতে। (সহীহ বুখারী হা. ৫৪২৬, সহীহ মুসলিম হা. ২০২৭)
(قَدَّرُوْهَا تَقْدِيْرًا)
অর্থাৎ যে পানপাত্রে পানীয় পরিবেশন করা হবে তা তাদের তৃষ্ণা পরিমাণ। ফলে পান করার পর অতিরিক্ত থাকবে না।
زَنْجَبِيْلًا শুকনো আদা (শুঠ)-কে বলে। এটা গরম জাতীয় জিনিস। এর মিশ্রণে সুগন্ধময় এক ধরনের ঝাঁঝ সৃষ্টি হয়।
(وِلْدَانٌ مُّخَلَّدُوْنَ)
অর্থাৎ জান্নাতী যুবক যারা এক অবস্থায় চিরস্থায়ী থাকবে। তাদের বয়স বৃদ্ধি হবে না। তাদের কিশোর সুলভ বয়স ও সৌন্দর্য অব্যাহত থাকবে। তাদের সৌন্দর্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সজীবতা ও সতেজতা দেখে মনে হবে যেন তারা মণি-মুক্তা।
ثَمَّ শব্দ দ্বারা স্থানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। অর্থাৎ জান্নাতের যেদিকেই তাকাবে সেদিকেই দেখতে পাবে অসংখ্য নিয়ামত ও আল্লাহর সীমাহীন রাজত্ব।
سُنْدُسٍ হল পাতলা বা চিকন রেশমী আর إِسْتَبْرَقٌ হল মোটা রেশমী পোশাক। আলী (রাঃ) বলেন : যখন জান্নাতীরা জান্নাতের দরজায় পৌঁছবে তখন তারা দুটি নহর দেখতে পাবে, যার খেয়াল যেন তাদের মনেই জেগে ছিল। একটির পানি তারা পান করবে। ফলে মনের কালিমা সবই দূরীভূত হয়ে যাবে। অন্যটিতে তারা গোসল করবে। ফলে তাদের চেহারা উজ্জ্বল হবে। বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ উভয় সৌন্দর্যই তারা পুরো মাত্রায় লাভ করবে। (সূরা আ‘রাফ, আয়াত ৪৩) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
أَعْدَدْتُ لِعِبَادِي الصَّالِحِينَ مَا لاَ عَيْنٌ رَأَتْ، وَلاَ أُذُنٌ سَمِعَتْ، وَلاَ خَطَرَ عَلَي قَلْبِ بَشَرٍ
আমি আমার সৎ বান্দাদের জন্য এমন কিছু তৈরি করে রেখেছি যা কোন চক্ষু দেখেনি, কোন কান তা শ্রবণ করেনি এবং কোন মানুষের অন্তরে তা কল্পনাতেও আসেনি। (সহীহ বুখারী হা. ৩২৪৪, সহীহ মুসলিম হা. ২৮২৪)
আমরা যেন এ নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত পেতে পারি সে জন্য উপযুক্ত আমল করতে হবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. জান্নাতীদের জন্য প্রস্তুত রাখা অশেষ নেয়ামত রাজির কথা জানতে পারলাম।