Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Al-Mursalat — Ayah 30

ٱنطَلِقُوٓاْ إِلَىٰ مَا كُنتُم بِهِۦ تُكَذِّبُونَ ٢٩ ٱنطَلِقُوٓاْ إِلَىٰ ظِلّٖ ذِي ثَلَٰثِ شُعَبٖ ٣٠ لَّا ظَلِيلٖ وَلَا يُغۡنِي مِنَ ٱللَّهَبِ ٣١ إِنَّهَا تَرۡمِي بِشَرَرٖ كَٱلۡقَصۡرِ ٣٢ كَأَنَّهُۥ جِمَٰلَتٞ صُفۡرٞ ٣٣ وَيۡلٞ يَوۡمَئِذٖ لِّلۡمُكَذِّبِينَ ٣٤ هَٰذَا يَوۡمُ لَا يَنطِقُونَ ٣٥ وَلَا يُؤۡذَنُ لَهُمۡ فَيَعۡتَذِرُونَ ٣٦ وَيۡلٞ يَوۡمَئِذٖ لِّلۡمُكَذِّبِينَ ٣٧ هَٰذَا يَوۡمُ ٱلۡفَصۡلِۖ جَمَعۡنَٰكُمۡ وَٱلۡأَوَّلِينَ ٣٨ فَإِن كَانَ لَكُمۡ كَيۡدٞ فَكِيدُونِ ٣٩ وَيۡلٞ يَوۡمَئِذٖ لِّلۡمُكَذِّبِينَ ٤٠

২৯-৪০ নম্বর আয়াতের তাফসীর :

অত্র আয়াতগুলোতে তাদেরকে সম্বোধন করা হচ্ছে যারা আখিরাতের প্রতি অবিশ্বাসী-কাফির, জান্নাত-জাহান্নাম, হাশর-নাশর ইত্যাদি বিশ্বাস করে না। কিয়ামতের দিন দীর্ঘ অবরুদ্ধ ও আটক জীবন শেষে মুক্ত হয়ে রওনা দেবে কিন্তু কোথায় যাবে? মনে হয় সে মুক্তিলাভ ও রওনা হওয়ার চেয়ে অবরুদ্ধ ও আটক থাকাই ভাল ছিল। তাদেরকে বলা হবে :

( اِنْطَلِقُوْآ إِلٰي ظِلٍّ ذِيْ ثَلٰثِ شُعَبٍ)

“চল সে ছায়ার দিকে যার তিনটি শাখা রয়েছে।”

(ثَلٰثِ شُعَبٍ) অর্থাৎ এমন ছায়া যা তিন শাখাবিশিষ্ট অর্থাৎ জাহান্নাম থেকে যে ধোঁয়া বের হবে তা উঁচু হয়ে তিন দিকে ছড়িয়ে পড়বে। যেমন দেওয়াল অথবা গাছের ছায়া হয়। এ ধোঁয়ার ছায়ায় জাহান্নামীদের শাস্তি বৃদ্ধি ছাড়া কোন স্বস্তি লাভ হবে না। এ ছায়া ঠাণ্ডাও হবে না এবং জাহান্নামের উষ্ণতা থেকে রক্ষাও করবে না।

(إِنَّهَا تَرْمِيْ بِشَرَرٍ كَالْقَصْرِ)

ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন : জাহান্নামের যে অগ্নিস্ফুলিঙ্গগুলো উড়ে যায় সেগুলো এক একটা দুর্গের মত এবং বড় বড় গাছের লম্বা চওড়া কান্ডের মত হবে। আব্দুর রহমান বিন আবিস (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমরা তিন গজ বা এর চেয়ে ছোট কাঠের খন্ড জোগাড় করে শীতকালের জন্য উঠিয়ে রাখতাম। এটাকেই আমরা বলতাম القصر। (সহীহ বুখারী হা. ৪৯৩২)

(كَأَنَّه۫ جِمَالَتٌ صُفْرٌ)

অর্থাৎ দর্শকদের কাছে ওগুলোকে মনে হবে যেন হলুদ রঙের উট বা নৌকার রজ্জু অথবা তামার টুকরো। (ইবনু কাসীর)

(ذَا يَوْمُ لَا يَنْطِقُوْنَ)

অর্থাৎ কিয়ামতের ভয়াবহতা দেখে কাফিররা কথা বলতে পারবে না। অথবা কথা বলতে গিয়ে মিথ্যা বলবে ফলে তাদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হবে। অথবা এমন পরিস্থিতি হবে যে, তারা কথা বলতেই জানবে না।

(وَلَا يُؤْذَنُ لَهُمْ فَيَعْتَذِرُوْنَ)

অর্থাৎ সেদিন তাদের কোন ওজর কবূল করা হবে না, যদিও তারা ওজর পেশ করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(فَيَوْمَئِذٍ لَّا يَنْفَعُ الَّذِيْنَ ظَلَمُوْا مَعْذِرَتُهُمْ وَلَا هُمْ يُسْتَعْتَبُوْنَ)‏

“সেদিন জালিমদের ওজর আপত্তি তাদের কোন উপকারে আসবে না এবং তাওবা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সুযোগও তাদেরকে দেওয়া হবে না।” (সূরা রূম ৩০ : ৫৭)

(هٰذَا يَوْمُ الْفَصْلِ)

‘এটা চূড়ান্ত ফায়সালার দিন,’ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা বান্দাদেরকে এ কথা বলবেন।

(فَإِنْ كَانَ لَكُمْ كَيْدٌ فَكِيْدُوْنِ)

‘তোমাদের কোন অপকৌশল থাকলে তা প্রয়োগ কর আমার বিরুদ্ধে।’ এটা আল্লাহ তা‘আলার ধমক, যদি তোমরা আমার পাাকড়াও থেকে বাঁচতে পার এবং আমার রাজত্ব থেকে বের হয়ে যেতে পার তাহলে চলে যাও?

অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَنْفُذُوْا مِنْ أَقْطَارِ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ فَانْفُذُوْا لَا تَنْفُذُوْنَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ)

“হে জিন ও মানুষ জাতি! আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সীমা হতে যদি তোমরা বের হতে পার, তবে বের হয়ে যাও; কিন্তু তোমরা তা পারবে না, শক্তি ব্যতিরেকে (আর সে শক্তি তোমাদের নেই)।” (সুুরা আর রহমান ৫৫ : ৩৩)

কিয়ামতের এমন কঠিন বিভীষিকাময় অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য আমাদের দুনিয়াতে থাকতেই পাথেয় গ্রহণ করা উচিত। নয়তো সেদিন কোন কিছুই উপকারে আসবে না।

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :

১. জাহান্নামীদের শাস্তির বিবরণ জানতে পারলাম।

২. কিয়ামতের মাঠে মিথ্যুকদের যে অবস্থা হবে তা জানতে পারলাম।

৩. হাশরের ময়দানে আল্লাহ তা‘আলা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল মানুষকে একত্রিত করবেন।