Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Al-Insan — Ayah 23

إِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا عَلَيۡكَ ٱلۡقُرۡءَانَ تَنزِيلٗا ٢٣ فَٱصۡبِرۡ لِحُكۡمِ رَبِّكَ وَلَا تُطِعۡ مِنۡهُمۡ ءَاثِمًا أَوۡ كَفُورٗا ٢٤ وَٱذۡكُرِ ٱسۡمَ رَبِّكَ بُكۡرَةٗ وَأَصِيلٗا ٢٥ وَمِنَ ٱلَّيۡلِ فَٱسۡجُدۡ لَهُۥ وَسَبِّحۡهُ لَيۡلٗا طَوِيلًا ٢٦ إِنَّ هَٰٓؤُلَآءِ يُحِبُّونَ ٱلۡعَاجِلَةَ وَيَذَرُونَ وَرَآءَهُمۡ يَوۡمٗا ثَقِيلٗا ٢٧ نَّحۡنُ خَلَقۡنَٰهُمۡ وَشَدَدۡنَآ أَسۡرَهُمۡۖ وَإِذَا شِئۡنَا بَدَّلۡنَآ أَمۡثَٰلَهُمۡ تَبۡدِيلًا ٢٨ إِنَّ هَٰذِهِۦ تَذۡكِرَةٞۖ فَمَن شَآءَ ٱتَّخَذَ إِلَىٰ رَبِّهِۦ سَبِيلٗا ٢٩ وَمَا تَشَآءُونَ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمٗا ٣٠ يُدۡخِلُ مَن يَشَآءُ فِي رَحۡمَتِهِۦۚ وَٱلظَّٰلِمِينَ أَعَدَّ لَهُمۡ عَذَابًا أَلِيمَۢا ٣١

২৩-৩১ নম্বর আয়াতের তাফসীর :

আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি প্রদত্ত অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলছেন, আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছি, অতএব আমার ফায়সালার ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ কর। আর যদি কাফির ও মুনাফিকরা তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি তা প্রচারে ও পালনে বাধা প্রদান করতে চায় তাহলে তাদের অনুসরণ করো না বরং দাওয়াতী কাজ চালিয়ে যাও।

আল্লামা ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন : الاثم হল যে কর্মের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্যতা করা হয়। আর كَفُوْرً হল যে অন্তর অবিশ্বাসী। ইতিহাস ও সীরাত গ্রন্থাবলী সাক্ষ্য দেয় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তারা ক্ষমতা, ধন সম্পদ ও রূপ যৌবনের লালসা দেখিয়ে প্রলুব্ধ করতে চিয়েছিল। তাকে উচ্চতর নেতা বানানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। আবার বিকল্প হিসাবে তাকে তাদের মধ্যে সবেেচয়ে ধনী বানিয়ে দেবে বলেও প্রলোভন দেখিয়েছিল। দেশের সুন্দরী নারীর সাথে বিবাহ দিতে মত পোষণ করেছিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কোন প্রস্তাবই মেনে নেননি। বরং তিনি দীনের পথে মানুষকে আহ্বান করেই গেছেন। যত বাধার সম্মুখীন হয়েছেন তত দাওয়াতী মিশন বৃদ্ধি পেয়েছে।

(بُكْرَةً وَّأَصِيْلًا)

সকাল-সন্ধ্যা বলতে সারাদিন, এতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয ও নফলসহ সকল প্রকার সালাত শামিল। এ অংশ এ কথাও প্রমাণ করছে- শুধু মানুষকে আল্লাহ তা‘আলার পথে আহ্বান করলেই যথেষ্ট হবে না বরং সেই সাথে নিজে সদামল করতে হবে, আর আল্লাহ তা‘আলাকে সর্বদা স্মরণে রাখতে হবে।

(وَّمِنَ اللَّيْلِ فَاسْجُدْ)

‘রাতে তাঁর জন্য সিজদায় নত হও’ অনুরূপ মহান আল্লাহ অন্যত্র বলেন :

(وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِه۪ نَافِلَةً لَّكَ عَسٰٓي أَنْ يَّبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُوْدًا) ‏

“এবং রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুত কায়েম কর, এটা তোমার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে।” ( সূরা ইসরা ১৭ : ৭৯)

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন :

(يٰٓأَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ ‏ قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيْلًا لا ‏ نِّصْفَه۫ أَوِ انْقُصْ مِنْهُ قَلِيْلًا لا ‏ أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْاٰنَ تَرْتِيْلًا )

“হে বস্ত্রাবৃত (ব্যক্তি)! রাত্রি জাগরণ (নামায আদায়) কর, কিছু অংশ। তার অর্ধেক কিংবা তদপেক্ষা কিছু কম। অথবা তদপেক্ষা বেশি। আর কুরআন পাঠ কর ধীরে ধীরে, (থেমে থেমে সুন্দরভাবে)” (সূরা মুজ্জাম্মিল ৭৩ : ১-৪)

(إِنَّ هٰٓؤُلَا۬ءِ)

‘নিশ্চয়ই তারা’ বলতে মক্কার কাফিরদেরকে বুঝোনো হয়েছে। তবে এতে সকল কাফির শামিল। অর্থাৎ যাদের গন্তব্য অত্যন্ত কাছাকাছি এবং যাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অত্যন্ত তুচ্ছ ও নগণ্য তারা এ দুনিয়াকে নিয়েই ডুবে থাকে এবং পশ্চাতের বিপদসংকুল দিনকে উপেক্ষা করে। সুতরাং কোন ব্যাপারেই তাদের অনুকরণ ও অনুসরণের অবকাশ নেই। তাদের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে মু’মিনদের জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের কোন মিল নেই।

(يَوْمًا ثَقِيْلًا) কঠিন দিন বলতে কিয়ামত দিবসকে বুঝোনো হয়েছে।

(وَإِذَا شِئْنَا بَدَّلْنَآ...)

‘আমি যখন ইচ্ছা করব তখন তাদের পরিবর্তে...’ ইবনু জারীর (রহঃ) বলেন : আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করলে তাদের ছাড়া অন্য জাতিকে নিয়ে আসতে পারেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(إِنْ يَّشَأْ يُذْهِبْكُمْ أَيُّهَا النَّاسُ وَيَأْتِ بِاٰخَرِيْنَ ط وَكَانَ اللّٰهُ عَلٰي ذٰلِكَ قَدِيْرًا )‏

“হে মানুষ! তিনি (আল্লাহ) ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে অপসারিত করে অপরকে আনতে পারেন; আল্লাহ এটা করতে সম্পূর্ণ সক্ষম।” (সূরা নিসা : ৪ : ১৩৩)

(وَمَا تَشَا۬ءُوْنَ إِلَّآ أَنْ يَّشَا۬ءَ اللّٰهُ)

‘তোমরা ইচ্ছা কর না যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন।’ অর্থাৎ মানুষের ইচ্ছা আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। মানুষ ইচ্ছা করলেই কিছু করতে পারে না যদি আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা না করেন। সুতরাং যাকে ইচ্ছা তিনি তাঁর রহমত তথা ইসলামে প্রবেশ করার সুযোগ দান করেন আর যাকে ইচ্ছা বঞ্চিত করেন। ‘আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা’ সম্পর্কে পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।

সুতরাং প্রতিটি মু’মিন-মুসলিমের উচিত নিজে সদামল করবে এবং সাথে সাথে সদামলের দিকে মানুষকে আহ্বান করবে। এতে যত বাধা বা তা বর্জন করতে যত প্রলোভন আসুক তা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের ভালবাসার সামনে তুচ্ছ মনে করবে।

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :

১. পাপিষ্ঠ কাফিরদের অনুসরণ করা হারাম।

২. মু’মিনদের উচিত সালাত, যিকির ও দু‘আর মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া।

৩. আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করেন তার প্রমাণ পেলাম।

৪. কুরআন মু’মিনদের জন্য উপদেশবাণী।

৫. দুনিয়ার কোন মোহ মু’মিনকে আল্লাহ তা‘আলার পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে না। বরং দুনিয়ার সকল কিছুর ওপর সে আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলকে প্রাধান্য দেয়।