Tafsir Fathul Majid

Multiple Ayahs

Tags

Download Links

Tafsir Fathul Majid tafsir for Surah Al-Mursalat — Ayah 43

إِنَّ ٱلۡمُتَّقِينَ فِي ظِلَٰلٖ وَعُيُونٖ ٤١ وَفَوَٰكِهَ مِمَّا يَشۡتَهُونَ ٤٢ كُلُواْ وَٱشۡرَبُواْ هَنِيٓـَٔۢا بِمَا كُنتُمۡ تَعۡمَلُونَ ٤٣ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجۡزِي ٱلۡمُحۡسِنِينَ ٤٤ وَيۡلٞ يَوۡمَئِذٖ لِّلۡمُكَذِّبِينَ ٤٥ كُلُواْ وَتَمَتَّعُواْ قَلِيلًا إِنَّكُم مُّجۡرِمُونَ ٤٦ وَيۡلٞ يَوۡمَئِذٖ لِّلۡمُكَذِّبِينَ ٤٧ وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ٱرۡكَعُواْ لَا يَرۡكَعُونَ ٤٨ وَيۡلٞ يَوۡمَئِذٖ لِّلۡمُكَذِّبِينَ ٤٩ فَبِأَيِّ حَدِيثِۭ بَعۡدَهُۥ يُؤۡمِنُونَ ٥٠

৪১-৫০ নম্বর আয়াতের তাফসীর :

এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলার প্রিয় বান্দা মুত্তাকীদের জন্য আখিরাতে প্রস্তুত রাখা নেয়ামত সম্ভারের সুসংবাদ প্রদান করছেন। তারপর তাঁর শত্র“দের ধমক দিয়ে ক্ষণিকের জন্য দুনিয়ার ভোগ করার অবকাশ দিয়ে বলছেন- এরপর তোমরা কোন্ কিতাবের প্রতি ঈমান আনবে?

(فِيْ ظِلٰلٍ وَّعُيُوْنٍ)

অর্থাৎ জান্নাতীরা বৃক্ষাদি ও অট্টালিকার সুশীতল ছায়ার ও ঝরণাবিশিষ্ট জান্নাতে থাকবে। জাহান্নামীরা যে ধোঁয়ার ছায়ায় থাকবে তার বিপরীত। এভাবে যারা আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতের প্রতি যতœবান ও তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়ার্দ্র তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা প্রতিদান দিয়ে থাকেন।

(كُلُوْا وَتَمَتَّعُوْا قَلِيْلًا إِنَّكُمْ مُّجْرِمُوْنَ)

যারা আখিরাতকে অস্বীকার করে তাদেরকে ধমকসহকারে আল্লাহ তা‘আলা বলছেন : তোমরা স্বল্পদিনের দুনিয়ায় খেয়ে-দেয়ে আনন্দ ভোগ করে নাও, কিন্তু আখিরাতে তোমাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী জাহান্নাম। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(نُمَتِّعُهُمْ قَلِيْلًا ثُمَّ نَضْطَرُّهُمْ إِلٰي عَذَابٍ غَلِيْظٍ) ‏

“আমি অল্প সময়ের জন্য তাদেরকে সুখ-সম্ভোগ দেব, পুনরায় তাদেরকে বাধ্য করব কঠিন শাস্তি ভোগ করতে।” (সূরা লুকমান ৩১ : ২৪)

(وَإِذَا قِيْلَ لَهُمُ ارْكَعُوْا)

অর্থাৎ দুনিয়াতে যখন এসকল কাফিরদেরকে জামাতে সালাত আদায় করার কথা বলা হত তখন তারা কর্ণপাত করত না বরং অহংকারবশত তা ত্যাগ করত। এজন্য আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

( وَيْلٌ يَّوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِيْنَ) ‘সেদিন ধ্বংস মিথ্যা আরোপকারীদের জন্য।”

অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(فَبِاَیِّ حَدِیْثٍۭ بَعْدَھ۫ یُؤْمِنُوْنَ)

অর্থাৎ যদি এ কুরআনের প্রতি ঈমান না আনে তাহলে আর কোন্ কিতাব আছে যার প্রতি ঈমান আনবে? এখানে হাদীস দ্বারা কুরআনকে বুঝানো হয়েছে।

যেমন আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন :

(تِلْکَ اٰیٰتُ اللہِ نَتْلُوْھَا عَلَیْکَ بِالْحَقِّﺆ فَبِاَیِّ حَدِیْثٍۭ بَعْدَ اللہِ وَاٰیٰتِھ۪ یُؤْمِنُوْنَ) ‏

“এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার নিকট তেলাওয়াত করছি যথাযথভাবে; সুতরাং আল্লাহ এবং তাঁর আয়াতের পরে তারা আর কোন্ বাণীতে বিশ্বাস করে।” (সূরা জাসিয়া ৪৫ : ৬)

(فَبِاَیِّ حَدِیْثٍۭ بَعْدَھ۫ یُؤْمِنُوْنَ)

‘সুতরাং তারা এর পরিবর্তে আর কোন্ কথায় বিশ্বাস করবে?’ অর্থাৎ তারা বিশ্বাস করবে না।

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :

১. পুনরুত্থান, আমলের প্রতিদান ইত্যাদির স্বীকৃতি পেলাম।

২. মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত রাখা নেয়ামতের কথা জানতে পারলাম।

৩. আখিরাত অস্বীকারকারীদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম।

৪. যদি কোন ব্যক্তি মাসজিদে প্রবেশ করে এমতাবস্থায় মাসজিদে সালাত আদায় হচ্ছে তাহলে সে ব্যক্তিও সালাতে শরীক হবে যদিও সে উক্ত সালাত পূর্বে আদায় করেছে।

৫. কুরআনকে আল্লাহ তা‘আলা অত্র সূরার শেষ আয়াতে হাদীস বলে উল্লেখ করেছেন।